নিয়ম মানায় মাধবদীবাসীকে জেলা প্রশাসকের ‘ধন্যবাদ ও উপহার’

মাধবদী পৌরসভার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমের ফলপ্রসূ সমাপনে জেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২০ - ১০:৫৪:২৪ অপরাহ্ন

নরসিংদী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই)  করোনা ভাইরাস প্রতিরোধকল্পে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী পৌরসভার ০৪ নং ও ০৫ নং ওয়ার্ড এর (উত্তর বিরামপুর ও দক্ষিন বিরামপুর) ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমের ফলপ্রসূ সমাপন উপলক্ষ্যে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
মাধবদী পৌর মেয়র হাজ্বী মোশাররফ হোসেন প্রধাণ মানিক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর মান্যবর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দেশের অভ্যন্তরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির জেলার সভাপতি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। মাধবদী পৌরসভা হল রুমে অনুষ্ঠিত এ প্রেস ব্রিফিং এর পূর্বে প্রধান অতিথি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন পৌরসভাধীন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্হানীয় জনগণকে সহযোগিতার জন্য অশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসনের আহবানে সাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ, সাংবাদিকগণ ও স্থানীয় জনগণ সহমর্মিতা, পরমর্মিতা, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমে বলীয়ান হলে মান্যবর জেলা প্রশাসক এর নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত “অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জোনিং মডেল” সফল করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
প্রেস ব্রিফিং এ জেলা প্রশাসক মাধবদী পৌরসভার ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত এলাকায় পূর্বের এবং বর্তমানের করোনা সংক্রমনে প্রতিরোধে জোনিং কার্যক্রমের সাফল্যের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, প্রথমত, নরসিংদী জেলার মাধবদী পৌরসভার লকডাউনকৃত ঝুঁকিপূর্ণ ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড এ বিগত ২১ দিন ধরে মানুষের মধ্যে যে সু-অভ্যাসগুলো গড়ে উঠেছে তা বহাল রাখতে হবে। বিগত ২১ দিনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় করোনা আক্রান্তের হার ২২% থেকে ৫ % নেমে এসেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ৫ জুলাই আক্রান্তের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।
দ্বিতীয়ত, করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব চিন্তায় গড়া ইমার্জেন্সি সেল ও কুইক রেসপন্স টিম দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়।
তৃতীয়ত, করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, নরসিংদীর তৈরি SOP বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত হয় যা পরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরে বাস্তবায়ন করা হয়।
চতুর্থত,  করোনা প্রতিরোধে মাধবদী পৌরসভার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়নে ১১ টি দপ্তর সুসমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
পঞ্চমত, ঈদ উল আজহায় রেড জোন এলাকায় কোরবানি পশুর হাটের আয়োজন করা যাবে না। খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসন, নরসিংদী অনলাইনে গরু কেনা বেচার জন্য “ অনলাইন গো হাট” চালু করবে।
ষষ্ঠত, করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা প্রশাসন, নরসিংদী বেসরকারি উদ্যোগে ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেয়া হয় এবং তাদের নাম মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হলে তাদেরকে স্থায়ী ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিশেষে লকডাউন বাস্তবায়নে সকল সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ দেন প্রধাণ অতিথি।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি নরসিংদীর পুলিশ সুপার  প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম(বার), পিপিএম, ডা.মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন( সিভিল সার্জন, নরসিংদী), তাছলিমা আক্তার (উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নরসিংদী সদর)।
নরসিংদী সদর উপজেলা এসিল্যান্ড ভুমি মোঃ শাহ আলম মিয়া, এনডিসি শাহরুখ খান, নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট অালহাজ্ব অালী হোসেন শিশির (সি আই পি), মাধবদী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ ফরিদ, ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হেলাল উদ্দীন, আলহাজ মামুন মিয়া, বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ক্যাপ্টেন মোঃ ফেরদৌস মিয়া,বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী অালহাজ্ব মোঃ মোমেন মোল্লা, আলহাজ্ব কাজিম উদ্দীন, আলহাজ্ব জাকির হোসেন ভুইয়া সহ সাংবাদিক ও সূধীবৃন্দ।