ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে করা প্রশ্নে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ - ১০:০৮:২২ পূর্বাহ্ন

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, শ্রম আইন, সংগঠন করার অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এলিস ওয়েলস এর কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আপনারাও এসব আইন করেছেন।’

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে  এলিস ওয়েলস এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মোমেন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘তারা আমাদের ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের কিছু ধারা নিয়ে প্রশ্ন করেছে এবং বলেছে এর ফলে মিডিয়া সংকুচিত হয়ে গেছে। এর জবাবে আমি বললাম, ‘না। ডিসিপ্লিন জীবন চাইলে কিছু নিয়ম-কানুন থাকতে হবে। আমি যদি আপনার দেশে সিনেমা হলে গিয়ে বলি আমার কাছে একটি বোমা আছে, আপনারা আমাকে সাথে সাথে গ্রেফতার করবেন।’’

তিনি বলেন, ’‘আমার এখানেও যদি কোনও লোক সোশ্যাল মিডিয়াতে চিৎকার দেয় যে ওখানে লোক মেরে ফেলছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে যদি লোকজনের অসুবিধা হয়, যেমন কয়েক দিন আগে বরিশালে হলো এগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’’

মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে জানিয়ে দেন, ’এটা আমাদের অবশ্যই প্রয়োজন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘‘এর জবাবে তারা জানিয়েছে ’এ বিষয়ে তারা আমার সঙ্গে একমত নয়।’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই আমাদের দ্বিমত থাকতে পারে কিন্তু এ আইনটি হয়েছে উন্নত জীবনের জন্য। এটি হয়েছে যাতে অপকার না হয়। এটি আপনার দেশেও আছে। আপনারাও এসব আইন করেছেন।’’

সংগঠন করার অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী সফররত প্রতিনিধি দলকে বলেন, ‘এটি ঠিক না।’

মন্ত্রী বলেন,’‘তারা বলেছে, আপনারা এখানে সংগঠন (অর্গানাইজ) করতে দেন না।’ জবাবে আমি বললাম, ‘না, এটি ঠিক না। তবে আপনাদের দেশে সংগঠন করা আরও কঠিন কাজ। আপনার দেশে যদি আমি ১০০ জনের একটি মিটিং ডাকি তাহলে আমাকে ইন্স্যুরেন্স করতে হয়, অন্তত তিনজন নিরাপত্তা রক্ষী হায়ার করতে হয় এবং তারপরে আমি মিটিং ডাকতে পারি। মিটিং ডাকার জন্য অনুমতি নিতে হয়। আমাদের এখানেও অনুমতি নিতে হয়। ইন্স্যুরেন্স বা নিরাপত্তা রক্ষী বাধ্যতামূলক এখনও করা হয়নি। সুতরাং এখানে কেউ কিছু করতে চাইলে করতে পারে, কিন্তু অনুমতি নিতে হয়।’’

শ্রম আইনগুলো শ্রমিকের জন্য সুবিধাজনক নয়-তারা এমন প্রশ্নও তোলে। এর জবাবে মন্ত্রী তাদেরকে জানান ’ এদেশে শ্রমিকের মজুরি তিন থেকে সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে। আপনারা আর কী আশা করেন?’

মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে বলেন,‘আমার অফিসারদের মজুরি ১০০ গুণ বেড়েছে। আপনাদের আমেরিকাতে জীবনে ১০০ গুণ বাড়বে? ছয় শতাংশ বাড়ে তিন বছরে। আর আমাদের এক বছরে ১০০ শতাংশ বেড়েছে।’

বাংলাদেশে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে বাধা দেওয়া হয় বৈঠকে এমন অভিযোগও তোলে যুক্তরাষ্ট্রের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি। এ তথ্য জানিয়ে নিজে যে জবাব দিয়েছেন তাও সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন। তিনি বলেন, ‘ আমি বললাম এটি একদম মিথ্যা কথা। অবশ্যই (ট্রেড ইউনিয়ন) করতে পারে। আপনারা বরং আপনাদের দেশে করতে দেন না। আপনারা তাদের আটকে দেন লেবার ইউনিয়ন করতে গেলে। কিন্তু, এখানে যে কেউ ট্রেড ইউনিয়ন করতে চাইলে করতে পারে। আমরা কাউকে আটকাই না।’

চীনা বিনিয়োগ এবং আইপিএস

এ বৈঠকে চীনা বিনিয়োগ নিয়েও জানতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি।

এ বিনিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের কোনও উদ্বেগ আছে কিনা জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের দলকে মন্ত্রী বলেন, ’একদম না।’

মন্ত্রী বলেন, ’‘তারা বললো, ‘আপনারা চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগ নিচ্ছো?’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই যারা বিনিয়োগ করতে চায় তাদের কাছ থেকে নেবো।’ তারা জিজ্ঞাসা করলো, ‘আপনারা চীন নিয়ে দুশ্চিন্ত করো কিনা?’ আমি বললাম, ‘না। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা বুঝি।’’

ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ’তারা জানতে চেয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশনে আমরা কিভাবে অংশীদার হতে পারি। বললাম, আমরা পার্টনার হতে চাই। তারা এখানে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। তারা জ্বালানি খাতে এক নম্বর বিনিয়োগকারী।’

এদিকে এলিস ওয়েলস বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, খুব গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় সেটি নিয়ে আলোচনা করেছি।

সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানে দুইদেশ একসঙ্গে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, হলি আর্টিজান বেকারির ঘটনার পরে দুদেশের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম অনেক বেড়ে গেছে। এর ফলে আমরা সন্ত্রাসী চিহ্নিত করার মতো কাজ করছি।

সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা চার কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছি এবং আলোচনা করছি কীভাবে এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন