নওগাঁয় ট্রাফিক পুলিশের তাড়া খেয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মটরসাইকেল আরোহী নিহত


» উত্তরা নিউজ I সারাবাংলা রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০১৯ - ০৪:৩১:১৩ অপরাহ্ন

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় ট্রাফিক পুলিশের তাড়া খেয়ে নিয়ন্ত্রনহীন ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মিলন চন্দ্র নামে এক মটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের বাইপাস সড়কের বোয়ালিয়া মোড়ে জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালের পার্শ্বে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন চন্দ্র রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বেড়ামুকিম গ্রামের পরিমল চন্দ্রের ছেলে। তিনি স্কয়ার এগ্রোর মাকেটিং অফিসার হিসেবে নওগাঁর বদলগাছীতে যোগদান করতে এসেছিলে। ঘটনায় ট্রাকের চালক নুর ইসলাম(৩৯) কে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সান্তাহারের দিক হতে তিনি নওগাঁর দিকে মটরসাইকেল যোগে যাচ্ছিলেন এসময় একই দিক হতে দ্রুত গতিতে আসা একটি ট্রাক সামনে ট্রাফিক পুলিশ দেখে তাৎক্ষনিক ব্রেক করে মটরসাইকেল আরোহী থাকা স্বত্তেও বামপাশে চেপে দেয়।

এতে মটরসাইকেল আরোহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনার পর ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে গেলেও চালকসহ ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। মিলনের সহকর্মী মোঃ মতিনুর রহমান জানান, হাছান ও মিলন আগে পিছু হয়ে মটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল। মটরসাইলেরে পিছন থেকে আসা ট্রাকটিকে ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহাদত সিগনাল দিলে হঠাৎ করে ট্রাকটি বাম দিকে চেপে দিলে মিলন চন্দ্রের মটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে করে ঘটনাস্থলেই মিলনের মৃত্যু হয়।

জগৎসিংহপুরের আজাহার আলী জানান, এই রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের চেকপোস্টের কারনে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই বছর আগে ট্রাফিক পুলিশের সিভিল লোক শাহজাহান আলী ট্রাক আটকাতে গিয়ে ট্রাকের চাপায় মারা যায় এবং সম্প্রতি গত বছরে প্রত্যাশা ক্লিনিকের মালিক আসাদুল ইসলাম ট্রাফিক পুলিশের তাড়া খেয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়। শহরের বাইপাস রাস্তার মাঝামাঝি ট্রাফিকের চেকপোষ্ট বন্ধের দাবী করেন।

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) ফাইসাল হোসেন জানান, নওগাঁ শহরের বাইপাস সংলগ্ন জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালের সামনে ট্রাকের চাপায় মটরসাইকেল আরোহী মিলন চন্দ্র নামে এক যুবক নিহত হয়। লাশ উদ্ধার কওে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের লোকজন এসেছে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সরোয়ার হোসেন জানান, ট্রাফিক সার্জেন্টের ধাওয়ায় এই দূর্ঘটনা ঘটেনি। সার্জেন্ট শাহাদত ঘটনাস্থল থেকে অনেক দুরে অবস্থান করছিলেন।