পঞ্চগড়ে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত-১


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২০ - ০৯:০৮:০৮ অপরাহ্ন

আল মাসুদ, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুরে পাথর শ্রমিকদের অঘোষিত হরতালে পুলিশ-শ্রমিকের সংঘর্ষে জুমার উদ্দীন (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। এঘটনায় পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যসহ আহত হয়েছে প্রায় ২০ জন।
নিহত জুমারুদ্দীনের বাড়ি তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের গনাগছ এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মৃত দেবারুর ছেলে। রোববার বিকেলে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মারা যান। এর আগে সকালে পাথর শ্রমিকরা মাটি খনন করে পাথর উত্তোলনের দাবিতে এই হরতাল শুরু করে। মুহুর্তেই তারা দখল করে নেয় মহাসড়ক। বন্ধ করে দেয় যান চলাচল। এমনকি খুলতে দেয়া হয়নি কোন দোকান পাট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হলে বিক্ষুব্ধরা হামলা করে পুলিশের উপর। ভাঙচুর করে পুলিশের ৩টি গাড়ী। ৩ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। বেসামাল পরিস্থিতিতে তোপের মুখে পড়েছে সাংবাদিকও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য র‍্যাবসহ অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হলে শ্রমিকদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি হোন ভজনপুর এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে জুমের আলী (২৬), রাজবাড়ী এলাকার মাহাবুব (৩০), আক্কাস আলীর ছেলে মনাজুল (৩০), মৃত মহিবুদ্দীনের ছেলে আজিবুদ্দীন (৩৫), কছরুদ্দিনের ছেলে করিমুল (৫০), কাউর গছ এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে নাজমুল হক (৪০), বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বালাবাড়ি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০) ও দেবনগর ইউনিয়নের হাওজোত এলাকার ভালকুট এলাকার ভোম্বল (৪৫)।
এছাড়াও আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন র‍্যাব সদস্য সাইদুল ইসলাম, আবু বক্কর, ফেরদৌস রনি এবং পুলিশ সদস্য জয়ন্ত, লায়েক মেহেদী হাসান, আরিফুল ইসলাম, এসআই ইমতিয়াজ খান, এএসআই সিরাজুল ইসলাম, এএসআই জাহাঙ্গীর আলম।
জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে ভজনপুর বাজারে স্থানীয় এক শ্রমিক টিনের ঢোল পিটিয়ে অঘোষিত ভাবে এই হরতালের ঘোষণা দেয়। রাত না পোহাতেই হরতাল রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। তবে ওই শ্রমিক কে ছিল তা জানা যায় নি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা পাথর বালি ব্যবসায়ী ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ লিটন জানান, আমাদের সংগঠন থেকে কোন প্রকার হরতাল কিংবা অবরোধের ডাক দেয়া হয় নি। তবে শ্রমিকরা আমাদের কাছে এসেছিল, তারা আমাদেরকে বলেছে রোববার তারা সড়কে অবস্থান করবেন।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, সকালে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান করছে খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যায়। তারা পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা করে এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশের গাড়ী ভাঙচুর করে। পরে আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। তিনি আরো বলেন, যারা অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করতো তাদের উস্কানিতে শ্রমিকরা এই আন্দোলন করছে।