উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


ট্রাম্পের মুখে হাসি, কথায় বিরোধ






ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিন রোববার জোটের নেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জোর দিয়ে বলেছেন তার সঙ্গে জোট নেতাদের কোনো মতবিরোধ নেই, সবার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে। তবে এর ঘন্টাখানেক পরেই পুরো চিত্রটি উল্টে গেছে। চীন থেকে ইরান, উত্তর কোরিয়া আর রাশিয়া ইস্যুতে জোট নেতাদের বিপরীত মেরুতে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

চলতি বছর এমন সময় জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বৈশ্বিকভাবে অর্থনৈতিক গতিপ্রবাহ নিম্মমুখীর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন ঐক্যের অভাবও দেখা দিয়েছে।

রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প টুইটে বলেছিলেন, ‘ফ্রান্সে আসার আগে ভুয়া ও বিরক্তিকর সংবাদগুলোতে বলা হয়েছিল জি-৭ এর বাকী ছয়টি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ উত্তেজনার যাচ্ছে এবং দুদিনের বৈঠক হবে বিপর্যয়কর। ভালো, আমরা অত্যন্ত চমৎকার বৈঠক করেছি, নেতারা নিজেরাও বেশ ভালো করছেন এবং আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ভালো করছে-যা বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে!’

তবে সেই উত্তেজনার পারদ একটু পরেই চড়তে দেখা গেছে। ফ্রান্সের বাস্ক উপকূলের অবকাশযাপন কেন্দ্রে বৈঠকের শুরুতেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, যারা শুল্ককে সমর্থন দিচ্ছেন তারা ‘বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নিম্মমুখী করার ঝুঁকির দায় নিচ্ছেন।’

পরে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পে কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, চীনের সঙ্গে তার বাণিজ্য যুদ্ধ প্রশমনে মিত্ররা চাপ দিয়েছে কিনা। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি তারা বাণিজ্য যুদ্ধকে সম্মান করে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বৈঠকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব করেছিলেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ম্যাক্রন চাইলে নিজের উদ্যোগে এটি করতে পারেন। তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয় নি।

উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় জোটের সদস্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের উদ্বেগকেও পাত্তা দেন নি। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে আবে জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাতিসংঘের প্রস্তাবের লঙ্ঘন। অথচ একটু পরই ট্রাম্প বলেছেন, এই পরীক্ষায় কোনো চুক্তির লঙ্ঘন হয় নি এবং অন্যরা যেভাবে পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়াও সেই সীমায় থেকে পরীক্ষা চালিয়েছে।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়ায় আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে জি-৮ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কার করে জি-৭ হয়। রাশিয়াকে জোটে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্প বরাবরই আগ্রহ দেখিয়ে এসেছেন। তবে এবারও জোটের নেতারা ট্রাম্পের এই আগ্রহে খুব একটা সাড়া দেখান নি।

উত্তরা নিউজ/এস,এম,জেড