দলকে সুসংগঠিত করায় আমার একমাত্র লক্ষ্য: তানভীর রানা রাজিব


» উত্তরা নিউজ I সারাবাংলা রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৭:০৬:২৫ অপরাহ্ন

সম্প্রতি কথা হয় হবিগঞ্জ জেলা লাখাই উপজেলার ছাত্রদলের নিবেদিত প্রাণ মোঃ তানভীর রানা রাজিব-এর সাথে। আসন্ন ১৮ ই মার্চ মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদল লাখাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সম্মেলনে মোঃ তানভীর রানা রাজিব আহবায়ক পদপ্রার্থী। সম্মেলনকে ঘিরে লাখাই উপজেলা রাজনীতি অঙ্গনও বেশ সরগরম। সম্মেলনকে সামনে রেখে মোঃ তানভীর রানা রাজিবের সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন উত্তরা নিউজ’র লাখাই উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ (মনির উদ্দিন মনির)।

প্রতিনিধি: প্রথমেই পাঠকের উদ্দেশ্যে আপনার পরিচয়টা বলেন?
রাজীব : আমার নাম মোঃ তানভীর রানা(রাজিব)। পিতা মোঃ হাবিবুর রহমান, মাতা মোছাঃ আছমা খাতুন। গ্রাম ভাদিকারা, লাখাই-হবিগঞ্জ। জন্ম: ১৯শে অক্টোবর ১৯৯২ইং।

প্রতিনিধি : আপনার শিক্ষা জীবন সম্পর্কে যদি বলতেন?
রাজিব: আমি ২০১১ সালে ঢাকা ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছি।

প্রতিনিধি : আপনি ছাত্রদল ও বিএনপি’র রাজনীতিতে কীভাবে সম্পৃক্ত হলেন?
রাজিব : আমি জনগনের তাগিদেই ছাত্র রাজনীতিতে আসছি এবং শহীদ প্রেসিডন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারন করে ২০০৮ সালে তারেক জিয়ার মুক্তির দাবিেত ছাত্রদলের একটি মিছিলে অংশ গ্রহণের মধ্যদিয়ে আমার ছাত্রদলে সম্পৃক্ত হওয়া। সময়টা তখন ২০০৭ সাল,তৎকালিন সময়ের লাখাই উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন ভাদিকারা গ্রামের মরহুম হাজী আব্দুল হক সাহেব। তার হাত ধরেই আমি বিএনপি দলে যোগদান করি এবং পরবর্তী সময়ে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তাউছ আহমেদ আমাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেন।

প্রতিনিধি : লাখাই উপজেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে আপনার কি অবদান রয়েছে ?
রাজিব : আমি যখন থেকে ছাত্রদলে অংশ নিয়েছি তখন থেকে’ই ছাত্রদল শক্তিশালী করার লক্ষে লাখাই উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে এবং মহল্লায় ছুঁটেছি কর্মীর সন্ধানে। তাছাড়াও ২০১৪ সালে হরতাল করে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছি। গ্রেপ্তার করে আওয়ামী পুলিশের হাতে অনেক নির্যাতিত হয়েছি। দুইদিন থানায় হাজতে থেকেছি। যখন বিএনপির নাম মুখে নিতে মানুষ ভয় পেতো, হবিগজ্ঞ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বারবার নির্বাচিত নির্যাতিত মেয়র, আলহাজ্ব জি কে গউছ ভাই তখন , সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহবের হত্যার একটি মিথ্যা মামলায় জেলে বন্দী তখন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি হওয়ার পর লাখাই উপজেলা সদরে আমার নেতৃত্বে জেলা কমিটি কে স্বাগত জানিয়ে একটি আনন্দ মিছিল করেছি মিছিল শেষে ২০১৬ সালে আমাকে দ্বিতীয় বারের মতো আবারো গ্রেফতার করে নির্মমভাবে নির্যাতন করে আ.লীগের পুলিশ। সর্বপরি সকলের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে নিজেকে ছাত্রদলের একজন যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলেছি এবং আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছি। বিভিন্ন কর্মসূচী শত বাঁধা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন করেছি।

প্রতিনিধি : আপনি ছাত্র নয় তবুও কেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিতে আসতে চান?
রাজিব : আমি এখন ছাত্র না, তবে ছাত্রত্ব নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম। যারা ছাত্র তাদের জন্য কিছু করতে চাই ,আর সে জন্যই একটি প্লাটফর্ম দরকার এবং আমি বিশ্বাস করি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের সর্বোচ্চ অধিকার প্রদান করে থাকে। তাদের দাবী আদায়ের জন্য,আমি নতুন করে ভর্তি হতে পারি,কিন্তু ভর্তির চেয়ে দল কে সময় দেয়া এবং আমার নেত্রী আমাদের মা আপোষহীন দেশনেত্রী তিন বারের প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন কে বেগবান করতে নিজেকে উৎসর্গ করে আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক আসতে চাই।

প্রতিনিধি : এই সংগঠন নিয়ে আপনার স্বপ্ন লক্ষ্য কি, আপনি আহ্বায়ক নির্বাচিত হলে দলের জন্য কি করবেন?
রাজিব : ছাত্রদলের সকল সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে দেশের গনতন্ত্র ফিরেয়ে আনতে যে কর্মসূচী আসবে তা সফল ভাবে সম্পন্ন করে সকলের সহযোগিতায় সকল কে সাথে নিয়ে “দলকে সুসংগঠিত করায় আমার একমাত্র লক্ষ্য”।

প্রতিনিধি: আপনার নেত্রীর মুক্তি নিয়ে কিছু বলার আছে কি?
রাজিব: একজন ৭৫ বছর বয়সের বৃদ্ধ মা, সাবেক সফল তিন বারের প্রধানমন্ত্রী যিনি সবসময় দেশের কথা চিন্তা করেন সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন উনাকে বন্দী রেখে সরকার নৈতিক ভাবে পরাজিত হয়েছে। আমার ক্ষমতা অনুযায়ী মাকে মুক্ত করার যে সিদ্ধান্ত আসবে আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও উনাকে মুক্ত করতে এগিয়ে যাবো এবং আমি আশাকরি দেশবাসী এর শক্ত জবাবের মাধ্যমে মাকে মুক্ত করবেই। আর একটা কথা মনে রাখবেন স্বৈরাচারীদের পতন খুব বাজে ভাবে হয় যা অতীতে প্রমাণিত।

প্রতিনিধি: সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

রাজিব : আপনাকেও ধন্যবাদ।