Avatar এরশাদ হোসেন বিজয়
Reporter


পর্যাপ্ত পানি পানে শরীরের ১০ পরিবর্তন জেনে নিন






উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ শরীরে হাইড্রেটেড থাকা বা পর্যাপ্ত পানি পানি পান হলো একটি সর্বোত্তম স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। যখন আপনি পর্যাপ্ত পানি পান করবেন, আপনার শরীর ও মস্তিষ্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হবে। পর্যাপ্ত পানি পানে শরীরের ১০ পরিবর্তন জেনে নিন।

শরীরে শক্তি বাড়ে: আপনার শরীরের সর্বত্র যেসব কোষ আছে তাদের কাজ করার জন্য পানির প্রয়োজন পড়ে। কোষসমূহে পানি রয়েছে এবং তারা পানি দ্বারা পরিবেষ্টিত, ‘পানিশূন্যতায় কোষ ঝিল্লির ভেদ্যতা কমে যায়, যার ফলে কোষে হরমোন ও পুষ্টির প্রবাহ বিঘ্নিত হয় এবং কোষে ড্যামেজ সৃষ্টিকারী বর্জ্য বের হতে পারে না।’ এরকমটা ঘটলে শক্তি কমে যায় এবং ক্লান্তি অনুভূত হয়, নিউট্রিশন রিভিউ নামক জার্নালে প্রকাশিত হাইড্রেশন বিষয়ক গবেষণার একটি রিভিউ অনুসারে।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি: আপনার মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করার জন্য তরলের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে। মস্তিষ্কের সকল সিন্যাপ্স ও নিউরন যথাযথভাবে উদ্দীপ্ত হতে তরল প্রয়োজন। স্মৃতিশক্তির ক্ষয় এবং মানসিক পারফরম্যান্স হ্রাসের অন্যতম সর্বাধিক কমন প্রেডিক্টর হলো পানিশূন্যতা। কিছু জরিপ বলছে যে ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষ ক্রনিক পানিশূন্যতায় ভুগে, গ্রীষ্মকালে এ সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। গ্রীষ্মকাল ও শরৎকালে পানিশূন্যতার হার বেড়ে যায়, যখন তাপমাত্রা উচ্চে থাকে ও বেশি ঘাম নির্গত হয়।’

মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে: আপনি কি অ্যাটেনশন স্প্যান বা মনোযোগের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত? অথবা আপনার কি এ বিষয়টির ওপর একেবারেই নিয়ন্ত্রণ নেই? কিংবা আপনার আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও কোনোকিছুতে মনোযোগ বসছে না? তাহলে বেশি করে পানি পান করুন এবং কি ঘটে দেখুন। হালকা পানিশূন্যতাও মস্তিষ্কের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং মনোযোগের ক্ষমতাকে চূর্ণ করে। পর্যাপ্ত ঘুমানো, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং এক্সারসাইজের মাধ্যমে শরীর থেকে ঘাম ঝরানোর মতো পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, যেহেতু আমাদের শরীর প্রচুর পানি দিয়ে তৈরি, তাই এটা সহজেই বোধগম্য যে শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করতে, পরিষ্কার করতে ও এর সিস্টেমকে খাওয়াতে প্রতিনিয়ত পানি প্রয়োজন।

দ্রুত কাজ করার শক্তি: এক্সারসাইজ করার সময় কি ব্যথা অনুভব করেন? এমনকি এর আগের দিন এক্সারসাইজ না করে থাকলেও? ভারী কিছু উত্তোলন অথবা অতিরিক্ত মাইল হাঁটার সময় আপনার ব্যথা ও কাঠিন্যতার যে অভিজ্ঞতা হয়, তা পানিশূন্যতার কারণে হতে পারে, আপনার শক্তি ঘাটতির কারণে নয়। সাম্প্রতিক গবেষণা ধারণা দিচ্ছে যে, এমনকি ২ শতাংশ হাইড্রেশন কমে গেলেও শক্তি ও প্রেরণার মাত্রা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যায়, অন্যদিকে ক্লান্তি বেড়ে যায়। ‘যখন আমরা আমাদের শরীরের জন্য সঠিক পরিমাণে পানি গ্রহণ করি, আমাদের মাংসপেশি অধিক শিথিল হয়, যা শক্তি ও পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করে।’

স্লিম হবেন: আপনি কি মধ্যরাতে টিভি দোখার সময় ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম বের করে খান অথবা শিশুদের স্ন্যাকসে কামড় বসান? আপনার এসব অমনোযোগী খাওয়ার অভ্যাস আপনাকে মোটা করতে পারে। এর পরিবর্তে আপনার ক্ষুধা অনুভূত হলে মনে করুন যে সামান্য তৃষ্ণা লেগেছে। ‘অনেক ক্ষেত্রে লোকজন তৃষ্ণাকে ক্ষুধা ভেবে ভুল করে, তাই তারা স্ন্যাকসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু এসময় পানি খেলে আপনার পেটভরা অনুভূতি হবে এবং স্ন্যাকস বা জাঙ্ক ফুডস খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পাবে।’ ‘সঠিক হাইড্রেশন ক্ষুধা দমনকারী হিসেবে কাজ করে এবং ওজন হ্রাস বা ওজন ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে।’

