ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা ২০২০ এ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২০ - ০৫:১৩:৩০ অপরাহ্ন

ডিজিটাল প্রযুক্তির মহাসড়ক বিনির্মাণের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা এবং পরিবর্তিত বিশ্বে নতুন সভ্যতার রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, রোবটিক্স, বিগডাটা, ব্লকচেইন ইত্যাদি। প্রযুক্তির মহাসড়ক ফাইভ জি‘র বিস্ময়কর প্রভাব প্রদর্শনে দেশে এই প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা’র। ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা জনাব সজীব আহমেদ ওয়াজেদ মেলার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার আজ বুধবার ঢাকায় বিআইসিসি‘র উইন্ডি হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা ২০২০ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সাংবাদিক সম্মেলনে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর টকিং পয়েন্ট হুবহু তুলে ধরা হলো।

(সংবাদ সম্মেলন)

আগামী ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি ডাক ও টেলিযোাগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা আয়োজন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার মহোদয়ের টকিং পয়েন্টস।
স্থান: উইন্ডি টাউন, বিআইসিসি, ঢাকা।
তাং: ১৫ জানুয়ারি ২০২০।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ
আসসালামু আলাইকুম ও শুভ সকাল।
ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমি আমার নিজের সর্বোপরি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও মেলার সাথে সম্পৃক্ত অংশীজনদের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি – কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

ডিজিটাল প্রযুক্তির মহাসড়ক বিনির্মাণের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা এবং পরিবর্তিত বিশ্বে নতুন সভ্যতার রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, রোবটিক্স, বিগডাটা, ব্লকচেইন ইত্যাদি। প্রযুক্তির মহাসড়ক ফাইভ জি‘র বিস্ময়কর প্রভাব প্রদর্শনে দেশে এই প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা’র।

ডিজিটাল প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উপযোগী মানব সম্পদ সৃষ্টি, ডিজিটাল প্রযুক্তির আধুনিক সংস্করণের সাথে জনগণের সেতুবন্ধন তৈরি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরাই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা’র অন্যতম মূল লক্ষ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির অগ্রগতি, অবস্থান এবং ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এবছরের ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি তিন দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। বাঙালি জাতির ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বছর ২০২০ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার এই আয়োজন অত্যন্ত সময়োচিত কর্মসূচি বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টায় এই মেলার উদ্বোধন করবেন।

আমার সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মাননীয় সভাপতি এ, কে, এম রহমতুল্লাহ, এমপি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব জনাব নূর-উর-রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বন্ধুগণ, ডিজিটাল বাাংলাদেশ মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার প্রযুক্তির মহাসড়ক’। ডিজিটাল সংযুক্তি হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম ভিত্তি। এ বিবেচনায় নির্বাচিত প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত প্রাসংগিক হয়েছে। আপনারা জানেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রেরণাদায়ী এক দর্শন। এই কর্মসূচি দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সোপান। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি অতীতে তিনটি শিল্প বিপ্লব মিস করায় প্রযুক্তিতে আমাদের ৩২৪ বছরের পশ্চাৎপদতা অতিক্রান্ত করে শিল্পোন্নত বিশ্বের সাথে সমান্তরালে চলার অকল্পনীয় এক মহাশক্তির উৎস – বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবার দীপ্ত অঙ্গিকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির গৌরবোজ্জ¦ল আলোকচ্ছটা গত ১১ বছরে বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইংল্যান্ড, ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের দেশে দেশে উদ্ভাসিত হয়েছে – বিশ্বের দেশে দেশে অনুকরণীয় হচ্ছে। পিতৃভূমি কেনিয়ার রূপান্তরে বাংলাদেশকে অনুসরণ করার জন্য কেনিয়াবাসিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনাব বারাক ওবামার পরামর্শ প্রদান বাংলাদেশের অগ্রগতির এক ঐতিহাসিক দলিল। বারাক ওবামার বাংলাদেশকে অনুসরণ করার এই পরামর্শ তাঁরই পূর্বসূরি সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব হেনরি কিসিঞ্জারের তলাহীন ঝুড়ি হিসেবে কটুক্তি করার কঠিন জবাব। আগামী দশ বছরে পাকিস্তানকে উন্নয়নে বাংলাদেশের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাক-প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতি পাকিস্তানি নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা বাংলাদেশকে মহিমান্বিত করেছে।

প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কর্মসূচি দিনবদলের সনদ ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি গত এগারো বছরে – পাল্টে দিয়েছে চিরচেনা বাংলাদেশ – অভাবনীয় রূপান্তর ঘটেছে মানুষের জীবনযাত্রার। অনাহার, অর্ধাহার, দারিদ্র্য এবং অনুন্নত যোগাযোগাযোগসহ অভাব আর অপ্রতুলতার মতো শব্দ গুলো আজ হারিয়ে যেতে বসেছে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই জনপদ থেকে।

সুদক্ষ কাণ্ডারির মমতাময়ী হাতের ছোঁয়ায় চিরায়ত দু:খিনী বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল – ডিজিটাল দুনিয়ার অহংকার। জাতি হিসেবে আমরা ধন্য।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আপনারা জানেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়েও টেলিকম সেক্টরসহ দেশপুনর্গঠনে যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেন। এরইধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে আইটিইউ এবং ইউপিইউ এর সদস্য পদ অর্জন করে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বঙ্গবন্ধু বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ উদ্বোধন করেন। পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এই সময়কালে কম্পিউটারের ওপর থেকে ভ্যাট ট্যাক্স প্রত্যাহার, মোবাইল ফোন সাধারণের নাগালে পৌঁছে দিতে চারটি মোবাইল অপারটেরকে লাইসেন্স প্রদান, মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পদক্ষেপ গ্রহণ, সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ গ্রহণের উদ্যোগসহ দূরদৃষ্টি সম্পন্ন যুগান্তকারি বিভিন্ন র্কমসূচি প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তিতে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্ব^র নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির পূর্ণতা অর্জিত হয়। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্বভার গ্রহণকালে বাংলাদেশের টেলিডেনসিটি ছিল ৩০ শতাংশের মত। মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত এ হার ৯৮.৪৬ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে।

২০২০ সালের মধ্যে এ-হার ১০০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৮ সালে যেখানে মোবাইল গ্রাহক ছিল ০৪ কোটি ৪৬ লক্ষ, বর্তমানে তা ১৬ কোটি অতিক্রম করেছে। ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল মাত্র ৮ লক্ষ, বর্তমানে যার সংখ্যা প্রায় দশ কোটি। ব্যান্ডউইথের ব্যবহার যেখানে ছিল ৭ দশমিক ৫ জিবিপিএস বর্তমানে তা ১৩শত জিবিপিএস অতিক্রম করেছে। সুস্থ প্রতিযোগিতা ও গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি ও টাওয়ার শেয়ারিংয়ের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আইএমইআই ডাটা সেন্টার।

৫জি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আমরা সম্পন্ন করেছি। রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে অনিবন্ধিত সিমকার্ড বিক্রি, অনুমোদনহীন মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যান্ডউইডথের সর্বনিম্ন মূল্য ৩৬০ টাকা।