ডিএনসিসি নির্বাচনে ৪৭ নং ওয়ার্ডে তুমুল জনপ্রিয় কাউন্সিলর প্রার্থী মাইনুল ইসলাম

-ইব্রাহিম হোসেন তারেক

» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২০ - ০৩:১৮:৫৭ অপরাহ্ন

আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উত্তরের ৪৭ নং ওয়ার্ডে তুমুল জনপ্রিয় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর নাম জনাব মো. মাইনুল ইসলাম (মনিম)। তিনি এলাকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা। ৪৭ নং ওয়ার্ডের ফায়দাবাদে তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। তিনি উচ্চ শিক্ষিত, উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং কঠোর পরিশ্রমী। তিনি ছেলেবেলা থেকে  স্বভাবগতভাবে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য নিজ উদ্যোগে কাজ করে আসছেন। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। বাচ্চাদের একটি স্কুলে তিনি ইংরেজি পড়ান। পেশাগতভাবে শিক্ষক হলেও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ করা তার নেশা এবং ভালোলাগা। তাই জনপ্রতিনিধি না হওয়া সত্ত্বেও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ তার কাছে ছুটে আসেন আর তিনিও তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুতগতিতে পদক্ষেপ নেন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।

৪৭ নং ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। তিনি এ সমস্যা প্রায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া তিনি আরও নানাবিধ সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন এবং বর্তমানেও করেন। যেমন-  ময়লা-আবর্জনা, অপরিষ্কার রাস্তাঘাট, রাস্তায় পর্যাপ্ত লাইটিং-এর  অভাব, পয়োনিষ্কাশন সমস্যা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, রাস্তায় ডাস্টবিন  স্থাপন করা, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা, শীতবস্ত্র বিতরণ করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যা, রাস্তাঘাট মেরামত, রক্তদান কর্মসূচি, অসুস্থ মানুষের সেবা করা,  শিক্ষাদীক্ষায় পৃষ্ঠপোষকতা করাসহ শিক্ষা-উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা।

এসব সমাজকল্যাণমূলক কাজ করবার জন্য মাইনুল ইসলাম এখন ৪৭ নং ওয়ার্ডের সকল জনগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক মুখ। তার নিজের কখনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবার ইচ্ছে ছিল না। তিনি মূলত, এলাকার মানুষের অনুরোধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেল- তারা বলছেন যে, তাদের জন্য এ-রকমই একজন জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন যিনি সব সময় তাদের পাশে থাকবেন এবং তাদের সমস্যা নিয়ে কাজ করবেন।

জনাব মাইনুল ইসলামের সাথে দৈনিক উত্তরা নিউজ-এর সরাসরি কথা বলবার সুযোগ হয়েছিল। সেই কথোপকথনের অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

 

দৈনিক উত্তরা নিউজঃ আপনি কেন রাজনীতিতে আসলেন?

মাইনুল ইসলামঃ আসলে রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তটা আমার না। আমি যেহেতু সমাজ-উন্নয়নমূলক কাজ করি, সেহেতু এলাকার লোকজন চেয়েছেন আমি যেন রাজনীতিতে আসি এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি, তাই তারা আমাকে অনুরোধ করেছেন এবং তাদের অনুরোধ রক্ষার্থেই আমি  নির্বাচন করছি।

 

দৈনিক উত্তরা নিউজঃ রাজনীতিতে না এসেও তো জনকল্যাণমূলক কাজ করা যায়। জনকল্যাণমূলক কাজ করবার জন্য রাজনীতিতে আসাটা কি খুবই জরুরি?                           

মাইনুল ইসলামঃ খুব ভালো একটি প্রশ্ন। জনকল্যাণমূলক কাজ করতে হলে জনপ্রতিনিধি হবার কোনো বিকল্প নেই। কেননা আমি যখন ব্যক্তিগতভাবে সমাজকল্যাণমূলক বা উন্নয়নমূলক কাজ করব, তখন আমার কাজের পরিধি খুবই ছোট থাকবে।  আমি একজন ব্যক্তি, আমার সকল সক্ষমতা সীমাবদ্ধ বা ক্ষুদ্র। কিন্তু আমি যখন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হব, তখন আমি সরকারের একটি পার্ট হয়ে যাব।  সে-ক্ষেত্রে সরকারের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রশাসনিক সহযোগিতাসহ সবকিছু আমার সাথে থাকবে এবং আমার কাজের পরিধি অনেক বড় হয়ে যাবে। অর্থাৎ, আমি যদি বৃহৎ আকারে জনকল্যাণমূলক কাজ করতে চাই, তাহলে আমাকে অবশ্যই জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হতে হবে।

 

দৈনিক উত্তরা নিউজঃ আপনি আপনার জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

মাইনুল ইসলামঃ আমি শতভাগ আশাবাদী- ইনশা আল্লাহ আমি জয়ী হব।    

 

দৈনিক উত্তরা নিউজঃ আপনি কেন অন্য প্রার্থীদের তুলনায় নিজেকে বেশি যোগ্য মনে করেন?