হজমশক্তি বৃদ্ধি: এটা ঠিক যে শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যকে শতভাগ বোঝার জন্য বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলমূত্র ত্যাগের কোনো জাদুকরী সংখ্যা নেই, কিন্তু এটা অবশ্যই সত্য যে আপনার বাওয়েল মুভমেন্ট আপনার শরীরের ভেতরের প্রকৃত স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এবং প্রায়সময় পেটফাঁপা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে আপনার সম্ভবত যত দ্রুত সম্ভব পানি পানের প্রয়োজন রয়েছে। ‘যেসব লোক পর্যাপ্ত পানি পান করে, তাদের সাধারণত নিয়মিত বাওয়েল মুভমেন্ট হয়। হার্ড বাওয়েল মুভমেন্ট বা কোষ্ঠকাঠিন্য একটি লক্ষণ হতে পারে যে আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি গ্রহণ করছেন না।’

ত্বক আরো উজ্জ্বল করে: ম্যাসাজ বা ফেসিয়ালের মতো একটি স্পা ট্রিটমেন্ট হলো, পর্যাপ্ত পানি পান। আপনার ত্বক হাইড্রেশন থেকে বড় উপকার পেয়ে থাকে। হাইড্রেশন ত্বককে পরিষ্কার করে অথবা ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত করে। ‘আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অর্গান হলো ত্বক, যা নতুন কোষ সৃষ্টি ও উজ্জ্বলতার জন্য পানির ওপর নির্ভরশীল। ত্বক তার কাজ করার জন্য শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতেও পানি প্রয়োজন।’ গবেষণা অনুসারে, আমাদের ত্বকে ৩০ শতাংশ পানি থাকে, যা ত্বককে নমনীয় ও কমনীয় করে।

ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমে: আমরা সবসময় ক্যালরি কমানোর উপায় খুঁজি, তাই না? ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েসের ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় ১৮,০০০ প্রাপ্তবয়স্কের সম্পৃক্ততা ছিল। গবেষণাটিতে পাওয়া যায়, যেসব লোক পানি পানের পরিমাণ ১ থেকে ৩ গ্লাস বাড়িয়েছিল, তাদের খাওয়ার পরিমাণ কমেছিল: তাদের খাবার গ্রহণের পরিমাণ ২০৫ ক্যালরি পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল। অন্যকথায়, আপনি পর্যাপ্ত পানি পান করে মাসে কয়েক পাউন্ড ওজন কমাতে পারেন- কোনো ডায়েটিং অথবা জিমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা ছাড়াই!

‘খাবার খাওয়ার আগে ও খাবার খাওয়ার সময় পানি পান আপনার পেটকে দ্রুত ভরিয়ে তোলে ও বাড়তি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে বিতাড়িত করে ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা কমায়। এই নিয়মে পানি পান করলে ক্ষুধা হ্রাস পায়, যা ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে।’ উচ্চ পানি সমৃদ্ধ খাবার ভোজনও আপনাকে সহায়তা করতে পারে। অনেক ফল ও সবজিতে প্রচুর পানি থাকে, তাই এসব খাবার খেলে অতিরিক্ত পানি পানি পানের পরিমাণ কমাতে পারেন। তরমুজ, শসা, টমেটো, আঙ্গুর ও চেরি খেতে পারেন।

শীতল হবেন: ‘যখন আমরা এক্সারসাইজ করি, আমাদের শরীর ঘাম নিঃসরণের মাধ্যমে শীতল হয়। যখন আমরা ঘামি, শরীর থেকে প্রয়োজনীয় তরল বের হয়ে যায়। যদি আমরা এসব তরল প্রতিস্থাপন না করি, আমরা পানিশূন্য হয়ে যাব। এর ফলে ঘাম নিঃসরণ ও শীতল হওয়া কঠিন হবে, যা হিট ইনজুরির দিকে চালিত করতে পারে।’ নিজেকে হিট ইনজুরি থেকে রক্ষা করতে এক্সারসাইজের সময় এবং উষ্ণ আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন।

মেজাজ ভালো থাকে: হাইড্রেশন ১-২ শতাংশ কমে গেলেও আপনার মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ মাত্রার পানিশূন্যতায় আপনি তৃষ্ণা অনুভব করতে না পারলেও এ গবেষণায় নারীদের মেজাজের রুক্ষতা আবিষ্কৃত হয়েছে এবং এসব নারীর মাথাব্যথা ও ক্লান্তিতে ভোগার হারও তুলনামূলক বেশি। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সাধারণ পানি পান করতে করতে বিতৃষ্ণা ধরলে সুস্বাদু করে খেতে পারেন, যেমন- পানির সঙ্গে লেবুর রস ও চিনি মেশাতে পারেন।

 

/এ.এইচ.বি