নরসিংদীর মাধবদীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯ - ০৩:১৯:৪১ অপরাহ্ন

রবিবার (১০ নভেম্বর)রাতে মাধবদী থানাধীন ফজুরকান্দী গ্রাম হতে কুলসুম বেগম(২৩) নামে এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে মাধবদী থানা পুলিশ।নিহত কুলসুমের পৈত্রিক নিবাস মাধবদী পৌর শহরের বিরামপুর মহল্লায়।তার পিতার নাম ইদ্রিস আলী।

জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের ফজুরকান্দী গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে সুলেমানের (২৬) সঙ্গে কুলসুমের বিয়ে হয়। পরে তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।মাধবদী থানার পুলিশ জানিয়েছে, কুলসুমের স্বামী সুলেমানের সঙ্গে কুলসুম ফজুরকান্দীর বাড়িতে একটি টিনসেড বিল্ডিং এ থাকতেন। রবিবার রাতে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে(সেই টিনসেড বিল্ডিং) গিয়ে তাদের কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় কুলসুমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের সুরতহাল দেখে রাতেই থানায় নিয়ে আসা হয়।

এ ব্যাপারে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন,তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, এবং সে সময় নিহত কুলসুমের স্বামী ও তার স্বজনদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, কোনো মানসিক হতাশা থেকে কুলসুম আত্মহত্যা করেছে।

নিহত কুলসুমের বাবা ইুদ্রিস আলী পুলিশের ধারণাকে ভূল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, কুলসুম আত্মহত্যা করেনি।তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করে জানান, কুলসুমের বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কুলসুম ছয় মাসের গর্ভাবস্থার সময় এ যৌতুকের টাকার জন্য দ্বন্দ্ব হয় তার শাশুড়ি ও স্বামী সুলেমানের সঙ্গে। পরে বাপের বাড়িতে চলে আসে কুলসুম। মীমাংসার পর পুনরায় শ্বশুর বাড়িতে চলে যায় কুলসুম। তারপরও টাকার জন্য প্রায় সময় কুলসুমকে নির্যাতন করত তার স্বামী সুলেমান। গত দেড় মাসে আগেও তার পায়ে স্বামীর নির্যাতনের চিহ্ন দেখিয়ে ছিল কুলসুম।আজ তার লাশ দেখতে হল।আমি এ ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত বিচার চাই আইন প্রশাসনের কাছে।

এদিকে এলাকাবাসী বলছে, ঘটনার সঠিক তদন্তেই বেরিয়ে আসবে এর প্রকৃত কাহীনি।তাই এলাকাবাসীও এ ঘটনার সঠিক তদন্ত আশা করছে প্রশাসনের কাছে।