টিএসসিতে নাগরিক পরিষদের মানববন্ধনে পুলিশের বাধা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৬:৩৬:০৯ অপরাহ্ন

আবরার ফাহাদ ছাত্রাবাস, আবরার ফাহাদ স্বরণী, বিচার-ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে টিএসসিতে নাগরিক পরিষদের মানববন্ধনে পুলিশের বাধা

আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রোববার বিকাল ৩:৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি রাজু ভাস্কর্যে নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে আবরার ফাহাদের নামে বুয়েটে ছাত্রবাস নির্মাণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের মধ্যবর্তী রাস্তার নাম আবরার স্বরণী করা, আবরার হত্যার বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন শুরুর প্রাক্কালে পুলিশি বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়।

এ বিষয়ে নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, সীমান্ত হত্যার বিরোধী নাসির আব্দুল্লাহর অবস্থানকে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন শুরু করার প্রাক্কালে সাদা পোশাকে ওয়াকিটকি হাতে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘চারিদিক থেকে আপনাদের ঘিরে রাখা হয়েছে। নাগরিক পরিষদকে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হবে না। আপনারা এখনই এখান থেকে চলে যান বলে চারিদিকে পুলিশি ঘেরাওয়ের দিকে ইঙ্গিত করেন।’

এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, “আজ আমরা দাবি করতে এসেছি আবরার ফাহাদের নামে বুয়েটে ছাত্রবাস নির্মাণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের মধ্যবর্তী রাস্তার নাম আবরার স্বরণী করা, আবরার হত্যার বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আবরার হত্যার বিচার যেন সাগর-রুনি হত্যা মামলার মত তালবাহানায় পরিণত না হয়। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে শহীদ আবরার ফাহাদকে “জাতীয় বীর” খেতাব দিতে হবে। হাসিনা-মোদী চুক্তি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী দাসত্বের খত। স্বাধীনতা ও সাবভৌমত্ব বিরোধী সকল চুক্তি বাতিলই আবরার হত্যার বিচার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের মধ্যবর্তী সড়কের নাম “আবরার স্বরণী” করতে হবে। অমিত সাহার কক্ষে আবরার ফাহাদকে খুন করায় ঐ কক্ষকে “আবরার গ্যালারী”তে রূপান্তর করতে হবে। প্রতিরক্ষা গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাবে এবং এদেশের প্রতিরক্ষা কাঠামো যৌক্তিকতা হারাবে যদি ভারতের রাডার বাংলাদেশের সীমানায় বসানো হয়। রাডার বসানো ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের চুক্তি বাতিল করে সরকারকে দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হতে হবে”।

তিনি আরো বলেন, “ফেনী নদীর পানির অধিকার একমাত্র এদেশের মানুষের। এ নদীর শতভাগ মালিকানা বাংলাদেশের। সুপেয় পানির অভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম নগরবাসী দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করছে। প্রতি লিটার বোতলজাত পানি ২০ টাকা দরে কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে। ফেনী নদীর সুপেয় পানি ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে সরবরাহ করে এ যন্ত্রণা থেকে রেহাই দিতে হবে। ফেনী নদীর পানি ভারতকে দিলে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ কৃষি উৎপাদন, মৎস্য ও প্রাণিজ আমিষ বঞ্চিত হবে। জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। খাগড়াছড়ি, ফেনী, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকা, ভূ-প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে ভারতের সাথে ফেনী নদীর দেয়ার চুক্তি বাতিল করতে হবে”।

তিনি বলেন, “আবরারের শহীদি চেতনায় উজ্জীবিত যুব সমাজের উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর হামলাকারীদের বিচার করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের টর্চারসেল বন্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বপরিবারে দেখা করার পরের দিন আবরার ফাহাদের ছোট ভাই ঢাকা কলেজ ছেড়ে যাওয়ায় জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে”।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোঃ হারুন অর রশিদ খান, নাগরিক পরিষদের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা জাতীয় শিল্পী নুরুন্নেছা শান্তা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের মহানগর নেতা নুরুল ইসলাম বিপ্লব, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশিদ, পিডিপির কেন্দ্রীয় মাকসুদ আলম চৌধুরী প্রমুখ।