মাইনুল ইসলামঃ  আসলে এ প্রশ্নের উত্তর জনগণই ভালো দিতে পারবেন। তারপরও আমি মনে হয়, কিছু কারণ বলতে পারি। প্রথমত, আমি অনেক আগে থেকে এলাকায় কাজ করি। দ্বিতীয়ত, জনগণের সাথে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। জনপ্রতিনিধি না হয়েও জনসম্পৃক্ততা আমার অনেক বেশি। এলাকায় কোন সমস্যা হলে আমি সব সময় সবার আগে সেই সমস্যাটা নিয়ে চিন্তা করি এবং সেই সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করি। অবশ্য জনগণ ও আমার সাথে থাকে। আমি জনগণকে পাশে নিয়ে আমার যতটুকু সাধ্য আছে ততটুকু সাধ্য ব্যয় করে আবার অনেক সময় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে সকল সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করি। সর্বোপরি মানুষের সুখে দুঃখে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি।  মানুষের সাথে আমার যে সম্পর্ক, সেটা আত্মার সম্পর্ক,  হৃদয়ের সম্পর্ক। এই যে-সম্পর্ক বা এই যে-বন্ধন,  এই বন্ধনের কারণেই মানুষ আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।

  

দৈনিক উত্তরা নিউজঃ নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা অনেক ওয়াদা করেন বা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন কিন্তু নির্বাচনের পরে তা সবই ভুলে যান। এ ব্যাপারে আপনি কি বলবেন?  

মাইনুল ইসলামঃ আপনার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু এই প্রশ্নটার উত্তর  দেবার উপযুক্ত সময় এখন নয়; এ প্রশ্নের উত্তর দেবার উপযুক্ত সময় হচ্ছে নির্বাচনের পর। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে আমি নিজেকে ‘নেতা’ বা ‘জনপ্রতিনিধি’ এই দু’টির কোনোটিই ভাবব না।  আজও আমি নিজেকে একজন কর্মী মনে করি, যদি নির্বাচিত  হতে পারি, আল্লাহ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে তখনও আমি নিজেকে একজন কর্মীই মনে করব এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাব।  আজ একটি কথাই শুধু বলতে চাই- আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে আমার অফিস হবে রাস্তায়। মানুষ আমাকে খুঁজবে না, আমি মানুষকে খুঁজব। আপনারা শুধু দোয়া করবেন- আল্লাহ যেন ৪৭ নং ওয়ার্ডের জনগণের মনের আশা পূরণ করেন।            

দৈনিক উত্তরা নিউজঃ আপনি যদি নির্বাচিত হতে পারেন, তাহলে গতানুগতিক যে-সমস্ত কাজকর্ম রয়েছে, সেগুলো তো অবশ্যই করবেন, পাশাপাশি আপনার কাজে কোন নতুনত্ব বা বিশেষত্ব আপনি রাখবেন কি?

মাইনুল ইসলামঃ অবশ্যই। আমার কিছু বিশেষ বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। আল্লাহ যদি সেই সুযোগ দেন,  তাহলে সেগুলো আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব এবং সে-সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশা আল্লাহ। আমি যেহেতু একজন শিক্ষক, সেহেতু আমার কাজে সব থেকে বড় বিশেষত্ব হবে শিক্ষাখাতকে নিয়ে। প্রথমত, আমি মাতৃভাষা বাংলা শেখা তথা শুদ্ধ চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্ব আরোপ করব এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করব। দ্বিতীয়ত, ইংরেজি ভাষাটা শেখার জন্যও আমি পদক্ষেপ নেব, বিশেষ করে বাচ্চারা যাতে শিশুকাল থেকেই ভালো ইংরেজি শিখতে পারে আমি সেই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কারণ মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা শেখাটাও খুব জরুরি, কেননা বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে হলে ইংরেজি ভাষা জানা প্রয়োজন।পেশাগত জীবনে উন্নতির জন্যও  ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হবার কোন বিকল্প নেই।

 

দৈনিক উত্তরা নিউজঃ জনাব মাইনুল ইসলাম, উত্তরা নিউজকে সময় দেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।  আমাদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।

মাইনুল ইসলামঃ উত্তরা নিউজকেও ধন্যবাদ।  আমি উত্তরা নিউজ-এর অধিকতর সাফল্য ও জনপ্রিয়তা কামনা করছি।