দুই বছরেও সড়কটির প্রসস্তকরণ কাজ শেষ হয়নি


» উত্তরা নিউজ I সারাবাংলা রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ - ১২:২৮:২১ অপরাহ্ন

নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁর মান্দা-নিয়ামতপুর-শিবপুর-পোরশা রাস্তা প্রসস্তকরণ সড়কের ৮৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৬ কিলোমিটার রাস্তার কাজ দীর্ঘ দুই বছরেও শেষ হয়নি। মাঝ পথে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে সংস্কার কাজ। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় ভরা বর্ষায় সড়কের সোলিং উঠে গিয়ে সড়ক জুড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে পানি জমেছে। ফলে সড়কে চলাচলে এলাকার মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁচেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওগাঁর মান্দা-নিয়ামতপুর-শিবপুর-পোরশার রাস্তাটি ছিল এলজিইডির আওতায়। সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল এবং দীর্ঘ এলাকাজুড়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে গত চার বছর আগে এলজিইডি থেকে সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।
এরপরই রাস্তাটি প্রশস্ত এবং পাকা জন্য ২০১৮ সালে টেন্ডার আহবান করে সওজ। কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি। সড়কটির ২৬ কিলোমিটার রাস্তায় ৩১টি কালভার্ট ও তিনটি সেতু নির্মাণ হয়। রাস্তা, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে সময়সীমা ছিল ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।
কিন্তু জুন পেরিয়ে এখন সেপ্টেম্বর। এখনও শেষ হয়নি কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদার একের পর এক অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষের নিকট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার কেবলমাত্র পূর্বের কার্পেটিং তুলে কোন রকমে রোলার দিয়ে ডলে ফেলে রাখা হয়েছে যানবাহনের চাকা ঘুরানোর জন্য। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় পড়ে থাকায় রাস্তা জুড়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহন চলাচল হয়ে পড়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
জানা গেছে, প্রায় ৬ মাস ধরে রাস্তার কাজ একদম বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে দূর্ভোগে পড়েছেন পথচারী। রাস্তার এমন বেহাল দশার অযুহাতে পরিবহন মালিকরাও দফায় দফায় ভাড়া বৃদ্ধি করছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন পথচারীরা।
জানা যায়, সড়কে কাজের ধীরগতির কারণে এলাকাবাসীর দূর্ভোগের কথা ভেবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর কাজের কিছু তোড়জোড় শুরু হলেও করোনাভাইরাসের কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায় কাজ। এরপর এখনো পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি ওই সড়কে।
এ ব্যাপারে নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এবং লকডাউনের কারণে লেবার সংকট এবং মালপত্র না পাওয়ায় ঠিকাদার ঠিকমত কাজ করতে পারেনি। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।