পূজার ফটোশুটে


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০১৯ - ০৩:৩২:৫৮ অপরাহ্ন

বাঙালির অন্যতম সার্বজনীন উৎসব দূর্গাপূজা, শরৎকালে শারদীয় দূর্গাপূজা নামে পরিচিত। আশ্বিন ও চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দূর্গাপূজা পালন করা হয়। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, মহিষাসুর ও শিব একই সাথে পূজিত হয়ে থাকেন। মহালয়া থেকে লক্ষ্মী পূর্ণিমা পর্যন্ত পক্ষকাল দূর্গোৎসবের সামগ্রিক পূজা আয়োজনের পরিধি হিসাবে পালিত হয়ে থাকে আসছে দূর্গাপূজা ।

একটা সময় পূজো মানে ছিল নতুন জামার গন্ধ। পঞ্জিকার পাতা উল্টে বারবার পূজোর তারিখ দেখা। পূজো মানে স্কুলের ছুটির জন্য অপেক্ষা। আবার কৈশোরের পূজা মানে বদলে যাওয়া। কিন্তু এখন আগমনীও বদলে যাচ্ছে। আবার পুজোর গায়েও বিবর্তনের ছাপ।

স্কন্দপুরান বর্ণনা অনুসারে রুরু দৈত্যর পুত্র দূর্গকে বধ করেছিলেন বলেই পার্বতীর নাম হয়েছে দেবীদূর্গা। তবে বাঙ্গালীর দূর্গোৎসবে দিবী কিন্তু স্কন্দপুরানের বর্ণনামতে দূর্গাসুর বধকারী রূপে তিনি পূজিত নন। এখানে তিনি পূজিত হন মহিষাসুর মর্দিনী রূপে। মার্কণ্ডেয় পুড়ান মতানুসারে এই দূর্গোৎসবের আয়োজন করেন রাজা সুরথ। আর রাজা সুরথ এই দূর্গাপূজা করেছিলেন বসন্তকালে। ভারতীয় উপমহাদেশে দূর্গাপূজা জনপ্রিয় সময়টা হল শরতকাল।কিন্তু বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের দূর্গাপূজা সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ট দিন ষষ্টি থেকে দশম দিন অর্থাৎ বিজয়া দশমী দিন পর্যন্ত পাঁচদিন অনুষ্ঠিত হয়।

দূর্গাপূজা মূলত পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা হয় এবং কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় হয় তার সমাপ্তি। বাংলাদেশে দূর্গোৎসবের বহুল প্রচলিত রূপ অর্থাৎ মহিষাসুর মর্দিনীর পূজার উল্লেখ পাওয়া যায় মার্কণ্ডেয় পুড়ানে।

ইংরেজদের নজর এড়াতে দুর্গোৎসবকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে লাগল বিপ্লবীরা। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ছদ্মাবরনে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সংঘবদ্ধ করার একমাত্র উপায় হল এই শারদীয় দূর্গাপুজা। কালের পরিক্রমায় ব্রিটিশ শাসনের অবসান হল। বিভাজিত হয়ে পড়ল অবিভক্ত বাংলা। পাকিস্তান অপশাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে বিভাজিত বাংলার পূর্বাঞ্চল রূপান্তরিত হল বাংলাদেশ নামের একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রে। আর বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের অসাম্প্রদায়িক প্রবণতা শারদীয় দূর্গোৎসবকে আজ পরিণত করল প্রকৃত অর্থেই বাঙ্গালীর সার্বজনীন উৎসবে। বছর ঘুরে এই সার্বজনীন দূর্গাপূজা এলেই বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মেতে উঠেন এক আনন্দ উৎসবের আমেজে। এই প্রাণবন্ত আমেজ সকলের মানুষের মাঝে শান্তির বার্তা বয়ে আনুক।

উত্তরা নিউজ/এস,এম,জেড