ঢাকা-১৮; দুধের মাছি বনাম এস এম জাহাঙ্গীর

তৃণমূলে যুবদল সভাপতির জনপ্রিয়তা বেশি, প্রপাগান্ডায় ব্যবসায়ী রাজনীতিকরা

» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ - ০৩:৩৮:৩২ অপরাহ্ন

ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে ৫৬ প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের এসব প্রার্থীরা কে কোন যোগ্যতায় দলীয় মনোনয়ন চাইছেন? এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তৃণমূলে। রাজনীতির বাইরে যারা রয়েছেন, তারা মনে করছেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া মানেই নিশ্চিত এমপি হওয়া। সাধারণ মানুষদের এমন ভাবনা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। নতুবা দু-তিন জন যোগ্য ব্যক্তির বিপরীতে মনোনয়ন প্রার্থীতার হাফ সেঞ্চুরি এখানে সবাই যে নিজেকে রাজা ভাবে; যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

যোগ্যতার বিপরীতে লোভ; আসনটি ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দুটোই কাজ করছে। এ যেন দলের টিকেট পেলেই ডিরেক্ট পার্লামেন্ট মেম্বার। এমন অভিব্যক্তি কেউ প্রকাশ্য বলে না বেড়ালেও, মনে মনে ঠিকই পুষছে। সরকার দলীয় প্রত্যাশীদের এমন ভাবনা থাকতেই পারে। কেননা, ক্ষমতার আসনে তারা। কিন্তু, বিএনপির রাজনীতিতে থেকে তাও আবার বর্তমান সরকারের অধীনের নির্বাচনে খুব সহজেই বাজিমাত করবে এমন ধারণাটা কল্পনা করা যেতে পারে ঠিকই তবে আকাশকুসুম ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনে অংশ নেওয়াটাকে কৌশল হিসেবে দেখছে। গণমাধ্যমে একাধিকবার বক্তৃতায় এ কথাটি স্পষ্টও হয়েছে। দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা একনায়কতন্ত্রে গিয়ে ঠেকেছে, বর্হিঃবিশ^কে এমনটাই দেখাতে চাইছে তারা। এর একমাত্র উপায় নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে কিভাবে সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, বিরোধী দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকদের মারধর করছে ইত্যাদি ইত্যাদি দেখাতে পারাটাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। কারণ, তারা এটা স্পষ্টই বলে থাকে যে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারেনা, আবার নির্দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই তাদের একমাত্র প্রত্যাশা। এমন দাবীর প্রেক্ষিতে বার বার বিএনপি ব্যর্থ, শেষ পর্যন্ত মার খেয়ে সরকারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে তারা।

এমন মার খাওয়া পরিস্থিতিতে ঢাকা-১৮ আসনে আসন্ন উপ-নির্বাচনে বিএনপির কিছু ব্যবসায়ী নেতাদের রোষানলের কবলে পড়েছে অত্র অঞ্চলে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এক যুবদল নেতা। বিএনপি নিশ্চয়ই নিশ্চিত পরাজয় জেনেও এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। কারণ একটাই, ক্ষমতাসীনদের অধীনে যে ব্যাপক কারচুপি তথা প্রহসনের নির্বাচন হয়, দিনের ভোট রাতে হয় মূলত এগুলোকে তুলে ধরার জন্য (এটা তাদের মন্ত্র)। নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা কথায় কথায় বলে থাকে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থীদের জয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা। কেন্দ্রীয় নেতাদের বরাবরের এমন বক্তব্যই ফুটে উঠে তৃণমূল প্রার্থীদের মুখে মুখে। এটা হচ্ছে, একটা আশার কথা। কিন্তু, দেয়ালে যাদের পিঠ ঠেকে গেছে, তারা যদি এখনও নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করে তাহলে সামনের দিনগুলো যে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যেতেই পারে। কিন্তু না, এখানে (ঢাকা-১৮ আসন, বিএনপি) সমস্যা হচ্ছে দু-একজন ব্যবসায়ী নেতা। দীর্ঘদিন অত্র অঞ্চলে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে যিনি সাড়া জাগিয়েছেন, হামলা-মামলা আর জুলুম-নিপীড়ন সত্বেও নেতাকর্মীদের মাঝে সাহস জুগিয়েছেন, এবার তার নামে নানা কুৎসা রটিয়ে দলের মনোনয়ন ভাগিয়ে নিতে চাইছে বিএনপির রাজনীতিতে জেঁকে বসা দু-একজন ব্যবসায়ী নেতা।

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তিতে এগিয়ে থাকা এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এর বিরুদ্ধে যখন নানাভাবে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে নিজ দলেরই গুটিকয়েক দুধের মাছি, তা সত্বেও নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উৎসাহ এবং দলীয় আদর্শে তীব্র মনোবল সঞ্চয় করেছেন এই নেতা। রাতদিন আসনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়, নিস্ক্রিয় কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করতে দেখা গেছে এস.এম জাহাঙ্গীরকে। গেল বছর ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখানসহ ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচারণা করতে দেখা গেছে তাকে। এবার ঢাকা-১৮ আসনে আসন্ন উপ-নির্বাচনে দল থেকে প্রার্থীতা চেয়ে ফরম কিনেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকদের মাঝে যুবদলের এই নেতাকে ঘিরে পূর্ব থেকেই বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। অত্র আসনে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীকেই প্রাধান্য দিবে বিএনপির হাই-কমান্ড, এমনটাই মনে করছেন তৃণমূল বিএনপি।