পাপুলদের অর্থপাচার : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথির বিষয়ে শুনানি আজ


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২১ - ১১:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার স্ত্রী-কন্যার মানিলন্ডারিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক আরেফিন আহসান মিঞা স্বাক্ষরিত সমস্ত নথির বিষয়ে হাইকোর্টের শুনানি আজ। রোববার (২৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভর্চুয়াল বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানি হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে পাপুল ও তার স্ত্রী-কন্যার মানিলন্ডারিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক আরেফিন আহসান মিঞা স্বাক্ষরিত সমস্ত নথি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য এ দিন ঠিক করেন আদালত।

নথিতে আরেক তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমানের স্বাক্ষর নেই কেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে গত ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের একই বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দেন।

আদালতে ওইদিন দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

ওই দিন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সেলিনা ইসলাম ও তার মেয়ে ওয়াফা ইসলামের অর্থপাচার বিষয়ে দায়মুক্তি দেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক আরেফিন আহসান মিঞা স্বাক্ষরিত সমস্ত নথি তলব করেছেন হাইকোর্ট। অর্থপাচারের বিষয়টি খুঁটিয়ে দেখতে আদালত মূল নথি তলব করেছেন। এ বিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য ২৪ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আদালত।’

মামলার শুনানিকালে পাপুলের স্ত্রী-কন্যাকে দায়মুক্তি দেয়া নথিতে আরেক তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মশিউর রহমানের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালত। পরে আদালত এ সংক্রান্ত সব নথি তলবের আদেশ দেন।

গত ১১ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষতি আসনের এমপি সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হন সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুল। বর্তমানে তিনি কুয়েতের কারাগারেই আছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত উপায়ে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।