মিরপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত


» শিপার মাহমুদ (জুম্মান) | স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা নিউজ | সর্বশেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২১ - ০৬:৩৩:০২ অপরাহ্ন

রাজধানীর মিরপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অভিযান অব্যাহত আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া মিরপুর সেকশন-১১ এর এভিনিউ-৩ এর ৪ নম্বর সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ আজও পরিচালিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল দশটায় এই অভিযান শুরু হয়।

ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল ২) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম সফিউল আজম এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এই উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই উচ্ছেদ অভিযানে ৪ নম্বর সড়কের দুই পাশে প্রায় শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। উল্লেখ্য, গতকাল প্রায় চার শতাধিক স্থায়ী, অস্থায়ী, ভাসমান স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। গতকালের মত আজও ডিএনসিসি মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানস্থলে উপস্থিত থেকে অভিযানে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪৯ বছর যাবৎ এই রাস্তাটি অবৈধ দখলদারদের হাতে ছিল। অনেকবার চেষ্টা করার পরেও দখলমুক্ত করা যায়নি। যে সড়কটি আমরা দখলমুক্ত করলাম, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এখান থেকে এয়ারপোর্ট হয়ে উত্তরার দিকে যাওয়ার জন্য একটিমাত্র সড়ক ছিল, কালশী সড়ক। কালশীর সাথে সাথে এখানে আরেকটি প্যারালাল রোড হতে চলছে। এটি সর্বোচ্চ ৭৫ ফিট এবং সর্বনিম্ন ৬০ ফুট চওড়া হবে। উচ্ছেদ শেষ করার পরে আমরা এখানে মার্কিং করে দেবো। মিরপুর ১১ নম্বর বাস স্ট্যান্ড থেকে এটি দুই কিলোমিটার সড়ক হবে। আগামীকালও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।

মেয়র আরো বলেন, এখন সময় হয়েছে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হওয়ার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দুর্নীতি এবং অবৈধ দখলদারদের জন্য জিরো টলারেন্স। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ঢাকা শহর উপহার দেওয়ার জন্য, নাগরিকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য, যা যা করা দরকার সবকিছুই করা হবে।

দখলদারদের হুঁশিয়ার করে মেয়র বলেন, “যারা অবৈধভাবে জায়গা দখল করে আছেন, তারা দয়া করে নিজেরা সরে যান। তাদেরকে আমি কোন ধরনের নোটিস দেবো না। আমি যাব এবং অবৈধ দখল ভেঙ্গে দেব”।

উচ্ছেদ অভিযান সফল করায় আতিকুল ইসলাম সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে বলেন, “ধন্যবাদ জানাই এই এলাকার জনগণকে, তারা সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন সম্পুর্ন সমর্থন দিয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলরবৃন্দ আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অভিযানে সর্বোচ্চ সহায়তা করেছে”। তিনি আরো বলেন, “অনেকেই বলেন, যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা দখল করে রাখেন। কিন্তু এখানে আমরা একেবারেই ভিন্ন চিত্র দেখেছি। এখানে তারা বরং সহায়তা করেছে”।

উচ্ছেদ অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রউফ নান্নু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।