ঠাকুরগাঁওয়ে ছেলেকে মারধরের কারণ জানতে গিয়ে হামলার শিকার পুরো পরিবার!


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৯:৪২:৪৭ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে রাতের আঁধারে ছেলেকে মারধরের কারণ জানতে গিয়ে পুরো পরিবারের সদস্যরা প্রতিপক্ষের ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলার শিকার পরিবারের ৬ সদস্য বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী কাশিডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আসলাম জুয়েল।এছাড়াও তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ-খবর নেন।

আহতরা হলেন- রশিদুল ইসলাম ওরফে বুধু মেম্বার (৬০), তার স্ত্রী রোকেয়া খাতুন (৫৫), ছেলে আ: সালাম (৩০), বৌমা রুবিতা (৩২), বৌমা রিনা (২৭) ও নাতনি কাজল (১৪)। এছাড়াও আহত আরও ৩জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন।

আহত বুধু মেম্বারের মেজো ছেলে আবুল কালাম আজাদ জানান, গত বছরের জুলাই মাসের ১ তারিখে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে আমাদের বাসায় ডাকাতি করে সংঘবদ্ধ চক্রটি। সে সময় আমার ব্যবসায়িক টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে তারা। এদের মধ্যে কয়েকজনকে আমি চিনে ফেলি এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। বর্তমানে সেই মামলাটি পিবিআইয়ে তদন্তাধীন রয়েছে।

ইতিমধ্যে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী রাতে আমার ছোট ভাই আ: সালাম আমার ব্যবসায়িক টাকা-পয়সা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চক্রটি তার উপরও হামলা চালিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে তাকে ফেলে চলে যায়। পরে তার আত্মচিৎকারে পরিবারের লোকেরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে আমার বাবা বুধু মেম্বার সালামকে মারধরের কারণ জানতে চাচাতো ভাই সৌরভ (২২)কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে বাবুল (৪৩), রব্বানী (৪৮), এসা (৪৪), আজগর (৪০), মন্টু (২৮), আশরাফুল ইসলাম মংলু (৩২) সকলের পিতা মৃত- খেলাফত উদ্দিন এবং বাবুলের ছেলে হুমায়ুন (২৬), রব্বানীর ছেলে শাহাজাহান (২৫) ও তাদের স্ত্রীরা সকলে মিলে রামদা, রড, কাস্তে, ক্রিকেট খেলার ব্যাড দিয়ে আমাদের পরিবারের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। এসময় মহিলারা এলোপাতারি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।এদের মধ্যে মন্টু (২৮) ও আশরাফুল ইসলাম মংলু (৩২) সেই ডাকাতি মামলার অন্যতম আসামী।

তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় উপায় না পেয়ে ৯৯৯-এ কল দিলে বালিযাডাঙ্গী থানা থেকে এসআই রাশেদুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু তারা এতোই বেপরোয়া যে পুলিশের সামনেই হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বুধু মেম্বার জানান, আমার ছেলেকে রাতের আঁধারে কেন মারধর করেছে এটা জানতে গিয়েই এ হামলার শিকার আমরা। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মন্টু মারপিটে ৬ জনকে হাসপাতালে প্রেরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি সেসময় বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। উল্টো তারাই আমার ভাইয়ের উপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে।

এ বিষয়ে জানতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা চেয়ারম্যান আসলাম জুয়েলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছি। তিনি বলেন, বাবুল-রব্বানী গং বয়স্ক মানুষদের উপর হামলা চালানো ঠিক করেনি। আমি তাদের পূর্বে বিষয়টি নিরসনে শালিস বৈঠকের বন্দোবস্ত করেছিলাম, এরই মধ্যে এ ঘটনা। তারপরও তাদের বলেছি বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে, তা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান হেলাল জানান, মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেওয়া হয় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।