uttaranews24 uttaranews24
সবার আগে সবসময়


ঢাকায় ৫০ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্বার: মাদকচক্রের ৩ সদস্য আটক






উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর ডটকম। এস,এম,মনির হোসেন জীবন: রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড পৃথক দু’টি এলাকায় গোপনে অভিযান চালিয়ে ৮ লাখ পিস ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব-১,উত্তরার একটি দল। আটকরা হলেন- (১) তুহিন হোসেন (২৫), মোঃ সবুজ (২৬) ও মোঃ শাহ্জাহান (৩৫)। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

আজ মঙ্গলবার ভোর রাত ৬টায় ও দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক দু’টি স্থানে গোপনে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সহ ৩ মাদক ব্যবসাযীকে আটক করে এলিট ফোর্স র‌্যাব- ১ এর সদস্যরা।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর গনমাধ্যম শাখার সিনিয়র এএসপি মো: মিজানুর রহমান ভুঁইয়া আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, এলিট ফোর্স র‌্যাব-১,উত্তরার স্কোয়াড কমান্ডার (সিপিসি-১) এএসপি মো. কামরুজ্জামান আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নৌপথে ইয়াবার একটি বড় চালান ঢাকায় আসছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-১ এর একটি দল। এসময় মাদক চোরাচালান চক্রের ৩জন সক্রিয় সদস্য মো: তুহিন হোসেন (২৫), মো: সবুজ (২৬) ও মো: শাহজাহান (৩৫)কে আটক করা হয়। পরে তাদের ৩জনের কাছ থেকে ৮ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্বার করা হয়েছে। আটককৃতরা মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য । জব্দকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

এবিষয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এক প্রেসব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাবের প্রেসব্রিফিংয়ে এলিট ফোর্স র‌্যাবের আইন ও গনমাধ্যম শাখার পূখপাত্র কমান্ডার মূফতি মাহমুদ খান বক্তব্য রাখেন। এসময় র‌্যাব-১,উত্তরার কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সারওয়ার বিন কাসেম সহ র‌্যাবের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদেরকে জানান, র‌্যাব-১, উত্তরা গোয়েন্দা সূত্রে জানাতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্র মায়ানমার থেকে মধ্যরাতে নদী পথে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে পটুয়াখালী হয়ে ঢাকা আসবে। উক্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার ভোর রাত ৫টা ৫০ মিনিটের সময় র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের দুই সদস্য (১) তুহিন হোসেন (২৫), গ্রামঃ বলিয়াতলী, পোঃ ছবিপুর, থানাঃ মুলাদী, জেলাঃ বরিশাল এবং (২) মোঃ সবুজ (২৬), গ্রামঃ বলিয়াতলী, পোঃ ছবিপুর, থানাঃ মুলাদী, জেলাঃ বরিশাল’দেরকে বড়গুনা থেকে নদী পথে ঢাকায় ইয়াবা পাচারের উদ্দেশ্যে ৫ লক্ষ ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় সপ্তবর্ণা -১ নামক একটি লঞ্চ থেকে আটক করে।

সংবাদ সম্মেলনে মূফতি মাহমুদ খান জানান, পরবর্তীতে এরই সূত্র ধরে র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগ জানতে পারে যে, উক্ত সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের অপর সদস্য নাম মোঃ শাহ্জাহান (৩৫) গ্রামঃ বলিয়াতুলী, পোঃ ছবিপুর, থানাঃ মুলাদী, জেলাঃ বরিশাল বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ সড়কযোগে বরিশাল হইতে ঢাকায় গমন করার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে আনুমানিক ৩ লক্ষ ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ শাহ্জাহান (৩৫) তাকে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি গভীর সাগর থেকে উক্ত ইয়াবা ট্রলারের মাধ্যমে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে তারা সুবিধামত নদী পথে এবং স্থল পথে উক্ত ইয়াবা পাচার করতো এবং নিয়মিত তাদের রুট পরিবর্তন করতো। আর উক্ত ইয়াবার চালানটিও তদ্রƒপ সেখান থেকে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ঢাকায় পাচার করার পরিকল্পনা করে। দুইভাগে ইয়াবা পাচারের উদ্দেশ্য হলো একভাগ ধরা পড়লেও যেন অন্য ভাগ ধরা না পড়ে।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা এলিট ফোর্স র‌্যাবকে আরো জানান, তাদের ৮-১০ জন সদস্যের ১টি চক্র উক্ত চালানের সাথে জড়িত। তারা প্রায় দেড় বছর যাবৎ উক্ত ব্যবসার সাথে জড়িত এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো ঢাকায় একটি বাসায় প্রেরণ করার কথা ছিল। উক্ত বাসা থেকে ইয়াবাগুলো তাদের নিজস্ব বাহকের মাধ্যমে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার নিকট সরবরাহ করত। এছাড়া আরও জানা যায় প্রতি ৬-৭ মাস পর পর প্রতি চালানে ৫-৭ লক্ষ ইয়াবা ঢাকার উদ্দেশ্যে আনা হত। এভাবেই উক্ত সংঘবদ্ধ চক্রটি মায়ানমার থেকে উপকূল হয়ে নদী পথে অথবা বিকল্প সড়ক পথে ইয়াবাগুলো সরাসরি ঢাকায় সরবরাহ করত।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানান, ইয়াবা সড়ক পথে মায়ানমার থেকে কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় পাচার করতে হলে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। তাই মাদক পাচারকারী চক্রটি তাদের রুট পরিবর্তন করে সাগর পথে কক্সবাজার হতে পটুয়াখালী ও চাঁদপুর হয়ে ঢাকায় নিয়ে আসতো সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্যরা। ইয়াবা পরিবহন/পাচারের সাথে স্থানীয় ট্রলার মালিকদের একটি অংশ জড়িত বলে জানা যায়। সাম্প্রতিকালে চট্টগ্রাম-টেকনাফ রুটে র‌্যাবের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হওয়ায় ইয়াবা কারবারী চক্রগুলো ইয়াবা চালানের বিকল্প রুট হিসেবে সাগর পথ ও আভ্যন্তরীন নদী পথ‘কে বেঁচে নিয়েছে। এবিষয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে উত্তরা সহ পুথক দু’টি সংশ্লিষ্ট থানায় মাদক আইনে আলাদা দুইটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব সুত্রে জানা যায়, গত ৩ মে ২০১৮ তারিখ হতে দেশব্যাপী বিভিন্ন মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২০ হাজার (১৯,৩৭৯ জন) মাদক কারবারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৭৫ লক্ষাধিক (৭৫,৭৯,২৮৫ পিস) ইয়াবা ও অন্যান্য বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য উদ্বার করা হয়। যার মূল্য প্রায় চারশত পঞ্চাশ কোটি (৪৫০,২১,০২,৩৯১.০০) টাকা। এছাড়াও র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৩৭৫টি অভিযানে ৮৫৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান এবং প্রায় ১২ কোটি টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।