টানা পাঁচদিন অনশন ; নরসিংদীতে পাটকল শ্রমিকরা পাচ্ছেনা আশ্বাস সুরাহা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২০ - ০৫:০৯:৪৬ অপরাহ্ন

নতুন বছরেও হাসি নেই নরসিংদী ইউএমসি জুটমিল শ্রমিকদের।তাদের কান্না আর বাঁচার আকুতি মিল গেট এলাকার বাতাস ক্রমে ভারি হয়ে উঠছে। দাবি একটাই মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরি দেওয়াসহ ১১ দফা বাস্তবায়ন করা হউক।বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন শ্রমিকরা। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে শ্রমিক নেতারা ১৪ ডিসেম্বর স্থগিত করে পাটকল শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়। দাবি পূরণে শ্রমিকরা গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় পুনরায় তারা আন্দোলনে নামে।
তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাতভর অনশন স্থলে অবস্থান করেন শ্রমিকরা। অনশনে অংশ নিয়ে দু’দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনজন শ্রমিক। টানা পাঁচদিনের মতো আন্দোলন চললেও মেলেনি কোনো আশ্বাস। তাই হতাশ এখানকার শ্রমিকরা।নরসিংদী পাটকল মিলের শ্রমিক সুরুজ মিয়া বলেন, এই মিলে কাজ করে খাই। আজ কতদিন হল না খেয়ে, অনাহারে অনশনে আছি। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। কলেজে ভর্তি করিয়েছি। টাকার জন্য পরীক্ষা দেওয়াতে পারি নাই। এর চেয়ে কষ্ট, আর কী হতে পারে? দয়া করে, এই দেশের সরকারকে একটু বলেন, আমাদের দিকে তাঁকাতে। খুশির দিন আর আমাদের মধ্যে নাই। ঘরে চাল নেই। সন্তানদের শীতের কাপড় নেই। পরনের জুতা নাই।আমরা সরকারের সহযোগীতা চাই।আমাদের ১১ দফা দাবীর বাস্তবায়ন চাই। বলতে গিয়ে তিনি অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে সুরুজ মিয়া আরও বলেন, সন্তানরা আমাকে বলে, দেখ বাবা, আমার বন্ধুরা কত আনন্দ উল্লাস করে। তুমি আমাদের কাপড়ই দিতে পারো না। আমারে কিছু দাও। কিন্তু কোন উত্তর দিতে পারি না। তার চোখের জল আর আর্তনাদের কথাশুনে আমরন অনশন মঞ্চের সবাই কেঁদে ফেলেন।অপর শ্রমিক নাসির  বলেন, মেয়েটা স্কুলের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে স্কুলে ভর্তি করতে হবে। পকেটে টাকা নাই। তাই মেয়ের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না। এসময় সিবিএ, নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের নেতাদেরসহ মিলের শত শত শ্রমিক অংশ নেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমৃত্যু ঘরে ফিরবেন না বলেও ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।