তুরাগে দীর্ঘদিনের ভোগদখলী জমি বেদখলের চেষ্টা!

কার জমি কে বেঁচে?

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২০ - ০৮:০০:৫১ অপরাহ্ন

রাজউক তৃতীয় প্রকল্প উত্তরা ১৭নং সেক্টর রোড নং- ৬/সি (এক্সটেনশন), ব্লক জি-১ সংলগ্ন তুরাগ থানাধীন তাফালিয়া এলাকায় মোঃ কামাল মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী ওই ব্যক্তির নাম মোঃ আব্দুল বারেক। জানা যায়, উত্তরা সাবরেজিষ্ট্রি অফিস অধীন ঢাকা কালেক্টরীর ৯৭২০নং তৌজিভূক্ত ‘বাউনিয়া’ মৌজাস্থিত সিটি জরিপ ২৩০২৭ ও ২০৩৪১ নং দাগে মোট ৩৫৫ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন মৃত মোঃ আনসার আলী মুন্সি ও তার স্ত্রী মৃত মোসাঃ ফালানি বিবি। তাদের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে উক্ত জমির সমান অংশীদার হন মৃত মোঃ আনসার আলী মুন্সি ও স্ত্রী মৃত মোসাঃ ফালানি বিবি দম্পতির তিন কন্যা যথাক্রমে তারা বানু, গোলাপ বানু ও নূর বানু। সে মোতাবেক ওই সম্পত্তির দক্ষিণের অংশ তারা বানু, মাঝের অংশ গোলাপ বানু ও উত্তরের অংশ নূর বানু সমানভাগে ভোগদখল করে আসছিল। তারা বানুর মৃত্যুর পর তার তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে ওয়ারিশ সূত্রে তার ভোগকৃত সম্পত্তির মালিক হন।

তারা বানুর ওয়ারিশগণ জমির মালিকানা বুঝে পাওয়ার পর তাদের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের নিমিত্তে নিজেদের সম্পত্তির অংশ নানাভাবে বিক্রি করতে শুরু করে। বিক্রি করার এক পর্যায়ে মৃত তারা বানুর এর ওয়ারিশান মোঃ রফিকুল ইসলাম নূর বানুর ভাগের সম্পত্তি নিজের উল্লেখ করে মোঃ ইসহাক নামের এক ব্যক্তির নিকট বিক্রির নাম করে বায়না বাবদ সত্তর লক্ষ টাকা আদায় করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগ দখল করে আসা মোঃ আব্দুল বারেক গং জানান, রফিকুল ইসলাম পূর্বে নিজেদের ভাগের জমি বিক্রি করে আমার মা (নূর বানু) এর অংশের জায়গা নিজের উল্লেখ করে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। বিগত কয়েক বছর ধরে মোঃ রফিকুল ইসলামের পরামর্শে মোঃ ইসহাক স্থানীয় মোঃ কামাল গংকে সাথে নিয়ে জায়গাটিকে অবৈধভাবে দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা রাতের অন্ধকারে এসে আমাদের জায়গায় বাঁশের খুটি স্থাপন করে সীমানা নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে ২০১৯ সালে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা বাঁধা দিলে মোঃ কামাল গং নিজেকে বায়নাসূত্রে উক্ত জমির মালিক দাবী করে আমাকে মারধরে উদ্যত হয়, আমার ছেলেকে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি এমনকি আমাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে ওই বছরই আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করি (যার নং-৪৬৭) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করি।

ভুক্তভোগীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ (বৃহঃস্পতি বার) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিবাদী পক্ষের লোকজন বালু ফেলে জায়গাটির দখল নেয়ার চেষ্টায় রাস্তা পরিস্কার করছে। এমন সময় ওয়ারিশসূত্রে ওই জমির ভোগদখলী মালিক আব্দুল বারেক সেখানে উপস্থিত হওয়া মাত্রই অপরপক্ষের লোকজন দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। মৃত মোঃ আনসার আলী মুন্সি ও স্ত্রী মৃত মোসাঃ ফালানি বিবি দম্পতির উক্ত সম্পত্তির উত্তরের অংশে গিয়ে দেখা যায় জায়গাটির উত্তর-পশ্চিম কর্ণারের একটি অংশজুড়ে বাঁশের প্রাচীর দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ওই সীমানায় নির্মিত টিনের ঘরের সামনে অবস্থিত সাইন বোর্ডে বায়নাসূত্রে জায়গার মালিক হিসেবে মোঃ কামাল হোসেন গংয়ের নাম উল্লেখ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বায়না সূত্রে জমির মালিক দাবী করা মোঃ কামাল হোসেন গংয়ের সাথে তৎক্ষনাৎ মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সে ফোন রিসিভ করেনি। পরবর্তীতে তুরাগের বাউনিয়া এলাকায় কামাল গংয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ করলে সেখানেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, ওই জায়গাটি রফিকুল ইসলামের কাছ হতে বায়নাসূত্রে ক্রেতা দাবীকারী ব্যক্তি মোঃ ইসহাকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেয়ে ‘পরে কথা বলব’ এই বলে তিনি ফোন রেখে দেন। কিন্তু, পরবর্তীতে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। অপরদিকে, উক্ত জমি বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করলে, তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তুরাগ থানার এএসআই আশিফুর রহমানের কাছে জায়গাটির চলমান সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্য সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।’