নতুন বাংলাদেশ ফুটবলর


» আশরাফুল ইসলাম | ডেস্ক এডিটর | | সর্বশেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৯ - ০৪:২৬:৩৭ অপরাহ্ন

ক্লান্ত-অবসন্ন শরীরেও এক দলের কেটেছে নির্ঘুম রাত। আরেক দল দিব্যি ঘুমিয়েছে ১ পয়েন্ট পাওয়ার সুখানুভূতিতে। একদিকে অতৃপ্তি-আফসোস, আরেক দিকে অ্যাওয়ে ম্যাচে সর্বস্ব না হারানোর সান্ত্বনা। যুবভারতী স্টেডিয়ামে জয়ের স্বপ্ন দেখানো ম্যাচের পর রাতটা এমনই মিশ্র অনুভূতিতে কেটে গেল বাংলাদেশ দলের।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আগের দুই ম্যাচ হারলেও খেলায় ছিল অনেক ইতিবাচক দিক। ছিল আক্ষেপও, যেমন আফগানিস্তানের ম্যাচ থেকে শূন্য হাতে ফেরাটা মেনে নিতে পারছিলেন না জেমি ডে। বাংলাদেশের এই ব্রিটিশ কোচ কাতারের বিপক্ষে পরের ম্যাচটিকে দিয়েছেন তাঁর কোচিংয়ে ‘সেরা ম্যাচ’-এর আখ্যা। তাহলে ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচটি? জেমির জবাব, ‘এই ম্যাচের তুলনা হয় না। খেলোয়াড়রা অসাধারণ এক ম্যাচ খেলেছে। নেহাত দুর্ভাগা বলেই জয় পায়নি তারা।’

প্রথমার্ধে সাদউদ্দিনের গোলে লিড নিয়ে বাংলাদেশ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও অক্ষত রাখতে পারেনি নিজেদের পোস্ট। ভারতের বিপক্ষে ঠিক আগের দুটি ম্যাচেও জয়বঞ্চিত হয়েছিল ইনজুরি টাইমে গোল খেয়ে। এবার তীরে এসে তরি ডোবে ৮৮ মিনিটের গোলে। তার আগেই যে লিড বড় করার অনেক সুযোগ পেয়েছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা।

কোচের বিশ্লেষণে এর দায় দুর্ভাগ্যের, ‘ম্যাচের শুরুটা দেখুন। শুরু থেকেই ভারতের রক্ষণে হানা দেয় আমার খেলোয়াড়রা, এই ম্যাচ নিয়ে তারা খুব ফোকাসড ছিল। শুরুর পেনাল্টিটা আমাদের প্রাপ্য ছিল, পরে ভিডিও দেখে আরো নিশ্চিত হয়েছি। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর অনেক সুযোগ ছিল, জীবন (নাবিব নেওয়াজ) তো একটা গোল পেতেই পারত। স্রেফ দুর্ভাগা বলেই…।’

নাবিব নেওয়াজ পেয়েছিলেন দু-দুটি সুযোগ। একটি গোলরক্ষক সেভ করেছেন অন্যটি গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরিয়েছেন ভারতীয় ডিফেন্ডার। তাই এই ফরোয়ার্ডের আক্ষেপের শেষ নেই, ‘জাতীয় দলে ভাগ্যটাই আমার খারাপ।

গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে পোস্টে তুলে দিয়েও পারলাম না। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি, ওই দুটি মুভের কথা মনে পড়ছিল। একটি গোল হয়ে গেলে আজ ৩ পয়েন্ট নিয়েই ফিরতাম।’ অথচ ঘরোয়া ফুটবলে গোল উৎসবের দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়েছেন জীবন।

তাই জাতীয় দলের জার্সিতে গোল না পাওয়ার আক্ষেপটা তাঁর বেশি। তাঁর দুটি সুযোগ তো গেল, পাশাপাশি ইব্রাহিমের বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শট ফিরিয়ে দেয় ক্রসবার। আসলে পরিষ্কার সুযোগ দিয়ে বিবেচনা করলে ম্যাচটি হতে পারত লাল-সবুজের।