ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে আসা সেই সজল হতে চান পৌর মেয়র


» উত্তরা নিউজ I সারাবাংলা রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ - ১১:৩৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

ইউনুস খান, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: ১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদের অপরাধে ফাঁসির রায় হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা নেত্রকোনার অসিত সরকার সজলের ! পরবর্তীতের ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে আসেন তিনি।
আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট অসিত সরকার সজল আসন্ন পৌর নির্বাচনে নেত্রকোনার পৌরসভার মেয়র প্রার্থী। এ লক্ষে তিনি দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে যাচ্ছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনার অনলাইন সংবাদকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এরকম আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। নেত্রকোনা অনলাইন রিপোর্টার্স ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় দুর্নীতিমুক্ত, দৃষ্টিনন্দন রুচিশীল, আধুনিক বাসযোগ্য পৌরসভা বিনির্মাণ ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন অসিত সরকার সজল। সাংবাদিক অভিজিৎ শান্তর পরিচালনায় সভায় নেত্রকোনা অনলাইন রিপোর্টার্স ক্লাবের কার্যকরী সভাপতি আলী আমজাদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রেজা, আমাদের নেত্রকোনা পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান স্বপন, সাংবাদিক অরবিন্দ ধর, খলিলুর রহমান শেখ ইকবাল, ভজন দাস, মনোরঞ্জন সরকার, আওমীলীগ নেতা করুণা সিন্দু রায় সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অসিত সরকার সজল তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এসেছি। এ জন্য বহুবার জেলজুলুম ও নানারকম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছি। এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করায় অমানবিক নিপীড়ন সইতে হয়েছে। জেলে যেতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শুধু জেল জুলমই নয়, ১৯৭৭ সালে সামরিক আদালত ফাঁসিরও নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এসে দীর্ঘ ১৩ বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় দীর্ঘ কারাবাসের পর মুক্তি পেয়ে নতুন ভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলাম। আজও আছি। আসন্ন নেত্রকোনা পৌরসভা নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো। যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি নেত্রকোনা পৌরসভাকে আধুনিক বাসযোগ্য একটি পৌরসভা হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। আর দল যদি আমাকে মনোনয়ন না দেয় তবে আমি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করব না। এ জন্য তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার পর এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সে সময় জেলে যেতে হয়েছিল বীরমুক্তিযোদ্ধা নেত্রকোনার অসিত সরকার সজলকে। শুধু জেলই নয়, ১৯৭৭ সালে গণভবনে ১নং সামরিক আদালত স্থাপন করে অসিত সরকার সজলসহ ৩ জনকে প্রথমে মৃত্যুদ- ও পরে বয়স বিবেচনায় তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করা হয়। সে সময়ে জেলে তাদের দেখতে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একপর্যায়ে শেখ হাসিনার আপ্রাণ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ১৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান অসিত সরকার সজল।