বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

নিজের সফলতার গল্প শোনালেন বিসিএস ক্যাডার নাসির উদ্দিন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০
  • ০ Time View

বৈশ্বিক মহামারির থাবায় থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। কোথাও নেই সুসংবাদ। গোটা বিশ্ব যেন মৃত্যুপুরী। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও ভালো নেই। এই দুঃসময়ে জাতিকে সুসংবাদ দিয়েছে পিএসসি। কারো মুখে জয়ের আনন্দের উচ্ছ্বাস, আবার, কারো চেহারায় গ্লানির ছাপ। বলছিলাম ৩৮ তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা। ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন। তিনি শিক্ষা ক্যাডারে (আইসিটি, মেধাক্রম ১০) সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যলয়ে আইটি ডিভিশনে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি বিসিএস ক্যাডার নাসির উদ্দিনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন উত্তরা নিউজ এর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সিয়াম।

উত্তরা নিউজ: কেমন আছেন?
নাসির উদ্দিন: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
উত্তরা নিউজ: বিসিএসই কেন আপনাকে দিতে হবে মনে হলো?
নাসির উদ্দিন: অন্যান্য টেকনিক্যাল স্টুডেন্টদের মতো প্রথম দিকে আমারও কোন পরিকল্পনা ছিলনা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া, সেই সাথে আইসিটি বিষয়ে ব্যাপক কাজের ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় বিসিএস এর প্রতি আগ্রহ তৈরী হয়।
উত্তরা নিউজ: আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে বিসিএসে আসলেন কেন?
নাসির উদ্দিন: আমি কিন্তু আমার টেকনিক্যাল ফিল্ডেই আছি। এই সেক্টরকে ডেভেলপ করার জন্য কিছুটা হলেও আমার টেকনিক্যাল জ্ঞান কাজে লাগাতে পারবো।
উত্তরা নিউজ: আপনার কাজ ছিল গোটা পৃথিবীব্যাপী কিন্ত, এখন আপনি একটা গন্ডির মধ্যে চলে আসছেন। এরকম সীমাবদ্ধ জায়গায় আসার কারণ কী?
নাসির উদ্দিন: আমি আসলে সেটা মনে করি না। আমার কাছে মনে হয় কোন বেসরকারি সফটওয়্যার ফার্মে কাজ করলে আমি বরং সেখানেই আবদ্ধ হয়ে যেতাম। আইসিটি শিক্ষা ক্যাডারে আরও বেশি কাজ করার সুযোগ আছে। প্রফেশনাল স্কিলকে ডেভেলপ করে দেশকে সত্যিকার অর্থেই ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে রুপান্তর করে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারবো বলে আশা করি।

উত্তরা নিউজ: বিসিএসে আসার গল্পটা যদি বলতেন ?
নাসির উদ্দিন: বিসিএস আসার ইচ্ছেটা কখনোই ছিলোনা। তারপরও বন্ধুদের সাথে শখ করে ৩৫তম বিসিএস এ আবেদন করি। খুব বেশি পড়ার সুযোগ হয়নি। প্রশ্ন খুব কঠিন হওয়ায় ম্যাথ, ইংলিশ ও বিজ্ঞান ভালো করায় টিকে যাই। এর পর আসলে নিজের ভেতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।
উত্তরা নিউজ: বিসিএসের প্রস্তুতি কীভাবে নিলেন?
নাসির উদ্দিন: সত্যি করে বলতে গেলে বিসিএস এর জন্য খুব প্ল্যান করে, রুটিন করে পড়াশোনা কখনো করা হয়নি। তবে যতটুকু করেছি তা ইফিশিয়েন্ট ওয়েতে করেছি। সারা দিন-রাত বই নিয়ে পড়ে থাকিনি। যতক্ষণ ভালো লেগেছে ততক্ষণ পড়েছি। কোন কোচিংয়ে ভর্তি হইনি। যতটুকু পড়তাম, যে বিষয়ে পড়ছি সেটা ভালোভাবে জানার চেষ্টা করতাম এবং জানাটাকে উপভোগ করতাম। পড়াশোনার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাওয়াটাই মনে হয় যেকোন পরীক্ষায় ভালো করার আসল সিক্রেট।

