প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ - ০৬:৪৫:০৬ অপরাহ্ন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

আপনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সম্মৃদ্ধ বাঙালী জাতি যখন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সাহসিকতা ও ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে চলেছে, যখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাঙালী জাতিকে বিশ্বের দরবারে উচ্চতর মর্যাদায় আসীন করেছেন তখন চীনের উহান থেকে উড়ে আসা ‘করোনা’ নামক এক বৈশ্বিক সংক্রমক এক মহাসংকট হিসেবে আমাদের সামনে এসে উপস্হিত হয়েছে।

এ সংকট মোকাবেলায় আপনি এবং আপনার সরকার জনগনকে সাথে নিয়ে যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞা ইতোমধ্যে প্রদর্শন করেছেন তা এক কথায় নজীরবিহীন। এ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংক্রমন বিস্তার রোধ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ব্যবস্হাপনার মান উন্নীতকরনের দৃঢ ও তড়িৎ পদক্ষেপ আপনার বিজ্ঞ নেতৃত্বেরই প্রকাশ। জনসাধারণের সাহস ও মনোবল বৃদ্ধি ও তৈরীতে আপনি যে অনন্য দৃষ্টান্ত রেখেছেন তাও আমাদের উদ্দীপ্ত করেছে। পাশাপাশি এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেবার বিষয়ে ইতোমধ্যে যে ঘোষণা আপনি দিয়েছেন তা আবার ও প্রমান করে আপনি ‘মাদার অফ হিউমিনিটি’।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার এই সাহসী ও দৃঢ প্রত্যয়ী এগিয়ে চলার পথে এ দেশের কোটি কোটি নারী উদ্যোক্তাগণ অতীতেও যেমন আপনার সাথে ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে- দেশের নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন এন্ট্রাপ্রিনিওয়ার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন  (ওয়েন্ড) এই অঙ্গীকার করছে।

‘ওয়েন্ড’ হচ্ছে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারী  নারী উদ্যোক্তাদের একটি সংগঠন। আমরা নারী উদ্যোক্তারা আপনার সরকারের সহযোগিতায় ক্ষুদ্র পর্যায় থেকে ব্যাবসা করে আসছি। দেশের ৭৩ লক্ষ কর্মহীন নারীদের আত্মকর্মসংস্হান, দেশীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যে অবদান রেখে জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের চেষ্টা করে আসছে।

প্রিয় মমতাময়ী মা,

বর্তমান চলমান বাস্তবতায় আমাদের যে আসন্ন সংকট সে বিষয়ে আপনি নিশচয়ই অবহিত আছেন। তথাপি কয়েকটি বাস্তবতা নারী উদ্যোক্তাগন আপনার হৃদয়ের সংবেদনশীলতাকে আরও গভীরভাবে  স্পর্শ করবে সেই প্রত্যাশায় উপস্হাপন করছে।

আমরা একদিকে যেমন কোটি টাকার অর্থ বিনিয়োগ করতে পারি না অন্যদিকে ব্যাবসায়িক উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতি হলে তা কাটিয়ে উঠতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পাই না।  ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আমাদের যে ব্যাবসায়িক ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা স্বত্বেও হয়তো বা চলতি পুঁজি থেকে মার্চ মাসের খরচ চালান সম্ভব হবে, কিন্তু ব্যবসার ভরা মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত  করোনার নেতিবাচক প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ায় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পারিবারিক দৈনন্দিন খরচ ও ব্যাবসার কী অবস্থা হবে আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। আশংকা করা হচ্ছে এই ক্রান্তিকালে সরকারের সহযোগিতা না পেলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা ঝরে যাবে।

আজ যারা চাকরি করেন তাদের পাশে আছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। মাস শেষে একটা বেতন চলে আসে।যারা কোম্পানিগুলো চালান তারা নিজেরাই নিজেদের ত্রাণকর্তা। যারা গরীব, দিন মজুর তাদের জন্য আছে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও এলাকার বিত্তশালীদের দান খয়রাত ইত্যাদি৷ কিন্তু আমাদের মত নতুন, ক্ষুদ্র, ও মাঝারী উদ্যোক্তা আর কিছু ছোট ব্যবসায়ী যারা কোন তালিকায়  পরিনা তাঁরা সরকারের সাহায্য ছাড়া বিকল্প আছে বলে আমরা মনে করছি না।
মানুষ বাঁচে আশায়, আমরাও চাই বাঁচতে। চাই এই দুর্যোগ থেকে বেরিয়ে আসতে।

আমরা মনে করছি, এই অনাকাঙ্খিত অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সর্বোচ্চ মহল থেকে আর্থিক সাহায্যসহ সকল ধরণের সহযোগিতা নিশ্চিত হলে আমরা আগামী ৬ মাসের মধ্যে গুছিয়ে নিতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।

আমরা করোনাভাইরাসে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আপত কালীন ১-২% সুদে সহজ শর্তে (সহজ শর্তে) ঋণ চাই। এটা যদি এপ্রিল  মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় তাহলে নারী উদ্যোক্তারা পায়ের নীচে মাটি খুঁজে পাবে। এই ক্রান্তিলগ্নে অবশ্যই নারী উদ্যোক্তাদের একটি ফান্ড প্রয়োজন। নারী উদ্যোক্তারা যেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানা চালু রাখতে পারেন।

তবে আমাদের এখন বাঁচতে হবে, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হবে। যে দেশের জিডিপিতে ২৫% অবদান আমাদের নারীদের, সরকার নিশ্চয়ই আমাদের আবেদন রাখবেন, যেহেতু সারাদেশে মোট জনসংখ্যার কোটির উপর লোকদের নিয়ে আমরা কাজ করি, এবং তাদের আয়-রোজগার আমাদের ব্যবসার উপর নির্ভরশীল।আমরা সবাই মিলে এক হই ও সরকারকে নিয়ে আবার দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করি। আমরা বিশ্বাস করি আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মহামন্দা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।

অতএব,আপনার নিকট আকুল আবেদন আমাদের এই ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে দেশের চলমান অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে আপনার সহানুভূতি নারী উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে।

বিনীত
আপনার একান্ত বিশ্বস্ত
দেশের নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে

ড. নাদিয়া বিনতে আমিন
সভাপতি
উইমেন এন্ট্রাপ্রিনিওর নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (ওয়েন্ড)
জীবন বীমা ভবন (পন্চম তলা)
৮০ মতিঝিল সি/এ, ঢাকা – ১০০০