মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান
উত্তরা নিউজ


নামাজের স্থানে পানি, ডাস্টবিনে কিতাবাদি! এলাকাবাসীর ক্ষোভ






স্টাফ রিপোর্টার:  উত্তরা ১১নং সেক্টরের ১৫ নং রোডে পাশাপাশি দুটি প্লটে অবস্থিত যথাক্রমে ৯৬ ও ৯৮ নম্বর বাড়ী। প্লট ভিন্ন হলেও একত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ৬ষ্ঠ তলা বিল্ডিংটিতে প্রবেশে ব্যবহার করা হয় একটিমাত্র ফটক। ছয়তলা ভবনের নীচতলায় (গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান) একপাশে দীর্ঘদিন ধরেই ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দারাসহ আশপাশের মানুষজনরা নিয়মিত ৫ (পাঁচ) ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে আসছিল।

গত ২৫ মে, ২০১৯ দুপুরের পর ৯৬ নং বাড়ীর মালিকের বিমানবালা মেয়ের ক্ষোভের মুখে লন্ডভন্ড হয়ে যায় নামাজের স্থান। সেই সাথে নামাজের স্থানে রাখা কিতাবাদি ও জায়নামাজ ছিঁড়ে ময়লার ডাস্টবিনে ফেলা দেয়া হয়। নামাজের জায়গায় পানি ঢেলে উক্ত স্থানটিতে বন্ধ করে দেয়া হয় নামাজ। স্থানীয়সূত্রে আরও জানা যায়, এসময় পবিত্র কুরআন শরীফের পাতা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে পবিত্র কুরআনের অবমাননাকর এমন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উত্তরা ১১ নং সেক্টরবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে আসরের নামাজের পর ১৫ নং রোডের ওই বাড়ির সামনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করতে থাকে।

ঘটনাটি জানতে পেরে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ তপন চন্দ্র সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং উপস্থিত ফোর্সসহ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়। অপরদিকে, অভিযুক্তদেরকে আটক এবং বিচারের মুখোমুখি করতে স্থানীয় জনতা স্লোগান দিতে থাকলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। সন্ধ্যায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরে থানার ওসি ওই ভবনের দুই মালিককে সাথে নিয়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাট পরিদর্শন করলে উক্ত ঘটনার জন্য অভিযুক্তরা ক্ষমা প্রার্থনা করে ও ফ্ল্যাটের বারান্দায় এসে উত্তেজিত জনতার নিকট ক্ষমা চায় সেই সাথে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা নিচে নেমে নামাজের জায়গা থেকে ঝাড়– দিয়ে পানি সরিয়ে দেয় এবং মুসল্লীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএনসিসি ৫১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ শরীফুর রহমান, উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামান সরদার, শচীন মল্লিক, উত্তরা ১১নং সেক্টরের নিরাপত্তা সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ সেক্টরের গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা।