নদী খেকোদের ‘চোর-পুলিশ খেলার দিন শেষ’: বিআইডব্লিউটিএ (ভিডিওসহ)


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ - ০৫:১৭:৩৫ অপরাহ্ন

“নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া না পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ নদী থেকে উঠবে না, এটাই আমাদের সাফ কথা। এখানে আমরা যেকোন মূল্যে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিব। এক ইঞ্চি জায়গাও আমরা অবৈধ দখলে থাকতে দিব না।” আপনাদের এই অভিযান কতদিন চলবে? সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম-পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন এসব বলেন।

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান সংলগ্ন তুরাগ নদীর পূর্ব তীর ভরাট করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। ১৯ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান হাকিমের নেতৃত্বে শুরু হওয়া উক্ত অভিযান চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এ সময় তুরাগ নদীর দখল হওয়া প্রায় বিশ একর জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ কাঁচা বাজার গুড়িয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে জব্দকৃত মালামাল (বালু, মাটি ও স্থাপনা সামগ্রী) ৫১ লক্ষ টাকায় নিলামে বিক্রয় করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান, এ বছরের শুরু থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত মোট পঞ্চাশ কার্যদিবসে আমরা ঢাকার মধ্যে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর চারপাশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছিলাম। সেসব অভিযানকালে আমরা নদীর আশপাশের অনেক বড় বড় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি নদীর জায়গা ভরাট করে গড়ে ওঠা বালুর গদি ও মার্কেট উচ্ছেদ করেছি এবং জায়গাগুলো নিলাম দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি গণমাধ্যমে বেশ কিছু খবর এসেছিল যে, নিলামকৃত জায়গা আবার পুনঃভরাট বা পুনঃদখল হয়েছে। এবার আমরা সেই জায়গাগুলো চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছি।

যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতিতে অবস্থান করেছে আমরা সেটিকেই অনুসরন করছি। নদীকে রক্ষার জন্য পঁচিশ ফিট নিচ থেকে আমরা স্থায়ীভাবে রড সিমেন্ট এবং পাথর দিয়ে ঢালাই করে সীমানা পিলার স্থাপন করছি। প্রায় দেড় হাজার সীমানা পিলার আমরা বিভিন্নস্থানে বসিয়েছি। এখানেও (তুরাগ নদী) পিলার দেয়া হবে। যাতে কোন ধরনের অবৈধ ভরাট না হয়, নদী দখল না হয়।

নদীর জায়গা দখলকারীদের বিরুদ্ধে এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, যদি কেউ মনে করেন আমরা বেঁচে গেছি, আবার নদী দখল করব, এতে কোন লাভ হবে না। এই সমস্ত চোর-পুলিশ খেলার দিন শেষ। প্রকৃতপক্ষে এখন নদীর উদ্ধার করার ক্ষেত্রে যা যা করা দরকার, যত ভয়াবহ অভিযান করা দরকার, সরকারকে যত কঠোর হওয়া দরকার, সেটা কিন্তু সরকার করবে এবং সরকার প্রধানও কিন্তু সেই ধরনের ম্যাসেজ আমাদেরকে দিয়েছেন।

রাজধানী উত্তরা ১০নং সেক্টরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত তুরাগ নদীর তীরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর শহীদুল্লাহ, অ্যাসিসট্যান্ট ডিরেক্টর রেজাউল করিমসহ বিআইডব্লিউটিএ’র অন্যান্য কর্মকর্তাগণ। এ সময় বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।