Avatar এরশাদ হোসেন বিজয়
Reporter


তীব্র সঙ্কট চিকিৎসক ও নার্সকে বাড়তি চাপে রাখায় রোগীরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা






উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ ৪১৪ শয্যার জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল। অথচ ইনডোর আউটডোর মিলে প্রতিদিন রোগীর চাপ থাকে অন্তত ২ হাজার। সম্প্রতি নার্সের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও স্টাফ রয়েছে সাড়ে ৪০০।  যাদের ৩ শিফটে ভাগ হয়ে কাজ প্রতিদিন। ওয়ার্ড বয়, পিয়ন, টেকনিশিয়ানসহ সহায়ক জনশক্তির তীব্র সঙ্কট চিকিৎসক ও নার্সকে বাড়তি চাপে রাখায় রোগীরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা।

রোগীর স্বজনরা বলেন, ‘প্রয়োজনের সময় ডাক্তারকে আমরা পাই না। মাঝে মাঝে নার্স এসে খোঁজ খবর নিয়ে চলে যায়।’

এক জন নার্স বলেন, ‘২০০ থেকে ২৫০ রোগী প্রতিদিন খোঁজ-খবর নিতে হয়। লোকবল কম থাকায় এ কারণে সঠিক সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

সহকারী অধ্যাপক ডা আশরাফুল হক সিয়াম বলেন, ‘৬০ থেকে ৭০ জন রোগীর জন্য একজন ওয়ার্ডবয় একজন আয়া। তাহলে কিভাবে সব ধরনের সেবা দেয়া সম্ভব।’

চিকিৎসক ও নার্স স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় হরহামেশায় নিয়োগ পেলেও সহায়ক জনশক্তিদের নিয়োগ হয় না সেভাবে। ফলে স্বাস্থ্য সেবার অব্যবস্থাপনার দায় সহজেই পড়ে চিকিৎসক ও নার্সের ঘাড়ে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের দলবাজি, চিকিৎসকদের ক্যাডার বৈষম্যসহ নানা কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘সবাই যদি বিশেষজ্ঞ দেখাতে চায় সেক্ষেত্রে আঞ্চলিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করলে রোগীর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’

সহায়ক জনবলের সর্বাধিক সংকট  দেশের সবগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে দ্রুত সব ধরনের পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনেক জেলায় নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি নিয়োগগুলো হবে।’

অপ্রতুল দক্ষ চিকিৎসক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের লাগামহীন দুর্নীতি, উচ্চমূল্যে নিম্নমানের অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র ক্রয়সহ সর্বোপরি তীব্র জনবল সংকটের কারণেই ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যথাযথ তদারকির জন্য তাই শক্তিশালী ও বাস্তবমুখী কর্মপদ্ধতি বাস্তবায়ন জরুরী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

/এ.এইচ.বি