দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে সমাজ পাল্টে যাবে


» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ - ০৭:৫৭:০০ অপরাহ্ন

আজ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে মানবতা যেন নির্বাসনে।আত্মকেন্দ্রীকতা আমাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে।এহন পরিস্থিতিতে মানুষের মাঝে পশুর আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে।নিজেদের লাভ বুঝলেও অন্যের ক্ষতি কামনা করার মানুষের অাধিক্য দৃশমান।পরনিন্দা, পরচর্চা আর হিংসায় সমাজ ভরে গেছে।ডিগ্রীধারী শিক্ষিত মানুষের আচরণ মূর্খের ন্যায় হয়ে গেছে।চারদিকে ফুলের সুবাস নাই। আছে হায়ানেদের নগ্ন উল্লাস।রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে নীরহ জনতা।শাসনভার গেছে মূর্খদের হাতে।শিক্ষিত সমাজ হচ্ছে লাঞ্চিত ও বঞ্চিত। কতেক মানুষ শিক্ষিত হয়েছে বটে মানুষ হতে পারেনি।তাদের কেউ মানুষ বললেও আমি তাদের মানুষরূপী শিক্ষিত শয়তান বলে অবিহিত করে থাকি। তাদের হাটতে, বসতে চিন্তা খাওয়া আর বাঁচার।

তারা সমাজের সাধারণ শ্রমজীবি মানুষদের মানুষ বলে মনে করতে চাই না। তাঁতি, কামার, কুমার, রিক্সাওয়ালাসহ শ্রমজীবী মানুষদের সাথে পশুর ন্যায় আচরণ করিতেও দ্বিধা করেনা।ঐ শিক্ষিত মানুষরূপী হায়েনাদের কে লক্ষ্য করিয়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কুলি মজুর কবিতাটি রচনা করিয়াছিল।– দেখনি সেদিন রেলে? কুলি বলে এক বাবু সাব তারে ঠেলে দিল নিচে ফেলে চোখ ফেটে এল জল এমনি করে জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল? যে দধীচিদের হাড় দিয়া বাষ্পি শকট চলে বাবুসাব এসে তাহাতে চড়িল কুলিরা পড়িল নিচে বেতন দিয়াছ? চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল। পৃথিবীর সূচনালগ্ন হতে দুটি শ্রেণির মধ্যে সংগ্রাম চলছে।যাকে দার্শনিক কালমার্কস শ্রেণি সংগ্রাম বলে অবিহিত করেছে। এক. প্রভূ শ্রেণি দুই.শ্রমিক শ্রেণি। প্রভু শ্রেণি চাহে শ্রমিক শ্রেণির উপর কতৃত্ব করতে, তাদের কথায় সমাজ পরিচালিত হোক সেটাই তাদের বাসনা।এই কারণে শ্রমিক শ্রেণি হচ্ছে শোষিত, বঞ্চিত ও লাঞ্চিত।

মালিক শ্রমিকের এই দ্বন্ধ হতে শ্রেণি সংগ্রামের জন্ম হয়েছে। নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে আজ মানবতা হারিয়ে গিেছে।আমরা রাস্তা ঘাটে চলতে দেখছি শিক্ষিত মানুষের আচরণ।বাবার বয়সী একজন রিক্সাওয়ালাকে এই রিক্সা যাবি বলে সম্মোধন করে থাকে।অথচ রিক্সাচালক তাদের বলে আপনি কোথায় যাবেন? মূর্খ তো অশিক্ষিত রিক্সাচালকের ভাষা আর শিক্ষিত মানুষের ভাষার মধ্যে এমন তফাৎ হলে চিন্তা করার সময় এসেছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কি পরিণতি। অনেক ধনী লোক বাজারে গিয়ে গরীব বৃদ্ধ লোকদের সাতে একেবারে পশুসুলভ আচরণ করে থাকে।পরিবারের খরচ যোগান দেওয়ার তাগিদে যে বৃদ্ধ লোক অল্প শাক সবজি, ফল মূল নিয়ে বাজারে এসেছে আমরা ঐ বৃদ্ধ লোকটির কাছ হতে ক্রয় করতে চাইনা।যদি ক্রয় করি তাহলে দরকষাকষি করে থাকি।অথচ আমাদের উচিত কিছু টাকা বেশি দিয়ে হলেও ঐ বৃদ্ধ গরিব লোকদের মাল গুলো ক্রয় করে নেওয়া।

আমরা সেটা না করে দরকষাকষি করতে থাকি।আমরা যখন নামকরা কোন শফিংমলে জিনিস পত্র ক্রয় করতে যাই তখন এত দরকষাকষি করে নিজেদের আত্মসম্মান নষ্ট করিনা।পাঁশত টাকার কাপড় এক হাজার টাকা বললেও দরাদরি না করে ক্রয় করে নিই।এক দামের জিনিস দরকষাকষি করলে সম্মানে আঘাত লাগবে এই ভয়ে দরকষাকষি করতে চায় না।রাস্তায় হাটতে গেলে অনে মানুষরূপী জানোয়ারের দেখা মিলে যাদের দুটি পা রয়েছে।বাহ্যিকতায় তাদের মানুষ মনে হলেও কিন্তু এদের আচরণে প্রমাণ পাবেন তারা মানুষরূপী শয়তান।অন্যের মা বোনদের তারা” মাল” বলিয়া সম্মোধন করিয়া থাকে।অথচ তারা চিন্তা করতে চায়না রাস্তা ঘাটে যেসব মেয়ে চলাচল করে থাকে তারা কারো না কারো মা,বোন বা স্ত্রী।সেই একই রকম মেয়ে আপনার ঘরে রয়েছে যারা আপনার বোন,স্ত্রী বা মা।তাহলে অন্যের বোন,স্ত্রীর বা মায়ের প্রতি কেন এমন দৃষ্টিভঙ্গি??

আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার কথা ভেবে ইসলামীক স্কলার মুফতি ফয়জুল করিম বলতে বাধ্য হয়েছেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড নয় বরং সুশিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড।সমাজে প্রতিষ্টিত শিক্ষিত ব্যক্তিদের মা বাবারা আজিকে বৃদ্ধাশ্রামে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।তাহলে শিক্ষিত হলে চলবে না বরং সুশিক্ষিত হতে হবে।সুতরাং একথা প্রমাণিত যে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে সমাজ পাল্টে যাবে।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী