পুরুষাঙ্গ কর্তনকারী দুই মহিলার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন (ভিডিও)

‘লিঙ্গ কর্তন হাসির নয়, পুরুষেরও কষ্ট হয়’

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৭:৫৩:০০ অপরাহ্ন

সম্প্রতি ঝিনাইদহ ও মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীদের পুরষাঙ্গ কর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে পুরুষ অধিকার আদায়ে সোচ্চার সংগঠন ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’।

৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এ সময় বক্তারা দেশে পুরুষদের অধিকায় সুরক্ষায় যথাযথ আইন পাশের দাবী জানান।

গত মাসের ২৯ জানুয়ারি (বুধবার) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জাগুসা গ্রামে অন্য পুরুষের সাথে স্ত্রীর অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় ঘুমের ঘরে স্বামী সোহাগ হোসেনের পুরষাঙ্গ (লিঙ্গ) ব্লেড দিয়ে কর্তন করে স্ত্রী শারমিন আক্তার শীলা। এমন ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুরুষের গোপনাঙ্গ কর্তনের অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার মহিষের চর গ্রামে। মাদারীপুরের ওই ঘটনায় জানা যায়, দুই বছর আগে ফরিদপুরের মো. রায়হান কুলসুম আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পরে রায়হান জানতে পারে স্ত্রী কুলসুমের সাথে অন্য ছেলের সম্পর্ক আছে। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে মনমালিন্য হয় রায়হানের। পরে, ঘটনার একদিন আগে কুলসুম আক্তার মাদারীপুরে নিজ গ্রামে স্বামী রায়হানকে ডেকে নিয়ে যায় এবং স্বামী-স্ত্রী একত্রে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ভোররাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামী রায়হানের গোপনাঙ্গ (লিঙ্গ) কেটে ফেলে স্ত্রী কুলসুম আক্তার!

লোমহর্ষক উপরোক্ত দুই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই জাতীয় প্রেস ক্লাবে একত্রিত হয় সংগঠনটির একাধিক কর্মী ও নেতৃবৃন্দরা। এ বিষয়ে এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের বক্তারা অভিযুক্ত শারমিন আক্তার শীলা ও কুলসুম আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান। সংগঠনের সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক খাঁন বলেন, ‘পুরুষাঙ্গ কর্তনকারী শারমিন আক্তার শীলা ও কুলসুম আক্তারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পুরুষের প্রতি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের নিকট কঠোর আইন পাশের দাবি জানাচ্ছি।’

মানববন্ধনটিতে এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকহারে নারী কর্তৃক পুরুষাঙ্গ কর্তনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু, পুরুষের প্রতি এই ধরনের যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিবাদ সমাজে দেখা যায়না। বরং অনেকেই এই সমস্ত বিষয়কে হাসি-ঠাট্টা করে! অনেকেই ভেবে থাকেন এটা কোন সমস্যাই নয়!! অথচ লিঙ্গ কর্তন, এসিড নিক্ষেপ হচ্ছে ধর্ষণের মতোই একটি মারাত্মক যৌন সহিংসতা বা তারচেয়েও মারাত্মক। কিন্তু, এ ব্যাপারে আমাদের সমাজে তেমন কোনো প্রতিবাদ নেই। পাশাপাশি এ বিষয়ে আইনের কোন কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় ফলে আমাদের সমাজে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে পুরুষের প্রতি এ ধরনের যৌন সহিংসতা। তাই এখনই এ বিষয়ে কঠিন আইন এবং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত না করা গেলে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।’