পরিবেশ রক্ষায় আপনি যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন

নতুন বছরে বিভিন্নজন বিভিন্ন সঙ্কল্প করে৷ পরিবেশ রক্ষায় কি আপনার কোন পরিকল্পনা রয়েছে? ২০২০ সালে আপনার এই আটটি সিদ্ধান্ত কমাতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব৷

» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২০ - ০৪:৫০:৫৭ অপরাহ্ন

মোঃ নিয়ামুল হাসান নিয়াজঃ

 

ভ্রমণে দায়িত্বশীলতা

যেখানে সম্ভব সাইকেল বা পায়ে হেঁটে যাতায়াত করুন৷ কার্বণ নিঃসরণে আপনার দায় কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় এটি৷ দূরপাল্লায় যতটা পারেন ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করুন৷ উড়োজাহাজ বাদ দিয়ে সম্ভব হলে ভ্রমণ করুন ট্রেনে৷

কেনাকাটায় সচেতনতা

ভোক্তা হিসেবে এই পরিবেশ রক্ষার অভাবনীয় শক্তি রয়েছে আপনার হাতে৷ এজন্য কেনাকাটায় বাড়তি সচেতন থাকুন৷ পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করুন৷ কোনকিছু কেনার আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার সত্যিই প্রয়োজন আছে কীনা৷ সম্ভব হলে ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ পণ্য কিনুন৷ বিশ্বের অনেক দেশের মানুষই এই অভ্যাস গড়ে তুলছে৷

খাদ্যের অপচয় নয়

আপনি জানেন কি, বিশ্বে যত খাদ্য উৎপাদন হয় তার প্রায় এক তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়? এই অপচয় কমাতে আপনিও কিন্তু ভূমিকা রাখতে পারেন৷ যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু খাবার নিন, পুরোটা খেতে চেষ্টা করুন৷ তারপরও থেকে গেলে তা সার হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করুন৷ বাগানে, গাছে রাসায়নিক সারের বদলে এ ধরনের জৈব বর্জ্য ব্যবহার করুন৷

যন্ত্রের ব্যবহার

পৃথিবীতে এখন মানুষ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ইলেকট্রনিক্স কিংবা প্রযুক্তি পণ্যের সঙ্গে বেশি যুক্ত থাকে৷ পাখা, বাতি থেকে শুরু করে বহনযোগ্য ল্যাপটপ, মোবাইল কী নেই৷ এইসব যন্ত্র অপ্রয়োজনে বন্ধ রাখুন৷ দীর্ঘসময়ের বিবেচনায় আপনি একাই তাতে বিপুল জ্বালানী সাশ্রয় করবেন৷ সহজ এই অভ্যাসটি উপকার করবে পৃথিবীরও৷

আওয়াজ তুলুন

বিশ্বের সরকারগুলোকে জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে বাধ্য করুন৷ এজন্য আন্দোলনে সামিল হন, আওয়াজ তুলুন৷ শুধু রাস্তায়ই নামতে হবে এমনটা নয়৷ বন্ধু, প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়েও পরিকল্পনা করুন কীভাবে আপনি স্থানীয় রাজনীতিবিদদের এই বিষয়ে চাপ দিতে পারেন৷ যেভাবেই হোক আওয়াজ তোলার বিকল্প নেই৷

খাদ্যাভ্যাস বদলান

স্বাস্থ্যের বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষই সচেতন৷ খাদ্যগ্রহণে পৃথিবীর স্বাস্থ্যের বিষয়টিও মাথায় রাখুন৷ মাংসের চাহিদা মেটানোর জন্য যে খামার গড়ে উঠছে তা বনভূমি উচ্ছেদ ও কার্বন নিঃসরণের অন্যতম কারণ৷ প্রাণীজের বদলে তাই উদ্ভিজ্জ খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ুন৷ এতে পরিবেশের উপর আপনার নেতিবাচক ভূমিকা হ্রাস পাবে৷

পুনর্ব্যবহারের বিকল্প নেই

বিশ্বে প্লাস্টিকের ব্যবহার ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে৷ এর মারাত্বক দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে সমুদ্রে৷ প্রকৃতিকে বাঁচাতে হলে এইসব প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই৷ প্লাস্টিকের ব্যবহার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন৷ অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক যেখানে সেখানে না ফেলে তার নতুন ব্যবহার বের করুন৷

ফিরে যান প্রকৃতির কাছে

নিজের কাজের থেকে সময় বের করে চলে যান প্রকৃতির কোলে৷ আশেপাশে অথবা সম্ভব হলে দূরে, দেখে নিন পৃথিবীর সৌন্দর্যকে৷ এই প্রকৃতিকে রক্ষা করা আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই ভ্রমণ আপনাকে সেই কথাই মনে করিয়ে দিবে৷