পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল অস্ট্রেলিয়া

প্রথম চার ব্যাটসম্যানের ফিফটিতে সিরিজে প্রথমবারের মতো তিনশ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়ল অস্ট্রেলিয়া। হারিস সোহেলের ঝকঝকে এক সেঞ্চুরিতে লড়াই করল পাকিস্তান। তবুও হার এড়াতে পারল না তারা। দারুণ এক জয়ে দলটিকে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে ২০ রানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ৩২৭ রান তাড়ায় ৭ উইকেটে ৩০৭ রান করে পাকিস্তান।

সিরিজে পাঁচটি সেঞ্চুরি করলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। সবই গেল বিফলে। সিরিজে চতুর্থবারের মতো টস জিতে তারা ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়াকে। আগের ম্যাচগুলোর মতোই দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার উসমান খাওয়াজা ও অ্যারন ফিঞ্চ।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দুই ওপেনারের গড়া ১৩৪ রানের জুটি ভাঙে অধিনায়কের বিদায়ে। ৬৯ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ৫৩ রান করা ফিঞ্চকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন উসমান শিনওয়ারি।

গতিময় এই পেসার পরে বিদায় করেন খাওয়াজাকেও। দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেওয়া বাঁহাতি এই ওপেনার মাত্র ২ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে ফিরেন। ১১১ বলে খেলা তার ৯৮ রানের ইনিংস গড়া ১০ চারে। সবশেষ সাত ইনিংসে এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি আউট হলেন নব্বইয়ের ঘরে।

খাওয়াজার সঙ্গে ৮০ রানের জুটি গড়া শন মার্শ ছন্দে থাকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে গড়েন ৬০ রানের আরেকটি ভালো জুটি। সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগোনো মার্শকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন জুনাইদ খান।
ক্রিজে যাওয়ার পর থেকে বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া ম্যাক্সওয়েল ২৬ বলে তুলে নেন ফিফটি। খুনে ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ১০ চার ও তিন ছক্কায় ফিরেন ৭০ রান করে। তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে শেষ ৫ ওভারে ৫৩ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া।

পেসার শিনওয়ারি ৪ উইকেট নেন ৪৯ রানে। জুনাইদ ৭৩ রানে নেন তিনটি।

আগের ম্যাচে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা অবিদ আলি এবার পান উল্টো স্বাদ। ফিরে যান মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে। আরেক ওপেনার শান মাসুদ পান নিজের প্রথম ফিফটি। দ্বিতীয় উইকেটে হারিসের সঙ্গে গড়েন ১০৮ রানের জুটি।

তিন চারে ৫০ রান করা মাসুদকে বিদায় করেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে দেন ম্যাক্সওয়েল।

ক্রিজে যাওয়ার পর থেকে শট খেলতে থাকেন উমর আকমল। তার সঙ্গে দ্রুত জমে যায় হারিসের জুটি। ন্যাথান লায়নকে উড়ানোর চেষ্টায় আকমল ফিরে গেলে ভাঙে জুটিটি।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন হারিস। শেষ ম্যাচে পেলেন দ্বিতীয়টি। আগের সেরা অপরাজিত ১০১ ছাড়িয়ে এবার খেলেন ১৩০ রানের লড়াকু ইনিংস। বাজে শটে শেষ হয় বাঁহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের ১২৯ বলে ১১ চার ও তিন ছক্কায় গড়া ইনিংসটি।

হার এড়াতে শেষের দিকে যে বিস্ফোরক ব্যাটিং প্রয়োজন ছিল তা করতে পারেনি পাকিস্তান। শেষের দিকে ৩৪ বলে অপরাজিত ৫০ রানের ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধান কমান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইমাদ ওয়াসিম।
পাকিস্তানের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ছিল বাজে। অনেক বাড়তি রান পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আবার শেষের দিকে রানের গতিতে দম দেওয়ার কাজটাও করতে পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। তাই সিরিজে পঞ্চমবারের মতো হারতে হয়েছে তাদের।

টর্নেডো ইনিংস আর আঁটসাঁট বোলিংয়ের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ম্যাক্সওয়েল। অধিনায়ক ফিঞ্চ জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩২৭/৭ (খাওয়াজা ৯৮, ফিঞ্চ ৫৩, মার্শ ৬১, ম্যাক্সওয়েল ৭০, স্টয়নিস ৪, হ্যান্ডসকম ৮, কেয়ারি ০, বেহরেনডর্ফ ৬*, রিচার্ডসন ৫*; আব্বাস ০/৭১, জুনাইদ ৩/৭৩, ওয়াসিম ০/৫১, শিনওয়ারি ৪/৪৯, ইয়াসির ০/৬৩, হারিস ০/১৩)

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩০৭/৭ (মাসুদ ৫০, আবিদ ০, হারিস ১৩০, রিজওয়ান ১২, আকমল ৪৩, সাদ ৪, ওয়াসিম ৫০, ইয়াসির ১১, শিনওয়ারি ০*; বেহরেনডর্ফ ৩/৬৩, রিচার্ডসন ১/৬১, লায়ন ১/৫০, ম্যাক্সওয়েল ১/৪৫, জ্যাম্পা ১/৬৮, স্টয়নিস ০/২০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ২০ রানে জয়ী

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৫-০ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

ম্যান অব দা সিরিজ: অ্যারন ফিঞ্চ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: