পুলিশকে পোষাক খুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ভায়রা ও শ্যালিকা


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৯ - ০৭:৪৬:১২ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামের উলিপুরে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবলের পোষাক খুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ভায়রা সোলায়মান মিয়া ও শ্যালিকা আফরিন লাকি।

আজ বুধবার সকালে উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উলিপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ সদস্য খাজা মাঈনুদ্দিন। পরীক্ষার রুমে খাতা দেওয়া শুরু হলে তিনি সকলকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ সময়  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ভায়রা সোলায়মান মিয়া ও শ্যালিকা আফরিন লাকি বের হচ্ছিলেন না। তাদের কাছে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে দেওয়া পরিচয়পত্র আছে কিনা? জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গাালিগালাজ করেন এবং তারা ওই পুলিশ সদস্যর পোষাক খুলে নেওয়ার হুমকি দেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য খাজা মাঈনুদ্দিন বলেন, পরীক্ষার রুমে খাতা দেওয়া শুরু হলে সকলকে বাহিরে যেতে বলি। কিন্তু একজন নারী ও একজন পুরুষ কিছুতেই বের হচ্ছিলেন না। তাদের কাছে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে দেওয়া পরিচয়পত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন গাালিগালাজ করেন এবং পোষাক খুলে নেওয়ার হুমকি দেন।

উলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সোলায়মান মিয়া পোষাক খুলে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই পুলিশ সদস্য তার শ্যালিকা লাকিকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যেতে বললে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন তার ভায়রা ও লাকি শ্যালিকা বলেও জানান তিনি।

থানার উপ-পরিদর্শক মশিউর রহমান জানান, তুমুল হট্টগোল ও পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হওয়ার উপক্রম হলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সহকারী পুলিশ সুপার ও উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বলেন, এই বিষয়টি উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে অবগত করেন।