দখলের কবলে উত্তরা ১৫ নং সেক্টরের এই লেকটি !

জড়িত স্থানীয় শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা

» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ২২ জুন ২০১৯ - ০৬:৪৪:০৯ অপরাহ্ন

মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন:  উত্তরায় সরকারী জায়গা জমিন দখলের উৎসব কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না। রাউজক ও ব্যাক্তি মালিকানার জমি দখল, ফুটপাত দখল থেকে শুরু করে যেখানেই একটু ফাকা জায়গা পাওয়া যায় সেখানটাই দখলে মেতে উঠে চিহ্নিত কিছু দখলবাজ। রাজউক ও সিটি করপোরেশন মিলে অনেক উচ্ছেদও পরিচালনা করা হয়ে থাকলেও, উচ্ছেদ কারবার শেষ হতে না হতেই আবারো বসে পড়ে দখলবাজরা।

কিন্তু কিছু কিছু দখল পরিবেশের জন্য মারাত্বক ঝুকি হয়ে দাড়ায়। তেমনি নীরব দখলের উৎসব চলছে উত্তরা ১৫ নং সেক্টরের প্রাচীন একটি জলাধার বা লেককে কেন্দ্র করে। লেকটি রাজউকের অধিগ্রহনের বাইরে থাকলেও এলাকাবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন জলাধার এটি। সম্প্রতি দেখা যায়, এই লেকটির দুই পাশ অত্যন্ত সুকৌশলে দখল হয়ে যাচ্ছে। তুরাগের চন্ডালভোগ এলাকার এই জলাধারটির পশ্চিম পাড় দখল করা হচ্ছে বালু দিয়ে একই ভাবে এটির পূর্ব পাড় রাস্তার পাশে হওয়ায় ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। আবার লেকটির উত্তর-পশ্চিম কোনাায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থাকায় সেখানের মালিক ইতিমধ্যে অনেক অংশ দখল করে নিয়েছে। তাদের দখল প্রচেষ্টাও চলমান।

এ অবস্থায় লেকটি কয়েক বছরের মাথায় ছোট একটি পুকুরে পরিনত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১২ নং সেক্টরের কবরস্থান সংলগ্ন সিটির করপোরেশনের ময়লার বাগাড় থেকে শুরু করে ১৫ নং সেক্টর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় কোয়াটার কিলোমিটার রাস্তার পাশ ঘেষে ময়লা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে লেক। সেক্টরের ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট বাগাড় থেকে দখলবাজরা টাকা দিয়ে ময়লা কিনে লেক ভরাটের জন্য ফেলছে।

দেখা যায়, রাজউকের ৩০ ফিট রোডের পশ্চিম পাশে লেকের প্রায় ৫০ ফিটের বেশী জায়গা ইতিমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিক লীগের কিছু নেতা এ দখলের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। রাস্তা ঘেষে লেকের ভরাট করা জায়গার উপর প্রায় শতাধিক স্থাপনা নির্মান করে ভাড়া দেওয়া আছে। উত্তরা ১২ নং সেক্টর কল্যান সমিতির এক নেতা জানান, লেকটি নিয়ে রাজউকের উদাসীনতা লক্ষ্য করার মতো। অনেক টাকা পঁয়সা খরচ করে রাজউক কৃত্রিম লেক বানায় অথচ প্রাচীন এ লেকটির দিকে তারা নজর দেয়না। ১৫ নং সেক্টরে অবস্থিত এ লেকটি বর্তমান নতুন সিটির দুই ওয়ার্ডের (৫২-৫৩ নং) সংযোগস্থলে অবস্থিত। তাই তাদের পক্ষেও নজরদারি বাড়ানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

তবে তারা মনে করছে বিষয়টি যেহেতু রাজউকের আওতাধীন, তাই এটি রক্ষার দায়িত্বও তাদের।