পাক হানাদারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেও দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছরেও পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি


» আশরাফুল ইসলাম | ডেস্ক এডিটর | | সর্বশেষ আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ - ০৪:৪১:২৬ অপরাহ্ন

বগুড়া প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি না পাওয়া শাজাহানপুরের আমরুল ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মোঃ মমতাজুর রহমান মন্ডল আজ বড় অসহায় । জানা যায় স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি মমতাজউদ্দিন মন্ডল ।

বর্তমানে তিনি শারিরীকভাবে অসুস্থ , এবং দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন । ফুলকোট ০৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ জাহিদুর রহমান উজ্জলের সহযোগিতায় তাকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে । কথা হয় তার সাথে , ২৯ জুলাই ১৯৪৬ সালে উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ফুলকোট গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন মমতাজ উদ্দিন মন্ডল , ডেমাজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারী তারপর ডেমাজানী হাইস্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন তিনি , ১৯৭০ সালে সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করে ডেমাজানী শহীদ মোখলেছুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন তিনি ।

প্রভাবশালী বংশ হওয়ার কারনে ততকালীন আমলে তার পিতা আলহাজ্ব মোঃ ইবরাহিম হোসেন মন্ডলের সাড়ে তিনশত বিঘা জমি ছিল তার নিজের নামেই ছিল ৭৫ বিঘা জমি । এ কারনে চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ১৯৮৮ সালে তিনি আমরুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন , এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ।

তার আমলে সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয় । তার ইউনিয়নে তিনি বর্ন্যার্তদের সাহায্যের জন্য নঙ্গরখানা তৈরি করেছিলেন , যেখান থেকে বর্ন্যত্যদের জন্য পরিবার প্রতি ৩০ সের করে চাল দেওয়া হচ্ছিল ।

খালের ব্রিজ , ডেমাজানী ব্রিজ , রামপুরের সাঁকো , বাঘমারার সাঁকো , এছাড়াও ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তাঘাট , কালভার্ট , তার আমলে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন হয়েছিল । তিনি ছিলেন পরোপকারী , মানুষের উপকার করেই ৭৫ বিঘা জমি শেষ করেছেন তিনি ।

এ জন্য আমরুল ইউনিয়নের আপামর জনসাধারণ তাকে আজও শ্রদ্ধাভরে সন্মান করে । রাখে আল্লাহ মারে কে , মারে আল্লাহ রাখে কে । আজকের বাদশা, আগামী দিনের ফকির । নিয়তির লিলা খেলা বোঝা বড় দায় , ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস , মমতাজ উদ্দিন মন্ডল আজ নিঃস্ব , নিঃস্বংগ অসহায় জীবন যাপন করছেন ।

প্রথম স্ত্রী পক্ষের জন্ম নেওয়া ০৬ ছেলে মেয়ে প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেওয়া ০২ ছেলে মেয়ে মোট ০৮ সন্তানের জনক চেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দিন মন্ডল , ছেলে মেয়েদের সব বিয়ে দিয়েছেন তিনি । ছেলেরা যে যার মতো ভিন্ন জীবন যাপন করছে , দেখার মতো তার আজ কেউ নেই ।

আমরুল ইউনিয়নের ফুলকোট গ্রামে ভাতিজি মোছাঃ হালিমা বেগমের বাড়িতেই তিনি বসবাস করেন । ১৯৭১ সালে ১১ নং সেক্টরের ততকালীন ট্রেনিং ইনচার্জ , সুবেদার আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে রৌমারি অপারেশন ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মমতাজুর রহমান মন্ডল ।

স্বাধীনতাযুদ্ধে ০৭ নং সাব – সেক্টরে ধুনট , শেরপুর , ও সদর এলাকায় গোসাইবাড়ী হাইস্কুল মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে কমান্ডার কাফিউল আলমের অধিনে মুক্তিযু্দ্ধে অংশ নেন মমতাজ উদ্দিন মন্ডল ।

ততকালীন যুদ্ধকালীন বগুড়া সদর সহ বগুড়া জেলা কমান্ডার (বিএলএফ) মোঃ নজিবুর রহমানের অধিনে থেকেও ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সহিত যুদ্ধ করেছেন তিনি । কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্কের উদাসীনতায় এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম অনতর্ভুক্ত হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মমতাজুর রহমান মন্ডল বলেন , ০৭ নং সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুর রহমান , আকরাম হোসেন , আমজাদ হোসেন , যুদ্ধসঙ্গী হলেও কেন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আমার নাম নেই এ প্রশ্নের উত্তর আজও পায়নি ।

আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধার নতুন তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত হওয়ার জন্য স্থানীয় এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদে অনেকবার দৌড়ঝাপ করার পরেও এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি তিনি , সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর আগে নুন্যতম স্বীকৃতি পেতে প্রধানমন্তী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ৷