ধর্মীয় বিদ্বেষ কখনোই কাম্য নয়!


» মোঃ সবুর মিয়া উত্তরা নিউজ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ - ০৩:৩৬:০২ অপরাহ্ন

ধর্মীয় অনুভূতি মানুষ তার হৃদয়ে ধারণ করে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তার নিজস্ব ধর্মের গতিবিধিতে নিজেকে চালানোর চেষ্টা করে। ধর্মহীন ও ধর্মীয় অনুভূতিহীন মানুষকে মানুষরূপী দেখলেও অন্তরালে লালন করে পিশাচের থাবা।বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করার জন্য বিশ্বব্যাপী সুনাম আছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধনে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী ও জাতি তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে থাকে।

বাংলাদেশকে বলা হয় ধর্মপ্রাণ হৃদয়ের ভান্ডার। এখানে ধর্মহীন বা ধর্মকে কটাক্ষ কারি মানুষরূপী পশুর সংখ্যা অতি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর।

কোন এক ধর্মের অনুসারী অন্য ধর্মের কোন বিষয়ে কটাক্ষ করতে পারেনা।ধর্মহীন ছদ্দবেশী কিছু মানুষ সুকৌশলে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত করে।

ধর্ম বিদ্বেষ কারীদের উদ্দেশ্যে বলব, এদেশের মানুষ বীরের জাতি, যার প্রমাণ বিগত সময়ে দেখিয়েছেন, যার ইতিহাস বহন করে আমরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। এই ভূখণ্ডে কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় গ্রন্থ কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ জাতি হিসেবে বাংলাদেশিরা মেনে নিতে পারে না।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় যে ঘটনাটি বাংলাদেশের মানুষ দেখল এমন ঘটনা পূর্বেও ঘটেছে, এক শ্রেণীর স্বার্থন্বেষী ও ধর্মবিদ্বেষী পিশাচ একটা ঘটনাকে সামনে এনে সাধারন ধর্মপ্রাণ মানুষদেরকে উস্কে দিয়ে পেছন থেকে হাততালি দেয়, এটি কখনো কাম্য হতে পারে না। এদেশের কোন ধর্মের মানুষ এটাকে মেনে নিতে পারে না।

আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার, সেটা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের আই.ডি হ্যাক করা হচ্ছে এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন রকম উস্কানি দিয়ে বৃহত্তর জনতাকে  আন্দোলনের দিকে ধাবিত করে  ফায়দা লুটে নেয়ার একটা প্রবণতা আমাদের দেশে তৈরি হয়েছে। ফেসবুক হ্যাকিং বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সত্যিকার অর্থেই সামাজিক যোগাযোগ কিভাবে হ্যাক হচ্ছে এবং  হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করার একটা কার্যকরী আধুনিক ফর্মুলা বের করে হ্যাকারদের হ্যাকিং এর হাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারকারীদের আই.ডি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে ।

বাংলাদেশের সব ধর্মের ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি আহ্বান কোন ধর্মকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য রূপে প্রকাশ করা থেকে নিজেকে নিবৃত করুন। প্রকৃত অপরাধীকে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করার স্বার্থে আমরা সবাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা গ্রহণ করব। মনে রাখতে হবে আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়া কখনো কাম্য হতে পারে না।