ডিজিটাল কমার্স অভাবনীয় শিল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে-মোস্তাফা জব্বার


» শিপার মাহমুদ (জুম্মান) | স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা নিউজ | সর্বশেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৯ - ০৫:৫৫:১২ অপরাহ্ন

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে দেশের শোরুম বা দোকান ভিত্তিক ব্যবসা বাণিজ্য ডিজিটাল বাণিজ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে বিশেষ করে মেয়েদের জন্য ডিজিটাল কমার্স একটি অভাবনীয় শিল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ই-কমার্স বা ডিজিটাল কমার্স সেক্টরের সার্ভিক উন্নয়নে প্রণীত ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে।

মন্ত্রী ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর উদ্যোগে সংগঠনটির ৫ বছর পূর্তি এবং সদস্য সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত হওয়া উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাতে ঢাকায় বিজিবি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি শমি কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক এসএস ভদ্র, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম, সাবেক এমপি অধ্যাপিকা পান্না কায়সার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ডিজিটালাইজেশনের ফলে দেশের সবগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ডিজিটাল কমার্সের আওতায় আসার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের হাজার হাজার তরুণ – তরণী ই-কমার্সে যুক্ত হয়েছে। তারা নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই তৈরি করছে। অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ করছে। তিনি বলেন, এই খাতের চ্যালেঞ্জের জায়গাগুলো যা ছিলো তার প্রায় সবগুলোই অতিক্রান্ত হয়েছে। বড় চ্যালেঞ্জটি ছিলো পণ্য গ্রাহক পর্যায়ে নিরাপদে পৈৗঁছানো।

ডাক অধিদপ্তরের ৯হাজার ৫শত ডাকঘরে ৪৩ হাজার কর্মীবাহিনী এবং গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ডাক অধিদপ্তরের বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেটাও সফলজনকভাবে অতিক্রম করার উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেছে। সভ্যতার বিকাশের প্রথম স্তরগুলোতে পিছিয়ে থাকায় প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত এগারো বছরে শতশত বছরের পশ্চাৎপদতা অতিক্রম করে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। আমরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ পাচ্ছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন দৃশ্যমান।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় দূরদৃষ্টি সম্পন্ন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের বিস্ময়কর চিন্তার ফসল। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই ধারণা পর্যায় ক্রমে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র এবং ২০১৬ সালের পর সারা পৃথিবীতে বিস্তার লাভ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমদানিকারকের দেশ থেকে বাংলাদেশ ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে উন্নীত হয়েছে।

পৃথিবীর ৮০টি দেশে সফটওয়্যারসহ আইওটি ডিভাইস রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। দেশে মোট চাহিদার শতকরা ৫০ভাগ মোবাইল উৎপাদন হচ্ছে। নাইজেরিয়া ও নেপালসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ল্যাপটপ রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রতিটি উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের গত এগারো বছরের অভাবনীয় অর্জন সম্ভব হয়েছে। মন্ত্রী গ্রাহক সন্তুষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রানের বিষয়টি ই-ক্যাব কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, গ্রাহক সন্তুষ্ট না থাকলে ব্যবসা শোরুম বা এনালগ পদ্ধতি কিংবা ডিজিটাল পদ্ধতিতেই করা হোক না কেন ব্যবসার সফলতা আসবে না।

ক্রেতা বা ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা করতে পারলে মানুষ ডিজিটাল ব্যবসার প্রতি প্রচলিত ব্যবসার চেয়ে অনেক বেশী আস্থা রাখতে পারে। এই ব্যাপারে আইনগত কাঠামো তৈরিতে সহযোগিতাসহ ডিজিটাল কমার্স বিকাশে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে সরকার বদ্ধপরিকর, বলেন মন্ত্রী। ই-ক্যব সদসরা গ্রাহকদের সাথে যাতে কোন প্রকার প্রতারণা করতে না পারে, গ্রাহক সন্তষ্টি যাতে নিশ্চিত করা যায় এক্ষেত্রে ই-ক্যাবকে ভূমিকা রাখতে হবে বলে তাদের স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী। ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।