ডিএনসিসির ৯২ স্থাপনায় মিললো এডিস মশার লার্ভা


» Masud Rana | | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২০ - ০৬:৫৫:১৮ অপরাহ্ন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতা অভিযানের দ্বিতীয় দফায় চতুর্থ দিনে ১৩ হাজার ৫৮০টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শনে মোট ৯২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এ সময় ৮ হাজার ৪৭টি স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ২২টি মামলায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৩১০ টাকা জরিমানা করা হয়।

গত ৪ জুলাই ১০ দিনব্যাপী শুরু হওয়া চিরুনি অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ১৮৬টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন ইত্যাদি পরিদর্শন করে মোট ৩৬৭টিতে এডিসের লার্ভা এবং ৩২ হাজার ৫১৪টিতে এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ চারদিনে ৭০টি মামলায় মোট ৮ লাখ ২ হাজার ১০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীতে ডিএনসিসির ৫৪ ওয়ার্ডে একযোগে দ্বিতীয় দফায় চতুর্থ দিন এ বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উত্তরা অঞ্চলে (অঞ্চল-১) মোট এক হাজার ১১৫টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৩টিতে এডিস মশার লার্ভা লার্ভা পাওয়া গেলে ৩টি মামলায় মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৮৩৪টি স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে।

মিরপুর অঞ্চলে (অঞ্চল-২) মোট ২ হাজার ৭৯৭টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৪০৮টি স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৪টি মামলায় মোট ৬৫ হাজার ৮১০ টাকা জরিমানা করা হয়।

মহাখালী অঞ্চলে (অঞ্চল-৩) মোট ১ হাজার ৫৬৭টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩৩টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া এক হাজার ৫টি স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ সময় এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৫টি মামলায় ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মিরপুর-১০ অঞ্চলে (অঞ্চল-৪) মোট এক হাজার ৫২৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩টিতে এডিস মশার লার্ভা লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৭৬০টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

কারওয়ান বাজার অঞ্চলে (অঞ্চল-৫) মোট ২ হাজার ২৮৪টি বাড়ি বা স্থাপনা পরিদর্শন করে ১১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ সময়ে ৩টি মামলায় মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ১ হাজার ৭৮১টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

হরিরামপুর অঞ্চলে (অঞ্চল-৬) মোট এক হাজার ৪২৭টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৪টিতে এডিস মশার লার্ভা লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া এক হাজার ১৩৩টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ সময় এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ২টি মামলায় ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

দক্ষিণখান অঞ্চলে (অঞ্চল-৭) মোট ৯২১টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ৬৮৬টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

উত্তরখান অঞ্চলে (অঞ্চল-৮) মোট ৭৯১টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩টি স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। তবে ৫৬৬টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

ভাটারা অঞ্চলে (অঞ্চল-৯) মোট ৪৮৬টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া  যায়। বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ৩১৯টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

সাতারকুল অঞ্চলে (অঞ্চল-১০) মোট ৬৬৮টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ৫৫৫টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

উল্লেখিত সব সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক কীটনাশক ছিটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে এবিষয়ে পরবর্তীতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ডিএনসিসির চিরুনি অভিযান আগামীকালও অব্যাহত থাকবে।