প্রধানমন্ত্রী বরাবর নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের খোলা চিঠি

সুদমুক্ত ঋণ (প্রণোদনা) প্রাপ্তির প্রত্যাশা

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০২ মে ২০২০ - ০৬:১৬:২৫ অপরাহ্ন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের বাড়ি ভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য ব্যয় নির্বাহসহ পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে পারছে না জানিয়ে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট খোলা চিঠি’ গণমাধ্যমে প্রেরণ করেছে নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।

উত্তরাস্থ বিসিআই কলেজ এর অধ্যক্ষ মোঃ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়-

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আস্সালামু আলাইকুম। শুরুতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী তথা মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা রইলো। আমরা যখন অত্যন্ত আনন্দ এবং ভাব-গাম্ভীর্যপূর্ণভাবে জাতির জনকের জন্ম শতবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রস্তুতি শেষ করেছি, ঠিক সেই মুহূর্তে জাতির জীবনে নেমে আসে করোনা নামের এক ভয়ঙ্কর দূর্যোগ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত মহামারী করোনা আঘাত হানে আমাদের দেশেও। আপনার দক্ষ নেতৃত্বে সাজানো সব কিছু এলোমেলো হওয়ার আগেই আপনারই সময়োপযোগী পদক্ষেপে এ ঘাতক ব্যাধি চরম আকার ধারণ করতে পারেনি। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশ করোনায় কাবু হলেও আল্লাহর রহমত আর আপনার মেধা, প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার কারণে আমরা এখন পর্যন্ত অন্যান্য দেশের চেয়ে ভালো আছি। আপনি একদিকে যেমন করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন অন্যদিকে দেশকে তথা দেশের মানুষকে দূর্ভিক্ষের হাত থেকে বাঁচাতে বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। আমরা জানি, শিক্ষাই জাতির মেরুদÐ এবং আপনার সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। তাই এই সংকটকালেও আপনি ডিজিটাল প্লাটফর্মে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং আমরা তা বাস্তবায়ন করছি।

বাংলাদেশের সরকারি ও এমপিওভূক্ত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জাতি গঠনে কাজ করছে কয়েক হাজার নন এমপিও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারী । যাদের একমাত্র আয়ের উৎস শিক্ষার্থীদের থেকে প্রাপ্ত টিউশন ফি। এর মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ভাড়া বাড়িতে অবস্থিত। যেহেতু বর্তমানে আয়ের পথ সীমিত তাই অভিভাবকগণ এ মুহূর্তে ছেলেমেয়েদের শিক্ষাব্যয় বহন করতে পারছেন না। কাজেই, শিক্ষার্থীদের থেকে প্রাপ্ত টিউশন ফি আদায় না হওযার কারণে আমরা প্রতিষ্ঠানসমূহের বাড়ি ভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করতে পারছি না।

হে শিক্ষানুরাগী,

আপনিই আমাদের অভিভাবক। আপনার মানবতাবোধের জন্য সারা বিশ্বে আপনি মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে পরিচিত। আমরা জানি, ছাত্রজীবন থেকেইে আপনার পছন্দের পেশা শিক্ষকতা এবং আপনি বরাবরের মতোই শিক্ষকদেরকে সম্মান করেন। প্রায় দুই মাস যাবৎ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং আমরা এখনও নিশ্চিত নই কবে এ দূর্যোগ শেষ হবে। বর্তমানে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি। দেশের জন্য আমরা সামনে থেকে যুদ্ধ না করলেও যোদ্ধা তৈরি করি। আমাদেরও জীবন আছে, আছে পরিবার। এটা রমজান মাস এবং সামনে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। আমরা না পারছি কারও কাছে হাত পাততে, না পারছি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে।

তাই আমরা দান নয়, আপনার সহযোগিতা চাই। যতদিন প্রতিষ্ঠান খোলার অবস্থা তৈরি না হবে, ততদিন পর্যন্ত যাতে আমরা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহ করতে পারি, এ ব্যাপারে সুদমুক্ত ঋণ (প্রণোদনা) চাই।
পরিশেষে, আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।