নিয়মবহির্ভূত মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ পঞ্চগড়বাসী


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯ - ০৪:৫৮:০৮ অপরাহ্ন

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ে প্রতিদিন সকাল না হতেই বিচিত্র সব বিষয়ে শুরু হয় মাইকে প্রচার। বিভিন্ন সময় শহর ঘুরে দেখা যায়, রিকশা কিংবা অটোরিকশার দুই পাশে হর্ন লাগিয়ে চলে এই যন্ত্রণাদায়ক প্রচার।

ওয়ালটন শোরুমের বিভিন্ন পণ্যে বিশাল মূল্য ছাড়, ধাঁনসিড়ি শোরুমে নতুন সব বাহারি ডিজাইনের পণ্য, স্বদেশ মার্কেট, টিভিএস মোটর সাইকেলে মূল্য ছাড়, পোল্টি গোটা মুরগি ১ শ টাকা কেজি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের আগমন, আজকের জন্য মোবাইল সিমে বিশেষ মূল্য ছাড়, এছাড়াও হারানো বিজ্ঞপ্তি, সভা, সেমিনারের নামে চলে বেপরোয়া মাইকিং।

নিয়মবহির্ভূত মাইকিংয়ের শব্দদূষণে শহরের মানুষ অতিষ্ঠ হলেও দেখার যেন কেউ নেই। পৌর শহরের ব্যবসায়ী করিমুল বলেন, প্রতিদিন মাইকিং এর শব্দে মানব জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে, খালি আওয়াজ আর আওয়াজ।বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ক্ষমতা বলে শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ প্রণয়ন করা হয়৷ বিধিমালার আওতায় আবাসিক এলাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ শব্দসীমা ৫৫ ডেসিবল। বিধিমালা অনুযায়ী স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের ১০০ গজের মধ্যে কোনো প্রকার উচ্চ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয়, সদর থানা, আধুনিক সদর হাসপাতাল, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা  কেন্দ্রসহ জেলাও দায়রা জজ আদালত, জেলা প্রশাসন কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কিন্তু এসব আইন বা বিধিমালার তোয়াক্কা না করে অতি মাত্রার শব্দে নানা বিষয়ে মাইকিং এখন নিত্যদিনের ঘটনা। যন্ত্রণাদায়ক এই প্রচারে অসহায় হয়ে পড়েছেন শহরের মানুষজন। পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন বলেন, উচ্চ শব্দে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে, এ ছাড়া মস্তিস্ক এবং হৃদযন্ত্রের রোগও দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার  শাহিনা শবনম বলেন, সচরাচর মাইকিং এ কেউ অনুমতি নেয়না। সবার আগে  প্রয়োজন জনসচেনতা, সব সময়ত আইন প্রয়োগ করা যায় না, তবে কেউ  লিখিত ভাবে জানালে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।