প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব রেফ্রিজারেশন দিবস’


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০১৯ - ০৪:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন

আজ ২৬ জুন। প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব রেফ্রিজারেশন দিবস’। উদ্দেশ্য আধুনিক জীবনযাত্রায় রেফ্রিজারেশন, এয়ার কন্ডিশনিং এবং হিট পাম্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।

জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিলে সারা বিশ্বের ব্যবসায়িক সংগঠন এবং উদ্যেক্তারা ২৬ জুন বিশ্ব রেফ্রিজারেশন দিবস পালনের বিষয়ে একমত হয়। ইনস্টিটিউট অব রেফ্রিজারেশনের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন গিল হলেন এ ধারণার প্রবক্তা। এক দশক ধরে তিনি রেফ্রিজারেশন দিবস পালনের উদ্যেগ নিয়ে কাজ করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর ২৬ জুন বিশ্ব রেফ্রিজারেশন দিবস পালনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনইপি) ওজোনঅ্যাকশন বিভাগের মাধ্যমে দিবসটি পালনে সমর্থন দিয়েছে।

বাংলাদেশে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে মাল্টিন্যাশনাল ব্র্যান্ড ওয়ালটন। এ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে। বুধবার বিকেলে রাজধানীতে ওয়ালটন করপোরেট অফিসে অনুষ্ঠিতব্য ওই সেমিনারে বক্তারা আধুনিক বিশ্বের জন্য রেফ্রিজারেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবেন। এতে পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ রেফ্রিজারেটর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম বলেন, আধুনিক বিশ্বের জন্য রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। খাদ্যদ্রব্য এবং ওষুধসহ বিভিন্ন পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষরণ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য এ প্রযুক্তি যুগান্তকারী আবিষ্কার।

তিনি জানান, প্রতি বছর বিশ্বে দুই বিলিয়নেরও বেশি রেফ্রিজারেটর এবং ফ্রিজার তৈরি হচ্ছে। এর ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। যা বিশ্বের খাদ্য ঘাটতি পূরণে এবং খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তির উন্নয়নে গ্রাহক পর্যায়ে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটরে ১৫ বছর আগের চেয়ে বর্তমানে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের ডেপুটি সিইও তৌফিক-উল কাদের বলেন, ওয়ালটন কারখানায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স রক্ষা করা হয়। উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিতে ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে গত বছর ওয়ালটন অর্জন করে জাতীয় পরিবেশ পদক।

তিনি বলেন, গ্লোবাল পার্টনার হিসেবে আমরা বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ডগুলোর সাথে কাজ করছি। আমরা এখন শতভাগ ইনভার্টার টেকনোলজি ব্যবহার করছি।

উল্লেখ্য, ফ্রিজ ও কম্প্রেসরে ক্ষতিকারক এইচএফসি গ্যাস ফেজ আউট প্রকল্প বাস্তবায়নে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি ও ওয়ালটন যৌথভাবে কাজ করছে। এক বছর মেয়াদী ওই প্রকল্পের আওতায় ওয়ালটন কারখানা এবং সার্ভিস সেন্টারে ফ্রিজ এবং কম্প্রেসর থেকে পুরোপুরি এইচএফসি ফেজ আউট করে গ্রিন হাইড্রোকার্বন টেকনোলজির ব্যবহার নিয়ে কাজ চলছে। উক্ত প্রকল্পে এইচএফসি-১৩৪এ রেফ্রিজারেন্টের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব এইচসি-৬০০এ (আইসোবিউটেন) রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।

ওয়ালটনের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলে বাৎসরিক প্রায় ২৩০ মেট্রিক টন এইচএফসি গ্যাসের নিঃসরণ রোধ হবে। এর মাধ্যমে বাৎসরিক প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টন কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করা সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে ওয়ালটন তথা বাংলাদেশ।