ত্রাণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর হাতে ন‌্যাস্তের প্রস্তাব


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২০ - ০৭:০৭:৫৪ অপরাহ্ন

ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। একইসঙ্গে তিনি খেটে খাওয়া-নিম্নমধ্যবিত্তের তালিকা সম্প্রসারণ করার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘যদি সরকার সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীকে এই দায়িত্ব পুরোপুরি দেয়, যেন তারা চিরুনি অভিযান করে সারা বাংলাদেশে এই তালিকাটা তৈরি করবে।’

‘এরপর থেকে যত রকমের সাহায্য, যত রকমের ত্রাণ, ভিজিএফ-ভিজিডি, ত্রাণ এবং বয়স্কভাতা সব কিছু সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে সরাসরি যদি বিতরণ করা হয় তাহলেই আজকে মানুষকে আমরা এই অবস্থা থেকে বাঁচাতে পারবো।’

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচানো যেমন আমাদের দায়িত্ব তেমনিভাবে না খেয়ে মানুষ যাতে না মরে সেটার দায়িত্ব প্রথম সরকার এবং আমাদের সবাইকে নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ত্রাণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা ও ক্ষমতাসীনদের লুটপাটের প্রসঙ্গ টেনে ব্যাপক সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।তিনি বলেন, গত ১২ বছর ধরে মেম্বার-চেয়ারম্যান যারা এসব লুটপাট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অভ্যস্ত, তাদের দিয়ে এই কাজ করা সম্ভব হবে না।

সরকার এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল তারা ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ছিলো, সেই ওএমএস বন্ধ করে দিয়েছে। এটা বন্ধ করে দিলে হবে? এই মার্কেট থেকে যারা ক্রয় করে তারা হচ্ছে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত।’

মোশাররফ বলেন, ‘আমি আগেও বলেছিলাম, যত টেস্ট করা যাবে আমাদের দেশে রোগীর সংখ্যা, আক্রান্তের সংখ্যা ততই বেশি পাওয়া যাবে। আমরা এটা অবহেলা করায় আসলে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। যে ব্যক্তিটি চিহ্নিত ছিলো সে কিন্তু অনেককে সংক্রমিত করে ফেলেছে।’

কারো কারো অবহেলার কারণে আমরা দেখছি যে, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুৎসা রটানো হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নানা রকমের মন্তব্য করা হয়। এমনকি এরইমধ্যে ৬ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা চিকিৎসক-নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর মনোবল ভেঙে দেবে। আমি আশা করি যে, তাদের প্রতি ভালো আচরণ করে তাদেরকে উৎসাহিত করে দেশপ্রেমে উদ্ধুব্ধ করে জনস্বার্থে তাদেরকে মাঠে রাখা প্রয়োজন। এজন্য যা করা প্রয়োজন তা আমাদের করতে হবে।’