নতুন বছরের প্রতিশ্রুতি হোক দূর্নীতির বিরুদ্ধে

মোঃ শফিকুল ইসলাম (নিয়ামত)

» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২০ - ১২:৩৩:২৮ অপরাহ্ন

নীতি কথাটি সামনে আসলেই সমস্ত ভালো কথা মন মগজে আলোড়িত হয়। ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে যদি নীতির সুষ্ঠ ব্যবহার হয় তাহলে সেটা হয় সুনীতি আর এর বিপরীত হলেই হয় দূর্নীতি। আমাদের আশেপাশে ব্যাক্তিবিশেষে অনেক নীতিবান লোকের দেখা মেলে। তাদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ এবং কর্মকান্ডে সবসময় স্বচ্ছতার ছাপ পাওয়া যায়। আবার এরকম অনেক লোকের দেখা মেলে যারা যারা কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না। তারা স্ব-ইচ্ছায় বিবেকবর্জিত হয়ে নীতিহীন কাজ করে অর্থাৎ দূর্নীতি করে। আবারো এরকমও কিছু লোক পাওয়া যায় যারা নৈতিক উপায়ে দূর্নীতি করে। নৈতিক উপায়ে দূর্নীতি করার বিষয়টা বলতে গেলে বোঝা মুশকিল। ব্যাক্তির দূর্নীতি পরিবারেও প্রভাব ফেলে। একটি পরিবারের প্রধান বা ইনকামের যিনি মূল তিনি যদি দূর্নীতিপ্রবণ হন তাহলে তার দেখাদেখি অন্য সদস্যরাও প্রভাবিত হতে পারে এটা আহামরি কিছু নয়। কারন অনুকরণ-অনুসরনের বিষয়টা পরিবার থেকেই শুরু হয় আর এটা চলতে থাকে সব জায়গায়। আর সমাজ পরিবারের একটা অংশ হিসেবে পরিবারের শিক্ষা সহজেই সমাজে প্রতিফলিত হয়। ব্যাক্তি যদি নীতির সুষ্ঠ ব্যবহার পরিবার থেকে শিখে না আসে তাহলে তার দ্বারা সমাজ কলুষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সমাজ কলুষিত হলে প্রত্যেক জায়গায় অস্থিরতা বিরাজ করবে । দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিতে প্রভাব পরবে। রাষ্ট্র সমাজের অংশ। সেই সমাজেই যদি মানুষের মধ্যে নীতিহীনতা কাজ করে তাহলে সমাজের মাধ্যমে গড়ে উঠা রাষ্ট্রের মেরুদন্ড কিভাবে ঠিক থাকবে? একটি দেশের উন্নয়ন কখনো অসৎ লোকদের মাধ্যমে হয়না এর অনেক নজির ইতিহাসে বিদ্যমান। সৎ, দেশপ্রেমিক এবং নীতিবান লোকেরাই পারে দেশেকে সমৃদ্ধ করতে। একটা বিষয় বলে রাখা যাক কোন সমাজ বা রাষ্ট্র দুর্নীতিগ্রস্থ হতে পারে না দূর্নীতিগ্রস্থ হয় মানুষ। সমাজ বা দেশ কাঠামো মাত্র। আমাদের দেশ বেশ কয়েকবার দূর্নীতিতে ভাল অস্থানে ছিল বিষয়টা করুণ বাস্তব। এখনো সমাজের শিরায়-উপশিরায় দূর্নীতি বিদ্যমান।দূর্নীতির কিছু কারন রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারনগুলো হলো জবাবদিহিতার অভাব, সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের কারনে অবৈধভাবে সম্পদ গচ্ছিত রাখার প্রবণতা, নৈতিকতা বিবর্জিত রাজনীতি এবং বৈষয়িক কারণ। এছাড়াও দূর্নীতির পিছনে আরো কিছু কারন রয়েছে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি, স্বার্থপরতা ও স্বজনপ্রিয়তা এবং শাসকবর্গের স্বেছাচারিতা। আমাদের দেশে দূর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ,প্রতিরোধ ও দমন করার জন্য দূর্নীতি দমন কমিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তার প্রতিষ্ঠাকাল ২০০৪ এর ৯ মে থেকে এ পর্যন্ত কাজ করে কতটুকু সফল হয়েছে প্রশ্ন থেকে যায়। যাইহোক দূর্নীতির কালো থাবা থেকে দেশকে মুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ব্যাক্তি পর্যায় থেকে সৎ এবং নিষ্ঠাবান হতে হবে। শুধু দুর্নীতি বিরোধি কমিশন থাকলেই হবেনা এতে হয়ত সাময়ীক সময়ের জন্য সাফল্য আসবে। চিরতরে দূর্নীতিকে বিদায় বলা যাবে কিনা সেটা বলা মুশকিল তবে কিছু নিয়ম এর মাধ্যমে এর হ্রাস ঘটানো যেতে পারে । যে যেই সেক্টরেই কাজ করুক না কেন, জাবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। দূর্নীতি বিরোধী সামাজিক আন্দোলোন গড়ে তোলা, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যকর করা, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। শৈশবেই দুর্নীতির কুফল এবং দূর্নীতিমুক্ত সমাজের ভালো দিক তুলে ধরতে হবে। আর দূর্নীতিকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে । এটা তখনই করা সম্ভব যখন বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকবে। সর্বপরি দূর্নীতি দমন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকতে দিতে হবে। পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজের জীবন বাজী রেখে সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের সোনার ছেলেরা এই লাল সবুজের পতাকা উপহার দিয়েছে। এই পতাকার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই । আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হব। আমরা স্বজনপ্রীতি, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন সহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কোন কাজ করব না।অতীতের সব গ্লানি ভুলে নতুন বছরের শুরুতে নতুন করে দূর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ নিব । দেশ মাতৃকার স্বার্থে সদা সর্বদা জাগ্রত থাকব। যেই উদ্দেশ্যে সোনার ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে সেই লক্ষ পূরণে সচেষ্ট থাকব।