দুই সিটিতে নগরবাসী কি কি সেবা পাবেন


» Sk. Zubaer Shahrier | | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ - ০৭:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন

ঢাকা দুই সিটিতে ভোট আগামী ৩০ জানুয়ারি। এই নির্বাচনে এখন চোখ বড় দুই রাজনৈতিক দলের। সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হবে এ ভোট। ইতিমধ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে তৎপরতা শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দুই সিটিতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত। বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীও অংশ নিয়েছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি। নিয়ম মেনেই প্রতীক বরাদ্ধ ও প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন প্রার্থীরা। এ নিয়ে রাজধানীতে ভোটের আনন্দে ভাসছেন ভোটাররা। সঙ্গে আছে অজানা আতঙ্ক। সর্বমহলে প্রশ্ন একটাই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তো?

রাজধানীতে নাগরিক সুবিধা প্রদানের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে সিটি করপোরেশন। সেখানে যোগ্য প্রার্থীকে নগরপিতা হিসেবে চান রাজধানীবাসী।

জানা গেছে, রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্য সিটি করপোরেশন স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার একক। একটা শিশু জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত (ডেড সার্টিফিকেট) সিটি করপোরেশন ইস্যু করে থাকে। এর মাঝে তার ব্যবসা বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে স্তরে সিটি করপোরেশনের নানা কাজ রয়েছে। নাগরিক সুবিধার তালিকা এক বাক্যে বলে শেষ করা সম্ভব নয়, তবে অনেকেই জানেন না সিটি করপোরেশন কি কি সেবা জনগণকে দিয়ে থাকে। নাগরিক সুবিধার যে বিষয়গুলো নিয়ে মানুষ দুর্ভোগ পোহায় সেগুলোই আলোচনায় আসে। বাকিগুলো আসলে মানুষের আলোচনায় আসে না।

তাই সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে নগরবাসী কি কি সেবা পাবেন তা উত্তরা নিউজের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলোঃ

সংস্থা দুটির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায় ঢাকা উত্তর সিটি (ডিএনসিসি) করপোরেশন ১৪টি খাতে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১৮টি খাতে সেবা দিয়ে থাকে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যেসব সেবার কথা জানানো হয়েছে তা হলো-

রাস্তার বৈদ্যুতিক লাইট, ডিএসসিসি হাসপাতাল সেবা, রাস্তাঘাট, নর্দমা, ফুটপাত, বাজার পরিস্কার ও সংস্কার করা।  ভস্মীকরণ সমাধির স্থান, ব্যায়ামাগার, কমিউনিটি সেন্টার, মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র, রাস্তার গাড়ি পার্কিং, এবং বাস টার্মিনাল, পাবলিক টয়লেট, পার্ক এবং খেলার মাঠ স্থাপন ও রক্ষনা-বেক্ষন করা। এছাড়া জন্ম নিবন্ধন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা, গ্রন্থাগার, সঙ্গীতাগার তৈরি করা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যেসব সেবার উল্লেখ আছে তা হলো-

রাস্তা খননের অনুমতি, নতুন হোল্ডিং নম্বর, হোল্ডিং ট্যাক্স সার্ভিস কার্যপ্রণালী, হোল্ডিংয়ের নামজারী, ডিএএমএফএ, ট্রেড লাইসেন্স ও নবায়ন পদ্ধতি, জন্ম সনদ, কবরস্থান ব্যবস্থাপনা, ধূমপান মুক্ত-করন নির্দেশিকা, যান-যন্ত্রপাতি ভাড়ার হার ও নিয়মাবলী, কমিউনিটি সেন্টার বুকিং, বহুতল ভবনের জন্য অনাপত্তিপত্র, জিআইএস ম্যাপ ক্রয়, উদ্যোক্তাদের সেবা কেন্দ্রসহ আরো নানা ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে এই সংস্থাটি।

এদিকে সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের কাজের পরিধির মধ্যে যেসব কাজের উল্লেখ রয়েছে সেগুলোর বিভিন্ন ভাগ ও উপ-ভাগ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

সিটি করপোরেশন নগরীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দায়ী থাকবে এ সম্পর্কিত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার থাকলে সেটিও গ্রহণ করতে হবে।
অস্বাস্থ্যকর ইমারতের ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ গ্রহণ, আবর্জনা অপসারণ, সংগ্রহ এবং ব্যবস্থাপনা, পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ও পর্যাপ্ত পায়খানা স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা করে। সিটি আইন অনুযায়ী, করপোরেশন নগরীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দায়ী থাকবে। এ সম্পর্কিত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার থাকলে সেটিও গ্রহণ করতে হবে। জন্ম, মৃত্যু এবং বিয়ে রেজিস্ট্রি: করপোরেশনের সীমানার মধ্যে যে সব জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে হয় সেগুলো বিধান অনুসরণ করে রেজিস্ট্রি এবং এর পরিসংখ্যান ও উপাত্ত সংগ্রহ করা।

নগরীতে সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, এর জন্য প্রয়োজনে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মাতৃসদন প্রতিষ্ঠা, নারী-শিশু-কিশোরদের জন্য কল্যাণকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা, ধাত্রী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। করপোরেশন স্বাস্থ্যমূলক শিক্ষাসহ জনস্বাস্থ্যের উন্নতির বিধান কল্পে প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর আওতায় পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়াও স্নান ও ধৌত করার স্থান, ধোপী ঘাট এবং ধোপা, সরকারি জলাধার ইত্যাদি করপোরেশন আওতাধীন। করপোরেশন নগরের অধিবাসী এবং নগরীতে আগন্তুকদের আরাম ও সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা এবং অন্যান্য যোগাযোগরে ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

এগুলো ছাড়াও সিটি করপোরেশন আইনে সব মিলিয়ে এই করপোরেশনের মোট ২৮ ধরনের কাজের উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো নাগরিকরা তাদের সুবিধার জন্য পেতে পারেন।

উল্লেখ্য, ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার তারিখ ৩১ ডিসেম্বর, যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি আর প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ১০ জানুয়ারি। পুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৮টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গঠিত। এ নির্বাচনে ১ হাজার ৩৪৯টি ভোটকেন্দ্রের ৭ হাজার ৫১৬টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এ নির্বাচনে ১ হাজার ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৫ হাজার ৯৯৮টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ ভোটার এ নির্বাচনে ভোটধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।