টিপিপি’তে যোগ দিতে পারে চীন


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২০ - ০১:১৮:২৯ অপরাহ্ন

এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অংশীদারত্বমূলক বাণিজ্য চুক্তি ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বা টিপিপি’তে যোগ দিতে পারে চীন। গত শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজেই এ কথা জানিয়েছেন।

এদিন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফোরামের (এপেক) এক ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনে যোগ দিয়ে টিপিপিতে যোগ দেয়ার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি। বহুল আলোচিত এ চুক্তিতে যোগ দেয়ার বিষয়ে এটাই প্রথমবার মুখ খুললেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

জিনপিং বলেন, ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদারিত্বের জন্য বিস্তৃত এবং প্রগতিশীল চুক্তিতে (সিপিটিপিপি) যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক বিবেচনা করবে চীন।

এশিয়া অঞ্চলে চীন তাদের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়াতে কতটা সচেষ্ট, চীনা প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যে তার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেল। কিছুদিন আগেই ১৫টি দেশ নিয়ে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে সই করেছে চীন। এবার টিপিপিতে যুক্ত হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

এশিয়া অঞ্চলের এ দু’টি বৃহৎ অর্থনৈতিক চুক্তির একটিতেও নেই যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এ অঞ্চলে চীনের একচ্ছত্র প্রভাব আরও বাড়তে চলেছে; বিপরীতে, সুযোগ কমছে যুক্তরাষ্ট্রের।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগেই ২০১৫ সালে ১২টি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় বহুল আলোচিত ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ চুক্তি। তবে ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছর পরেই এটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে টিপিপি। তবে বাকি দেশগুলোর আগ্রহে কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রোগ্রেসিভ এগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বা সিপিটিপিপি নামে কোনওরকমে টিকে থাকে চুক্তিটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এ চুক্তিতে সই করা বাকি ১১টি দেশ হচ্ছে- অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ব্রুনেই, কানাডা, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম।

চুক্তি অনুসারে টিপিপি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। চীন এতে অংশ নিলে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সৃদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শি জিনপিং বলেন, আমাদের অবশ্যই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মূল ভিত্তি অনুসারে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে বরাবরের মতো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে। অবাধ এবং উন্মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রচার করতে হবে। অর্থনৈতিক বিশ্বায়নকে আরও উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সুষম এবং সবার জন্য উপকারী করতে হবে। আঞ্চলিক অর্থনীতি একত্রীকরণে সবার অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।