উত্তরা নিউজ: বিসিএসকেই কেন আইডেন্টি হিসেবে নিতে হবে বলে আপনার মনে হলো?
নাসির উদ্দিন: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিঃসন্দেহে ক্যাডার সার্ভিসে নিজের আইডেন্টিটি তৈরী করা গর্বের। সেজন্যই আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি।
উত্তরা নিউজ: সংসার ও চাকরী সামলিয়ে বিসিএসের পড়াশোনা কীভাবে কন্টিনিউ করলেন?
নাসির উদ্দিন: পড়াশোনা তো সারা শিক্ষাজীবন ব্যাপিই করতে হয়েছে। সংসার যে শুধুই সামলাতে হয়েছে এরকম না সংসার প্রিপারেশন নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ছিল। চাকরি করে পড়াশোনা করাটা বেশ টাফ। তবে এর মধ্যেও যতটুকু সম্ভব চেস্টা করেছি।
উত্তরা নিউজ: ৩৮তম বিসিএসে বিবাহিতদের জয় জয়কার। আপনার স্ত্রীর থেকে সাপোর্ট ছিল কীরকম।
নাসির উদ্দিন: স্ত্রীর সাপোর্ট ছাড়া আসলে কতটুকু সম্ভব হতো সেটি বলা মুশকিল। বিশেষ করে পড়াশোনা না করতে চাইলে বার বার পড়তে বসার কথা। একটা বিষয় না বললেই নয়, যখন রাত জেগে পড়তাম আমার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করতো, পড়া কোনভাবেই মাথায় ঢুকতো না তখন আমার স্ত্রী মাথা ম্যাসাজ করে দিতো এবং মাথার ব্যাথা ভালো হয়ে যেত। ফলে আমি আরও বেশি সময় পড়তে পারতাম।

উত্তরা নিউজ: গত ১০ বছরে বিসিএসের প্রতি যে মোহ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হলো সেটা আগে দেখা যায় নি। বিসিএসে এর প্রতি এই মোহের কারণ কী?
নাসির উদ্দিন: আর্থিক নিরাপত্তা (বিশেষ করে সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামোতো বেতন বৃদ্ধি) সামাজিক মর্যাদা, জব সিকিউরিটি।
উত্তরা নিউজ: বিসিএস মানেই কী ট্যালেন্টের মাপকাঠি?
নাসির উদ্দিন: ট্যালেন্ট অবশ্যই সহায়ক। কিন্তু বিসিএসই একমাত্র ট্যালেন্টের মাপকাঠি না।
উত্তরা নিউজ: আপনি কর্পোরেট কোম্পানিতে যে পরিমান অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারতেন। শিক্ষা ক্যাডারে তো সেই সুযোগ নেই। কেন ভালো সুযোগ ছেড়ে তার চেয়ে কম সুযোগ সুবিধায় চলে আসলেন?
নাসির উদ্দিন: আর্থিক বিষয় দেখেই যে ক্যারিয়ার প্ল্র্যান করেছি বিষয়টি সেরকম না। কারও কারও পছন্দের কিছু জায়গা থাকে যেখানে সে আর্থিক সুবিধা কম পেলেও কমফোর্ট ফিল করে। আমার ক্ষেত্রেও সেটি হয়েছে। তাছাড়া সরকারি জবে বর্তমান সুযোগ সুবিধা যেকোনো কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর চেয়ে কোন অংশে কম না।

উত্তরা নিউজ: বেসরকারি সেক্টরে কী সিকিউরিটির অভাব না অন্য কিচ্ছু। না সামাজিকভাবে ইনসিকিউরড?
নাসির উদ্দিন: জব ইনসিকিউরিটি, কাজের প্রেসার, বসের ঝাড়ি। বর্তমান সিচুয়েশনে এটা আরও প্রকট হয়েছে। মহামারীর মধ্যে বেসরকারি চাকরিজীবিদেরকে স্যাক করার ঘটনা ঘটছে, বেতন ঠিকমতো পাচ্ছে না, পেলেও ফুল বেতন দেয়া হচ্ছে না।
উত্তরা নিউজ: বিসিএস শিক্ষায় আসার জানতে চাচ্ছিলাম।
নাসির উদ্দিন: অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, বিসিএস শিক্ষা আমার ক্যাডার চয়েস লিস্টের ২য় তে ছিল। আগ্রহ এবং প্যাশানের কারণেই আসা।
উত্তরা নিউজ: একাডেমিক ও বিসিএস কোনটাকে গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা চালিয়েছেন?
নাসির উদ্দিন: আসলে আমি একাডেমিক লাইফ শেষ হওয়ার আগে চাকরির কোন পড়াই পড়ি নাই। যখন যেটার গুরুত্ব দেয়া উচিৎ ছিল সেটাই করেছি। যদিও এখন কম্পিটিশন অনেক বেশি যারা বিসিএস দিতে চায় তাদেরকে একাডেমিক এবং জব রিলেটেড পড়াশোনা সমন্বয় করে পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। তবে কোনভাবেই একাডেমিক পড়ালেখাকে অবজ্ঞা করা উচিৎ নয়।

উত্তরা নিউজ: বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত সংগ্রাম-স্ট্রাগলের গল্পটা কি রকম ছিল।
নাসির উদ্দিন: আসলে স্ট্রাগল ছাড়া ভালো কিছু অর্জন করা কঠিন। আমি বিসিএস শেষ করার আগেই বিয়ে করেছিলাম। স্বাভাবিক ভাবেই আমার স্ট্রাগলটা একটু বেশিই ছিল। পড়ালেখার পাশাপাশি প্রচুর টিউশনি করতে হতো। তবে টিউশনি দারুন কাজে দিয়েছে আমায়।
উত্তরা নিউজ: আপনার কী মনে হয় বিসিএসে কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন সাবজেক্টকে আলাদা করে দেখা হয়?
নাসির উদ্দিন: এটা খুব ম্যাটার করে না। কেউ যদি ভালো পরীক্ষা দেয় সে যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং যে সাব্জেক্টরই হোক না কেন ফলাফল তার অনুকুলে আসবে।
উত্তরা নিউজ: অন্য ক্যাডারের জন্য আবার বিসিএস দেওয়ার ইচ্ছা আছে?
নাসির উদ্দিন: আমার শেষ বিসিএস ছিল এটা। এজ শেষ তাই আর অংশগ্রহণের সুযোগ নাই।
উত্তরা নিউজ: নবীনদের বিসিএস প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?
নাসির উদ্দিন: সিলেবাসটা ভালো করে বুঝে সিলেবাস ধরে ধরে বেসিক বইয়ের সাথে যেকোনো রেফারেন্স বই পড়লে সুযোগ বেশি থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিজের দূর্বল সাইট টা খুঁজে বের করা এবং সেটা রিকোভার করার চেষ্টা করা। কমবেশি যতটুকুই পড়ুন না কেন সেটা যেন ইফিশিয়েন্ট ওয়েতে হয়।
উত্তরা নিউজ: প্রিয় ক্যাম্পাসের ছোটদের প্রতি পরামর্শ কী?
নাসির উদ্দিন: জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলব, বাস্তবতা ও পছন্দের ভিত্তিতে আগে নিজের ক্যারিয়ার ভিশন ঠিক করে ফেলতে হবে। আর সেটা অর্জনের যা যা করা দরকার সেটাই করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © uttaranews24
themesba-lates1749691102