নিহত পুলিশ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেফতারের দাবী (ভিডিও)

প্রেস ক্লাবে এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের মানববন্ধন

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ - ০৯:০৫:৩৪ অপরাহ্ন

গত ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে নিজ পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন আব্দুল কুদ্দুস নামের এক পুলিশ সদস্য। আত্মহত্যার পূর্বে নিজ ফেসবুক টাইমলাইনে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে যান ওই পুলিশ সদস্য। এরই সূত্র ধরে গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন করেছে পুরুষ অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠন ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’। উক্ত মানববন্ধনে পুলিশ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেফতারের দাবী জানান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা। মানববন্ধনে এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক খাঁন বলেন, ‘মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েই আব্দুল কুদ্দুস আত্মহত্যা করেছেন। এজন্য তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। কেননা একজন মানুষ এমনি এমনিই আত্মহত্যা করতে পারেনা। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসেও এর নমুনা রয়েছে। পাশাপাশি পুরুষ অধিকার রক্ষায় সরকারকে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

মানববন্ধনকালে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন, ‘বর্তমানে অনেক মায়েদের মেয়ের সংসারে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ এর কারণে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, অনেক পুরুষ পাশাপাশি মিথ্যা মামলার ভয়ে অনেক সময় বাধ্য হয়েই এক ধরনের নির্যাতনকে সহ্য করতে হয় পুরুষদেরকে। আবার পুরুষ নির্যাতনের কোন সুস্পষ্ট আইন না থাকায় পুরুষরা আইনের আশ্রয় নিতে পারছেনা। যার ফলে ঘটে যাচ্ছে এমন দুঃখজনক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। তাই এখনই রাষ্ট্রকে এই সকল বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এছাড়াও মানববন্ধনটিতে পুরুষ অধিকার রক্ষার দাবী জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘আমাদের সমাজে পুরুষের প্রতি সহিংসতার ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। নারী-পুরুষ উভয়ই নির্যাতনের শিকার হলেও পুরুষ সমান আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ পায় না। পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও আইনি সুরক্ষা দেয়ার জন্য কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান নেই। পুরুষকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য পৃথক কোন আইন তো নেই-ই, এমনকি পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন-২০১০-এও পুরুষের জন্য প্রতিকার চাওয়ার কোন সুযোগ রাখা হয়নি। অথচ শুধু শারিরীক নির্যাতনেই নয় বরং মানসিক যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়েও প্রতিনিয়ত প্রাণ বিসর্জন দিতে বাধ্য হচ্ছে পুরুষেদেরকে। ডাক্তার আকাশ এবং পুলিশ সদস্য শাহ আব্দুল কুদ্দুস এর জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘আমরা চাই না আর কোন তাঁজা প্রাণ এভাবে অকালে ঝড়ে যাক। পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আইনি সুরক্ষা না দেওয়ার কারণে যদি কোন ভুক্তভোগীকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়, তবে এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।’