প্রাথমিক শিক্ষক সংকটে শরীয়তপুর

তোয়া ইসলাম(সুমনা)

» উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর, ডেস্ক রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২০ - ০৪:০৮:৩০ অপরাহ্ন

প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ একটি দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো গঠনের প্রধান হাতিয়ার। সুশিক্ষা একটি জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সমাজে আলোকিত মানুষ গঠনে একজন শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য। আর আলোকিত মানুষ তৈরি করার মাধ্যমেই কেবল গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দূর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন সম্ভব। শিক্ষকরাই ভবিষ্যৎ নাগরিক তৈরি করেন।

একজন শিক্ষক তৈরি করতে পারেন একজন ভাল বিচারক, প্রশাসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি, ডাক্তার, প্রকৌশলী,রাজনীতিবিদ। এ কারণে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা আবশ্যক। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রচুর শিক্ষক সংকট,, একটা উদাহরণ দেয়া যাক—শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার, চন্দ্রপুর বগাদী এলাকার পশ্চিম বগাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,,, স্কুলটি স্থাপিত হয় ১৯৭৪ সালে পুনঃনির্মান করা ২০০০ সালে এত প্রাচীন স্কুলটি আজ শিক্ষক সংকট থাকার কারণে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে যায় না। বর্তমানে শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুলটি বন্ধ হবার উপক্রম ।

এই এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা খুব নিম্ন মানের হয়ে পড়েছে। অনেক দূরের স্কুলে যেয়ে পড়াশুনা করতে হয় বলে অনেকেই ঠিক মত পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারছে না। প্রাথমিক হলো শিক্ষার প্রথম ধাপ আর এই এলাকার মানুষ প্রথম ধাপের শিক্ষা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে যার ফলে অকালেই ঝড়ে পরছে শিক্ষার্থী।অন্যদিকে শরীয়তপুর জেলার অনেক স্কুল গুলোতেই দুই একজন শিক্ষক দ্বারা স্কুল চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।অধিক ছাত্রছাত্রী কে স্বল্প শিক্ষক দ্বারা পরিপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝড়ে পরা রোধ করতে শিক্ষক সংকট দূর করা অতি জরুরী ।

অন্যদিকে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার হাজি ইসমাইল মোল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন তিন জনের মাঝে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। দুই জন শিক্ষকের পক্ষে এক সাথে সবগুলা ক্লাস নেয়া অসম্ভব। শরীয়তপুর জেলার প্রত্যেকটি স্কুলেই দুই তিন জন শিক্ষক দ্বারা স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। ছোট ছোট শিশুদের সামাল দিতে এই সব শিক্ষকেরা প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন। আর আমরা ২০১৮ সালে ২৪ লক্ষ প্রার্থীর মাঝে থেকে লিখিত পরীক্ষায় ৫৫২৯৫ উত্তীর্ণ হয়েছি যা মোট প্রার্থীর ২.৩%।

১৮০০০ হাজার কে চূড়ান্ত ভাবে সিলেক্ট করা হয় ভাইবাতে। আমরা ৩৭০০০ চূড়ান্ত ভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়নি। ভাইবাতে ১/২ নাম্বারের ব্যবধানে হয়ত কারো জব হয়েছে কারো হয়নি। আবার অন্যদিকে একটি নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করে শিক্ষক নিয়োগ করতে দুই তিন বছর লেগে যায় যার ফলে শিক্ষক সংকট দূর হয় না কারণ প্রতিদিন শিক্ষক অবসরে যায় কিন্তু প্রতিদিন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় না। আর আমাদের এই ৩৭০০০ হাজার ভাইবোনের বয়স শেষ, আমরা বেকার। মৌখিকে অংশ গ্রহণ করা সকলকে প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দিলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতি হবে,দেশের শিক্ষক সংকট দূর হবে, বেকারত্ব হ্রাস পাবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষকরা সে মেরুদন্ডের স্রষ্টা।

পিতামাতা কেবল সন্তানের জন্ম দিতে পারে কিন্তু সে সন্তান কে প্রকৃত মানুষ করা, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে দায়িত্ববোধ ও সচেতন করে সামাজিক জীব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিহার্য। আর সেই শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষক সংকট থাকলে সঠিক শিক্ষা কখনোই সম্ভব না। শিক্ষক সংকট দূর করাই হবে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সর্বোত্তম পন্থা।

সহ-সভাপতি

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কমিটি।