তুরাগে ছেলেকে বাঁচাতে যাওয়া সেই মায়ের মৃত্যু


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২০ - ০৫:২২:০৫ অপরাহ্ন

গত ১৩ই মে তুরাগের চন্ডালভোগ এলাকায় বিদ্যুতের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তারে স্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া ছেলের (শান্ত) পর এবার মৃত্যুর কাছে হার মানলেন মা আনোয়ারা বেগম (৩৮)। ২৪ মে ভোরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহতকে তার গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।


ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কিত পূর্বের প্রতিবেদন


নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২৩ মে দিবাগত রাতে আকস্মিক শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ আনোয়ারা বেগমকে লাইফ সাপোর্টে প্রেরণ করে। দীর্ঘ সময় অক্সিজেনে থাকাবস্থায় ২৪ তারিখ সকালে তার মৃত্যু ঘটে।

নিহতের বড় ছেলে সাগর হোসেন উত্তরা নিউজকে জানায়, ‘আম্মু অনেকটা সুস্থ্যের পথেই চলে এসেছিল। উঠতে বসতে পারত, কথা বলাসহ অল্প অল্প খেতেও পারত।’ আবেগ জড়িত কণ্ঠে সাগর বলেন, ‘কিন্তু, হঠ্যাৎ করে আম্মুও যে এভাবে চলে যাবে ভাবতে পারিনি।’

উল্লেখ্য যে, গত ১৩ই মে তুরাগের চ-ালভোগ মেইন রোড সংলগ্ন ইসলাম মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে বিদ্যুতের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তারে আটকে পড়ে শান্ত। চিৎকার শুনে মা আনোয়ারা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন তিনিও। স্থানীয়দের চেষ্টায় আনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া গেলেও ঘটনাস্থলেই মারা যান শান্ত। শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চব্বিশ ঘন্টা চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেলে আনোয়ারা বেগমকে রেফার্ড করা হয়। সেখানেই টানা ১১ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।