ঠাকুরগাঁওয়ের চাঞ্চল্যকর শিশু নুপুর হত্যার মূল আসামী গ্রেফতার!


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২০ - ০৩:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ  ঠাকুরগাঁওয়ের চাঞ্চল্যকর শিশু নুপুর (৮) হত্যা মামলার মূল আসামীকে গ্রেফতার করেছে ঠাকুরগাঁও শহর ফাড়ি পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানান, শহর ফাড়ি পুলিশের পরিদর্শক জিয়ারুল ইসলাম।
জিয়ারুল ইসলাম জানান, গত (১৯ মার্চ) বৃহস্পতিবার শিশু নুপুরের লাশ ঠাকুরগাঁও সত্যপীর ব্রীজের ডিসি পার্ক (২নং গেট) সংলগ্ন জঙ্গলের গর্তে মাটি চাপা অবস্থায় পাওয়া যায়।

এর আসামী ধরতে পুলিশ মরিয়া হয়ে ওঠে। নজর রাখা হয় ওই এলাকায় আড্ডা দেওয়া ব্যক্তিদের উপর। সন্দেহ ভাজনদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরই মাঝে সন্দেহ ভাজন ঠাকুরগাঁও নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া (শুখানপুকুর) এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে(১৬) কয়েকদফা থানায় ডেকেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

অবশেষে সোমবার রাতে তাকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। জিয়ারুল ইসলাম জানান, স্বীকারোক্তিতে জাহিদ জানায়, সেদিন ডিসি পার্কে শিশু নুপুরকে একা দেখলে তার ভেতর যৌন লালসার সৃষ্টি হয়। এসময় জাহিদ তাকে ধর্ষণের জন্য ধস্তাধস্তি করে। কিন্তু শিশু নুপুর তাকে চিনতে পেরে বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে বলে দিবে বলে চিৎকার করে। ভয়ে জাহিদ নুপুরের স্কাফ দিয়ে গলায় পেচিয়ে হত্যা করে ও পাশে থাকা গর্তে পুতে রেখে হাল্কা মাটি ও আমের ডাল দিয়ে ঢেকে দেয়।

এদিকে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় শহর ফাড়ি পুলিশের পরিদর্শক জিয়ারুল ইসলাম মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জাহিদকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-২৩।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত (১৯মার্চ) বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ের সত্যপীর ব্রীজ নামক এলাকায় ডিসি পার্ক (২ নং গেট) সংলগ্ন জঙ্গলের গর্তে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ২য় শ্রেণিতে পড়ুয়া নুপুর নামে নিখোঁজ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে গর্তের মাটি সরিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নুপুর (৮) পঞ্চগড় জেলার হারুনুর রশিদের মেয়ে। গত দুই মাস থেকে ফকিরপাড়া এলাকার জনাব আলীর বাসায় ভাড়া আছেন তারা। হারুনুর রশিদ একজন রিক্সাচালক। দুপুরে বাসা থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু নুপুর। এরপর বিভিন্ন জায়গাতে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া না গেলে পরিবারের স্বজনেরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে।