নিজ খরচে অসহায় মেয়ের বিয়ে দিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের তাসেম মেম্বার


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৯:৪৬:২৭ অপরাহ্ন

মুসা মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ তাসেম আলী যাবতীয় খরচ নিজে বহন করে এক অসহায় হিন্দু মেয়ের বিয়ে দিলেন। কনে কাঞ্চনা রানী ঘোষ একই এলাকার পিতা হারানো এক অসহায় দরিদ্র পরিবারের সন্তান।
১৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে কনে কাঞ্চনা রানীর বিয়ে হয়। হিন্দু রীতিনীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত বিয়েতে প্যানেল চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচ বহন ছাড়াও বরকে মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র প্রদাণ করেন এবং কনে কাঞ্চনাকে তিন ভরি স্বর্ণের অলংকার উপহার দেন।
বিয়ের জাঁকজমক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, গোবরাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মান্নু মিয়াসহ হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ। বিশাল আয়োজনে দুই ধর্মের মানুষের জন্য আলাদাভাবে খাবার আয়োজন করেন তাসেম আলী। ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপণ হয়েছে এ বিয়ের মাধ্যমে।
কনে কাঞ্চনা রানী ঘোষের মা অঞ্জলী ঘোষ জানান, ২০১৬ সালে কাঞ্চনার পিতাকে হারিয়ে তিনি ২ মেয়েকে নিয়ে দিক হারিয়ে ফেলেন। তার কিছুদিন পর বড় মেয়ে কনিকা রানী ঘোষকে এক বখাটে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করে। স্বামী ও মেয়েকে হারিয়ে তিনি কুল-কিনারা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় পাশে এসে দাঁড়ান তাসেম মেম্বার। তার সহযোগিতায় তিনি আবার উঠে দাঁড়ান। একমাত্র মেয়ে কাঞ্চনার লেখাপড়াসহ পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব নেন তাসেম মেম্বার। আজ সেই তাসেম মেম্বারের সার্বিক সহযোগিতায় তিনি ধুমধামের সহিত মেয়ের বিয়ে দিতে পেরে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, মেয়ের বাবা বেঁচে থাকলেও হয়তো এমন আয়োজনে মেয়ের বিয়ে দিতে পারতেন না।
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান তাসেম আলীর অনুভুতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মেয়ে কাঞ্চনা রানী ঘোষের বিয়ে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। কাঞ্চনার পিতা পরলোকগমন করলে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। আমি সেই সময় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে মেয়ে কাঞ্চনাসহ তাদের পরিবারের দায়িত্ব বহন করে আসছি। এ কাজে ধর্ম কোন সময় আমাকে পিছপা হতে দেয়নি। আমি মানুষের কল্যাণে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারটিকে সাধ্যমত সহযোগিতা করেছি। প্রায় ৮ লক্ষ টাকা খরচে মেয়ে কাঞ্চনার বিয়ে দিতে পেরে আমি আনন্দিত। সামনের দিনেও আমি পরিবারটি ও মেয়ে কাঞ্চনার পাশে থাকবো।
তিনি বলেন, আমাকে এই মানব কল্যাণমুখী কাজে সব-সময় যে আমাকে উৎসাহ দিয়ে থাকেন ‘তিনি হচ্ছেন তার সহধর্মিনী ইসরাত জাহান’। এমন মানবিক আয়োজনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ দাওয়াতে অংশগ্রহণ করেন এবং বর-কনেকে আশির্বাদ করে ।