শিপার মাহমুদ (জুম্মান) শিপার মাহমুদ (জুম্মান)
স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা নিউজ


ডিএমপি’র নতুন প্রধান শফিকুল ইসলাম






গেল সপ্তাহের পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

১৯৬২ সালের ৩০ অক্টোবর জন্ম নেয়া নতুন ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম মো. শওকত আলী ও মায়ের নাম বেগম সুফিয়া খাতুন। শিক্ষাজীবনে শফিকুল ইসলাম আলমডাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাগ্রিকালচার বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার ডিগ্রি লাভ করেন। শফিকুল ইসলাম অষ্টম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। শুরুতে তিনি এএসপি হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, খাগড়াছড়ি জেলা ও মৌলভীবাজার জেলায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পুলিশ সুপার হিসেবে ৭ এপিবিএন-পটুয়াখালী জেলা, ২ এপিবিএন-সুনামগঞ্জ জেলা, কুমিল্লা জেলায় তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। শফিকুল ইসলামের সহধর্মিণী খাদিজাতুল কুবরা গৃহিণী। তিনি সাবিহা শ্রাবন্তী ইসলাম ও সুরাইয়া শেমন্তী ইসলাম নামে দুই কন্যাসন্তানের জনক।

ইতিপূর্বে শফিকুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ কমিশনার হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে অবদান রাখেন। অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে তিনি ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ এবং ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট ঢাকায় যোগদান করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ মে সিআইডির প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। কর্মক্ষেত্রে স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পর পর দুইবার বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বিপিএম পদক লাভ করেন। চাকরিজীবনে তিনি বুনিয়াদি কোর্স, ওরিয়েন্টেশন কোর্সসহ দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূণ কোর্স সম্পন্ন করেন।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। বিএনপি শাসনামলে তাকে দেশের দুর্গম এলাকায় শাস্তিমূলক বদলি দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে পদে দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হয়। সরকারের কাছে ‘ক্লিন ইমেজের’ অফিসার হিসেবে তার বেশ সুনাম রয়েছে। তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি থাকায় ঢাকার সব জেলায় ইতিবাচক পরিস্থিতি রেখেছিলেন। ‘ক্লিন ইমেজ’ ও ‘ডেকোরেটেড অফিসার’ হিসেবে কমিশনারের পদের জন্য তিনি আগে থেকেই এগিয়ে ছিলেন।